গতরাতে বিলবাওয়ের ময়দানে ম্যান ইউয়ের বিরুদ্ধে ৪২ মিনিটের মাথায় পেপে সারের বাড়ানো ক্রস থেকে গোল করেন জনসন। দলের রক্ষণ দুর্ভেদ্য হয়ে উঠলেও ম্যাচের নায়ক সেই একজন, যিনি চলতি মরশুমে টটেনহ্যামের হয়ে সাকুল্যে ১৮ গোল করেছেন।

ব্রেনান জনসন
শেষ আপডেট: 22 May 2025 17:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে আর্সেনালের বিরুদ্ধে নর্থ লন্ডন ডার্বি হেরে যায় টটেনহ্যাম। আর ওই ম্যাচের ভিলেন হিসেবে সমর্থকেরা নিশানা করেন ব্রেনান জনসনকে। তরুণ ফুটবলার। ওয়েলসের নাগরিক। সমাজমাধ্যমে বিদ্রূপ, গালিগালাজ সহজে হজম হয়নি। বাধ্য হয়ে ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেন।
গতকাল রাতে ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে ইউরোপা কাপের ফাইনালে দলের একমাত্র ও জয়সূচক গোল করে সেই টটেনহ্যাম সমর্থকদেরই নয়নের মণি হয়ে উঠেছেন জনসন। ১৭ বছর বাদে কোনও মেজর ট্রফি জিতেছে লন্ডনের ক্লাব। যারা চার বছর আগে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে উঠেও খালি হাতে ফিরেছিল। ১৯৮৪ সালে শেষবার কোনও ইউরোপীয় খেতাব হাতে আসে টটেনহ্যামের।
ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে ইউরোপা লিগ জয় টটেনহ্যামের ইতিহাসে আক্ষরিক অর্থে অভূতপূর্ব। প্রথমত, ভাল খেলেও ফাইনালে হেরে যাওয়ার ভূত বরাবর পিছু ধাওয়া করেছে। সেই আতঙ্ক কিছুটা হলেও দূর করলেন জনসন। দ্বিতীয়ত, হ্যারি কেনের মতো তারকা দল ছাড়ার পর টটেনহ্যাম খুঁজছিল একজন নায়ককে। যে শুধু ‘পোস্টার বয়’ নয়, টিমের ইতিহাসে নাম লেখাবে। তৃতীয়ত, এ বছর টটেনহ্যাম প্রিমিয়ার লিগের রেস ১৭তম স্থানে শেষ করেছে। ঘরোয়া মরশুমের এই দুঃস্বপ্ন পুষিয়ে দিল ইউরোপীয় খেতাব জয়।
গতরাতে বিলবাওয়ের ময়দানে ম্যান ইউয়ের বিরুদ্ধে ৪২ মিনিটের মাথায় পেপে সারের বাড়ানো ক্রস থেকে গোল করেন জনসন। দলের রক্ষণ দুর্ভেদ্য হয়ে উঠলেও ম্যাচের নায়ক সেই একজন, যিনি চলতি মরশুমে টটেনহ্যামের হয়ে সাকুল্যে ১৮ গোল করেছেন। দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা! আর্সেনাল ম্যাচে খলনায়ক হওয়ার যন্ত্রণা মিটিয়ে গোল করেন পরের সপ্তাহে, কভেন্ট্রি সিটির বিরুদ্ধে।
আসলে দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার পর পালটা আঘাত হানাটা জনসনের জন্মগত! নটিংহ্যামে বেড়ে ওঠা এই তরুণ ফুটবলারের বাবা জামাইকান। মা ওয়েলসের নাগরিক। সিনিয়র লেভেলে ফুটবল খেলা শুরু করেন ফরেস্ট টিমে। সেখানকার অ্যাকাডেমি থেকেই উঠে আসা। পরে লিঙ্কন সিটিতে লোনে যান। শারীরিকভাবে শক্তসমর্থ হয়ে ওঠেন।
এরপরই ডাক আসে প্রিমিয়ার লিগ থেকে। প্রায় ৪৮ মিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে সই করায় টটেনহ্যাম। কিন্তু চলতি বছরের গোরায় কাফ মাসলে চোট পান। কিন্তু ফিরে এসে খেলে যান পুরনো ছন্দে। হ্যারি কেনের ফাঁকা আসন পূর্ণ করা সহজ ছিল না। কিন্তু ধারাবাহিকতা দেখিয়ে স্বাভাবিক ছন্দে ফুটবল খেলেছেন জনসন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তরুণ ওয়েলস ফুটবলারের আসল শক্তি ক্ষিপ্র গতি এবং শারীরিক শক্তি। নেমেছেন বাইশের বিশ্বকাপ, ওয়েলসের হয়ে। আপাতত হিংসা মুছে সমর্থকদের ভালবাসা কুড়িয়ে স্বপ্নের নায়ক হয়ে উঠেছেন ব্রেনান জনসন।