কলকাতা লিগকে কেন্দ্র করে ঐতিহ্যবাহী হাওড়া ইউনিয়নের নয়া জার্সির আত্মপ্রকাশ ঘটল ।

হাওড়া ইউনিয়নের জার্সি উদ্বোধন
শেষ আপডেট: 5 July 2025 15:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাওড়া ইউনিয়ন। শতাব্দী প্রাচীন এই নামটির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নানা ইতিহাস, ঐতিহ্য। কলকাতার বাইরের দল হলেও হাওড়া জেলার এই ক্লাব কলকাতা লিগে অন্যতম শক্তিশালী দল হিসাবে পরিচিত ছিল। কিন্তু গঙ্গা দিয়ে জল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে হাওড়া ইউনিয়নও তার গরিমা কিছুটা হলেও হারিয়েছে। তবে এবার আবার কোমর বেঁধে নেমে পড়েছেন ক্লাব কর্তারা। চাইছেন, ফিরে আসুক পুরনো ঐতিহ্য। আবার কলকাতা ময়দানে শক্তিশালী দল হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করুক এই ক্লাব।
কলকাতা লিগকে কেন্দ্র করে ঐতিহ্যবাহী হাওড়া ইউনিয়নের নয়া জার্সির আত্মপ্রকাশ ঘটল (Howrah Union unveils Kolkata league jersey)। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেছেন ক্লাবের কিংবদন্তি কর্তা প্রয়াত আদিনাথ দের পুত্র অনির্বাণ দে। তিনি জানিয়েছেন, এই সবে শুরু, তাঁরা ধীরে ধীরে ক্লাব ঘিরে নানা কর্মকাণ্ড সংগঠিত করবেন।
হাওড়া ইউনিয়নের নতুন জার্সি খুবই উজ্জ্বল। এই অনুষ্ঠানে ক্লাবের দুই নামী প্রাক্তন ফুটবলারকে সংবর্ধিত করা হয়েছে। ছিলেন দিকপাল ফুটবলার ও বিখ্যাত কোচ জহর দাস ও সমীর চৌধুরী। দু’জনেই নয়া প্রজন্মকে ফুটবলের প্রতি উৎসাহ দান করেছেন।
জহর দাস বলেছেন, “আইএসএলে বাংলার ফুটবলারদের প্রাধান্য দেওয়া হলে আরও আকর্ষণীয় হতো। কিন্তু আমাদের ছেলেদের ৯০ মিনিট খেলার মতো দম নেই, যে কারণে তাদের প্রতি ভরসা নেই ক্লাবের কর্তাদের। কারণ বহু ফুটবলারকে সংসার চালানোর জন্য খেপ ফুটবল খেলতে হয়।”
সমীর চৌধুরী শিক্ষার্থী ফুটবলারদের তাদের কোচ ও অফিসিয়ালদের শ্রদ্ধা ও সম্মান করতে বলেছেন। ফুটবল মাঠ যে প্রকৃত মানুষ তৈরির কারখানা, সেই কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন।
১৯২২ সালে হাওড়া আমতায় এই ক্লাবের জন্ম। শতাব্দিপ্রাচীন এই ক্লাবটি এমন একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান যা যুগযুগ ধরে তারকাদের উত্থানের মঞ্চ হিসেবে কাজ করে এসেছে। ফুটবলে যেমন শৈলেন মান্না থেকে শুরু করে অরুণ ঘোষ, অশোক চট্টোপাধ্যায়, এমএ সাত্তার, প্রণব গঙ্গোপাধ্যায়, জহর দাস, পি কান্নন, শিবাজী বন্দ্যোপাধ্যায়, শিশির ঘোষ, অতনু ভট্টাচার্যরা এই ক্লাবে খেলেই বড় দলে সই করেছিলেন। কোচ হয়েছেন অমল দত্ত, অরুণ সিনহা, সাহু মেওয়ালাল, বাবু মানিরা।
ক্রিকেটে সম্বরণ বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজু মুখোপাধ্যায়দের উত্তরণও হাওড়া ইউনিয়নের হাত ধরেই। তারপরে গৌতম সোম (জুনিয়র), এমনকী পি সেন ট্রফিতে আরপি সিং ও সুরেশ রায়নাও এই ক্লাবের জার্সি পরে খেলেছিলেন।
হাওড়া ইউনিয়ন এমন একটি ক্লাব, যেখানে চারটি বিভাগের অ্যাকাডেমি সমানভাবে চলছে। ফুটবল, ক্রিকেট, হকি ও ভলিবল। অতীতের সেই ধারা বজায় রাখার চেষ্টা করছেন বর্তমান প্রশাসনের কর্তারা। ২০০৪ সালে হাওড়া ইউনিয়ন পরিচালিত ক্রিকেট অ্যাকাডেমির সূত্রপাত করেন সৈয়দ কিরমানি। মোট ১০০ শিক্ষার্থীকে নিয়ে পথচলা শুরু হয়েছিল। সেই অ্যাকাডেমি এখনও চলছে তাঁবুর পাশেই।
ক্লাবের এই মুহর্তে যিনি শীর্ষ কর্তা অনির্বাণ দে জানিয়েছেন, ‘‘একটা সময় সবাই জানত, হাওড়া ইউনিয়নে শৈলেন মান্না খেলেছিলেন, জিতেছিল স্ট্যাফোর্ড কাপ। কিন্তু আমাদের ক্লাবের ইতিহাস দেখলে এই দুটি ঘটনা ছাড়াও বহু বিষয় স্মরণীয় হয়ে রয়েছে।’’
হাওড়া ইউনিয়নের সঙ্গেই একই ছত্রছায়ায় রয়েছে হাওড়া টাউন এবং মিলনচক্র ক্লাব। দুটি ক্লাবেরই সচিব পদে রয়েছেন অনির্বাণ দে। হাওড়া ইউনিয়নে দীর্ঘদিন সভাপতি ছিলেন শিল্পপতি রুসি মোদী। সম্প্রতি তিনবছর আগেই ক্লাবের শতবর্ষ পালন হয়েছে। অনুষ্ঠানে ডাকটিকিট প্রকাশ করেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়সহ নানা ব্যক্তিত্ব।