বহু মাইল দূরে স্বভূমিতে বসে এই জয়ধ্বনি, উল্লাস কি শুনতে পাচ্ছেন মহম্মদ রশিদ?

রশিদের জার্সি নিয়ে মাঠে ইস্টবেঙ্গলের উচ্ছ্বাস
শেষ আপডেট: 18 August 2025 15:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যুবভারতী আজ রেঙেছে লাল-হলুদে। ‘জয় ইস্টবেঙ্গল’ ধ্বনিতে মুখর গোটা স্টেডিয়াম তথা শহর তিলোত্তমা। বহু মাইল দূরে বসে এই জয়ধ্বনি, উল্লাস কি শুনতে পাচ্ছেন মহম্মদ রশিদ? এই জয় তো তার নামেই উৎসর্গ করেছে দল, তার সমর্থকরা।
মোহনবাগানকে ২-১ গোলে হারানোর পর রশিদের জার্সি নিয়ে মাঠে ইস্টবেঙ্গলের উচ্ছ্বাস ছিল আজকের অন্যতম সেরা মুহূর্ত। বহুদিন পর সর্বভারতীয় ট্রফিতে মোহনবাগানকে হারিয়েছে ইস্টবেঙ্গল।
চারিদিকে বারুদের গন্ধ, মুহুর্মুহু বিস্ফোরণের শব্দ, একের পর এক কাছের লোকরা চলে যাচ্ছেন, রশিদ বেঁচে আছেন ফুটবলকে নিয়ে। কোনও কিছুই তাঁকে তার লক্ষ্য থেকে টলাতে পারেনি। প্যালেস্তাইনের রশিদ, মাত্র এক মাস আগে পা রেখেছিলেন লাল-হলুদ শিবিরে। এসেই নিজের দুর্দান্ত পারফরমেন্স দিয়ে মন জয় করে নিয়েছেন ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের।

এই ম্যাচে যেখানে তাঁর ওপর অনেকটা ভরসা ছিল দলের, সেখানেই জীবনের মোক্ষম এক চালে রশিদের জীবনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গত শুক্রবার বাবা মারা গিয়েছেন। খেলা হল না ডার্বি, কোচ এবং দলের কথা মেনে ফিরতে হয়েছে স্বভূমিতে।
তবে ‘স্পোর্টসম্যান স্পিরিট’ বোধ হয় একেই বলে। এই মুহূর্তে নিজের দিকে দেখার সময় নেই তাঁর। দেশে ফিরে যাওয়ার আগে একটাই অনুরোধ ছিল তাঁর, তাঁর এই শোকের ছায়ার আঁচ যেন না নেমে আসে মাঠে। আর সেইখানেই জিতে গিয়েছেন লড়াকু রশিদ।
খেলার মাঠে না থাকতে পারলেও মিশে রইলেন গোটা শহরের জয়ধ্বনিতে। এই জেতা যেন কোথাও মিশিয়ে দিল ভারত-প্যালেস্তাইনের মাটিকে। আর জয় উৎসর্গ করা হল রশিদ এবং তাঁর সদ্য প্রয়াত বাবাকে।
রবিবাসরীয় ডার্বিতে তিনি না থাকলেও, আজ গোটা দেশ রশিদময়। যুদ্ধবিধ্বস্ত মাটিতে বসে এই জয়ধ্বনি শুনতে কি পাচ্ছেন রশিদ?