এই জয়ের সুবাদে সেনেগাল তাদের দ্বিতীয় আফ্রিকা কাপ জিতল। শেষ চার সংস্করণে তিনবার ফাইনাল খেলার নজিরও গড়েছে তারা।

সেনেগাল সমর্থকদের উচ্ছ্বাস
শেষ আপডেট: 21 January 2026 14:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘আফকন’ জয়ের পরদিনই রাজধানী ডাকারে কার্যত উৎসবের শহর। মরক্কোকে ঘরের মাঠে হারিয়ে কাপ জেতা দলকে নিয়ে মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাস্তায় নেমে পড়েন হাজার হাজার মানুষ। হুড-খোলা বাসে ট্রফি হাতে শহর পরিক্রমা, সাত ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বিজয় মিছিল। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যায় তা পৌঁছয় রাষ্ট্রপতি ভবনে।
প্রেসিডেন্ট বাসিরু দিয়োমায়ে ফায়ে (Bassirou Diomaye Faye) দলকে অভিনন্দন জানান। বলেন, ‘অসাধারণ লড়াই, দৃঢ় মানসিকতা আর ইস্পাতকঠিন ইচ্ছাশক্তি দেখিয়েছ তোমরা। এই কারণেই এই জয় ঐতিহাসিক।’ তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, শুধু ট্রফি জেতা নয়, কঠিন পরিস্থিতিতে মাথা ঠান্ডা রেখে ম্যাচ শেষ সেনেগালকে আলাদা করে তুলেছে।
রাজপথে সাত ঘণ্টার উৎসব
খোলা বাসে ট্রফি উঁচিয়ে শহর প্রদক্ষিণ করে সেনেগালের ফুটবল দল। রাস্তার দু’ধারে মানুষের ঢল। গাড়ির হর্ন, ভুভুজেলা, ঢাক-ঢোল—সব মিলিয়ে জমে ওঠে বিচিত্র শব্দের মিছিল! কোথাও মানুষ দৌড়ে বাসের সঙ্গে তাল মিলিয়েছে, কোথাও ছাদ বা বিলবোর্ডে উঠে দাঁড়িয়ে দেখেছে প্রিয় দলকে।
বুরগিবা এলাকা থেকে শুরু হয়ে মিছিল পৌঁছয় রাষ্ট্রপতি ভবনে। ভিড়ের মধ্যে ছিলেন তরুণ থেকে শিশু—সব বয়সের মানুষ। একজন সমর্থক দৌদু থিয়াম (Doudou Thiam) খুশি চেপে না রেখে বলে দেন, ‘এই মুহূর্ত কোনও কিছুর বিনিময়ে মিস করা যেত না। লায়ন্স অব তেরাঙ্গা আমাদের গর্ব।’
বিতর্কের মধ্যেও জয়ের সিলমোহর
রবিবারের ফাইনাল নাটকীয়তায় ঠাসা। ম্যাচের শেষদিকে মরক্কোর পেনাল্টির সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যান সেনেগালের খেলোয়াড়রা। পরিস্থিতি সামলান সাদিও মানে (Sadio Mane)। তাঁর অনুরোধেই টিম ফের মাঠে নামে। এরপর ব্রাহিম দিয়াজের (Brahim Diaz) প্যানেঙ্কা পেনাল্টি সহজেই ঠেকিয়ে দেন সেনেগালের গোলকিপার। অতিরিক্ত সময়ে পাপে গুয়ের (Pape Gueye) জোরালো শটে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়।
মরক্কোর ফুটবল ফেডারেশন ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বিষয়টি আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন ও ফিফার কাছে পাঠিয়েছে। তবে সেনেগালের বিজয়-উচ্ছ্বাসে সেই বিতর্কের কোনও ছাপ ছিল না।
পুরস্কার, সম্মান ও ভবিষ্যতের বার্তা
রাষ্ট্রপতি ফায়ে প্রত্যেক খেলোয়াড়কে ৭৫ মিলিয়ন সিএফএ ফ্রাঁ এবং সেনেগালের জনপ্রিয় পেতিত কোত এলাকায় একটি করে জমি দেওয়ার ঘোষণা করেন। পাশাপাশি তিনি মরক্কো সরকার ও দলের প্রশংসা করে বলেন, ‘টুর্নামেন্ট আয়োজন এবং মাঠের পারফরম্যান্স—দুটোই প্রশংসনীয়।’
এই জয়ের সুবাদে সেনেগাল তাদের দ্বিতীয় আফ্রিকা কাপ জিতল। শেষ চার সংস্করণে তিনবার ফাইনাল খেলার নজিরও গড়েছে তারা। মিছিলে আসা এক সমর্থকের কথায় সুর মিলছে গোটা দেশের—‘এবার লক্ষ্য আরও বড়। বিশ্বকাপ।’ সেনেগালের জন্য এই কাপ শুধু একটি ট্রফি নয়, বরং সংগঠিত দল হিসেবে নিজেদের জায়গা আরও শক্ত করে নেওয়ার ঘোষণা। যার আরও বড় পরীক্ষা নেবে আসন্ন বিশ্বকাপ।