রোনাল্ডো বহুবার বলেছেন, জর্জিনা তাঁর জীবনের কঠিন সময়ে সবচেয়ে বড় সহায়। ২০২২ সালে সদ্যোজাত সন্তান হারানোর ট্র্যাজেডি থেকে শুরু করে কেরিয়ারের ওঠাপড়া—সবেতেই প্রেয়সীকে পাশে পেয়েছেন সিআরসেভেন।

জর্জিনা-রোনাল্ডো
শেষ আপডেট: 12 August 2025 11:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আট বছরের সঙ্গিনী থেকে বাকি জীবনের সহধর্মিণী। গতকালের বাগদানের পর এবার থেকে এই নতুন সমীকরণ মেনেই এগোবে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো (Cristiano Ronaldo) ও জর্জিনা রদ্রিগেজের (Georgina Rodríguez) জীবন। ‘সম্পর্ক’ বদলে গিয়েছে ‘দাম্পত্যে’। ইঙ্গিত নয়, সরবে ঘোষণা করেছেন জর্জিনা নিজে। তাঁকে দামি হিরের আংটি পরিয়ে দেন রোনাল্ডো। রাখেন বিবাহপ্রস্তাব। আর্জিতে না করে কার সাধ্যি! জর্জিনাও লাজুক মুখে বলেই ফেলেছেন ‘ইয়েস’। তারপর পর্দার আড়ালের কিস্যাটুকু গোপন রেখে ইনস্টাগ্রামে স্রেফ শেয়ার করেছেন আসল ‘তথ্যটুকু’—৮ বছরের সম্পর্ক পেরিয়ে অবশেষে বাগদান। পোস্ট করেছেন একটি ছবি। আঙুলে ঝলমলে হিরের আংটি। ক্যাপশনে লেখা: ‘হ্যাঁ, আমি রাজি। এই জীবনে, পরের জীবনেও!’
কিন্তু এই জর্জিনা আসলে কে? কোথা থেকে উঠে এসে তিনি রোনাল্ডোর জীবনের ধ্রুবতারা হয়ে উঠলেন?
জন্মসূত্রে স্পেনীয়। বেড়ে ওঠা ছোট শহর হাকা-য়। আল্পসের কাছে এই শান্ত জনপদে কেটেছে শৈশব। বাবা আর্জেন্তিনার নাগরিক, মা স্পেনের। বাবা চেয়েছিলেন ফুটবলার হতে। কিন্তু বুট পায়ে খুব বেশি আলো ছড়াতে পারেননি। মধ্যবিত্ত সংসার। ছোটবেলা থেকেই নাচ ও ফ্যাশনের প্রতি ঝোঁক ছিল জর্জিনার। কিন্তু টাকাপয়সার টানাটানিতে সেভাবে সুযোগ পাননি।
বয়স একটু বাড়তেই তিনি চলে যান মাদ্রিদ। উদ্দেশ্য—ফ্যাশন দুনিয়ায় পা রাখা। শুরুটা হয় সাদামাটাভাবে। তারপর নিজের জায়গা গুছিয়ে নেন। যোগ দেন ‘গুচ্চি’-র মতো নামকরা ব্র্যান্ডের একটি আউটলেটের সেলস অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে। বেতন সামান্য হলেও স্বপ্ন বড়। তাই কাজ এবং হাল—কোনওটাই না ছেড়ে পরিশ্রম করে যান। আর এই দোকানেই ২০১৬ সালে প্রথমবার রোনাল্ডোর সঙ্গে সাক্ষাৎ!
সেদিন পর্তুগিজ তারকা দোকানে এসেছিলেন কেনাকাটা করতে। তখন তিনি রিয়াল মাদ্রিদের স্তম্ভ, কেরিয়ারের সেরা ফর্মে! অন্যদিকে জর্জিনা দোকানের সামান্য কর্মী—গ্রাহকদের জিনিসপত্রের রকমসকম বুঝিয়ে দিচ্ছেন। তখনই রোনাল্ডোর সঙ্গে চোখাচোখি, কিছু সংকেত আদানপ্রদান—সেখান থেকেই গল্পের শুরু। পরে এক ফ্যাশন ইভেন্টে আবার দেখা। ধীরে ধীরে জমে ওঠে ঘনিষ্ঠতা।
রোনাল্ডোর ব্যক্তিগত জীবন বরাবরই মিডিয়ার নজরে থেকেছে। তবু জর্জিনাকে নিয়ে প্রেমজীবনের শুরুটা ছিল নীরব। দুজনের দেখাসাক্ষাৎ শুরু হল। কিন্তু গোপনে। ২০১৭ সালে কোল আলো করে এল প্রথম সন্তান আলানা মার্টিনার জন্ম। এর আগে তিন সন্তান—ক্রিস্টিয়ানো জুনিয়র ও জমজ ইভা-মাতেও—যাদের মায়ের পরিচয় গোপন রেখেছেন রোনাল্ডো। জর্জিনা কিন্তু কাউকে আড়াল করেননি। সেই তিন শিশুকেও নিজের সন্তানের মতোই বড় করেছেন।
চাইলেই থাকতে পারতেন ‘তারকা ফুটবলারের প্রেমিকা’ হয়ে। কিন্তু জর্জিনা সেই রাস্তা বেছে নেননি। নিজের জায়গা নিজের হাতে গড়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিপুল অনুগামী। ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ার সংখ্যা কোটিরও বেশি। মডেল হিসেবে কাজ করেছেন, বড় ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনে মুখ হয়েছেন। নেটফ্লিক্সে তাঁর জীবনের উপর নির্মিত রিয়েলিটি শো ‘আই অ্যাম জর্জিনা’ আরও স্পটলাইটে এনেছে। সেখানে ফুটে উঠেছে জমকালো জীবনযাপন। পাশাপাশি নিবিড় পারিবারিক বাঁধনও।
তবে এই সম্পর্কের মূল শক্তি শুধু আড়ম্বর নয়। রোনাল্ডো বহুবার বলেছেন, জর্জিনা তাঁর জীবনের কঠিন সময়ে সবচেয়ে বড় সহায়। ২০২২ সালে সদ্যোজাত সন্তান হারানোর ট্র্যাজেডি থেকে শুরু করে কেরিয়ারের ওঠাপড়া—সবেতেই প্রেয়সীকে পাশে পেয়েছেন সিআরসেভেন।
এখন ৮ বছরের সম্পর্ক পেরিয়ে অবশেষে বাগদান। একজন সাধারণ ‘সেলস গার্ল’ থেকে ময়দানের মহাতারকার সহধর্মিণী—জর্জিনার যাত্রা যেন রূপকথার মতো। এই গল্পে শুধু ভাগ্য নয়, আছে ধৈর্য, আছে বিশ্বাস, আছে ভালোবাসা। রোনাল্ডোর পাশে দাঁড়িয়ে জর্জিনা প্রমাণ করেছেন—তারকার আলোয় থেকেও নিজের আদত পরিচয় গড়ে তোলা সম্ভব!