এই মরসুমে খেতাবের লড়াইয়ে বড় ধাক্কা খেল টটেনহ্যাম, কার্যত ছিটকে গেল তারা। অন্যদিকে আরও কলার তুলে এগল আর্সেনাল।

এবেরেচি এজে
শেষ আপডেট: 24 November 2025 10:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নর্থ লন্ডন ডার্বিতে মাঠে নামার আগেই রসিকতা, টিপ্পনি আর উত্তেজনা—সব কিছুর কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন এবেরেচি এজে (Eberechi Eze)। কয়েকদিন আগেই এমিরেটসের বাইরে তাঁর মুরাল নষ্ট করা হয়েছিল। আর্সেনালের এক কর্তার মন্তব্য—‘আমরা ৬০ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করে সেরা ফরোয়ার্ড কিনলাম, ওরা দেয়ালে রং ছিটাল’—ডার্বির আবহকে আরও গরম করে তোলে।
রবিবার সেই এজেই দেখিয়ে দিলেন কেন তাঁকে দলে টানার জন্য মরশুমের শুরুতে এত লড়াই! দুরন্ত এক হ্যাটট্রিক (Hat-trick), আর তাতে ভর করেই আর্সেনাল (Arsenal) একপেশে লড়াই ৪–১ স্কোরলাইনে জিতে খেতাব দখলের দৌড়ে ছয় পয়েন্টে এগিয়ে গেল। আগের দিন ম্যানচেস্টার সিটির (Manchester City) হার—তাই ডার্বি জয়ের গুরুত্ব ছিল দ্বিগুণ। সুযোগ কাজে লাগাতে ভুল করেনি মিকেল আর্তেতার ছেলেরা।
শুরু থেকেই খেলার নিয়ন্ত্রণ ছিল গানার্সদের হাতে। টটেনহ্যাম হটস্পার (Tottenham Hotspur) আগাগোড়া পিছিয়ে থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালায়। কিন্তু কোচ থমাস ফ্র্যাঙ্কের (Thomas Frank) রক্ষণাত্মক পরিকল্পনা মাঠে কার্যকর হয়নি। ব্যাক থ্রি সাজিয়ে শুরু করেছিলেন তিনি, কিন্তু পুরো প্ল্যান চৌপাট করে দিলেন এজে। যাবতীয় ডিফেন্সিভ রণকৌশল প্রথম অর্ধেই ভেস্তে যায়। ৩৬ মিনিটে আসে প্রথম গোল। করেন লিয়ান্দ্রো ট্রসার্ড (Leandro Trossard)। মিডফিল্ডে জায়গা খুঁজে নিয়ে দারুণ রান ও শেষ মুহূর্তে সঠিক ফিনিশ—ভিকারিওর (Guglielmo Vicario) হাত ছুঁয়ে বল জালে।
তার পরেই মঞ্চে ওঠেন এজে। বক্সের বাইরে থেকে টুইস্ট-টার্নে জায়গা বার করে সজোরে শট—২–০। দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই আবার গোল। বক্সের ভিড়ে পাস পেয়ে সহজেই বাম কোণে পাঠান বল। কার্যত তখনই রণেভঙ্গ। এই সময়েই সাদা পতাকা তুলতে শুরু করে স্পার্স বাহিনী। কিন্তু এজের দাপট তখনও ফুরনোর নয়! সেরে ফেলেন হ্যাটট্রিক। তিন নম্বর গোল আসে একই ধাঁচে—বিপজ্জনক জায়গায় বল পেয়ে ঠান্ডা মাথায় দুরন্ত কার্লারে গোলকিপার পরাস্ত! আসলে ম্যাচের নব্বই মিনিট জুড়ে নির্ভুল ফিনিশিংই দুই শিবিরের পার্থক্য তৈরি করেছে। স্পার্স ডিফেন্স কার্যত কোন উত্তর খুঁজে পায়নি।
টটেনহ্যামের একমাত্র সান্ত্বনা, রিচার্লিসনের (Richarlison) দুর্দান্ত ৪৫–ইয়ার্ড লব—আর্সেনাল কিপার ডেভিড রায়া (David Raya) এগিয়ে থাকায় বল জালে জড়িয়ে যায়। কিন্তু যথেষ্ট নয়, এই গোল ছিল ছিটেফোঁটা প্রতিরোধ। যে কারণে দ্বিতীয়ার্ধে সিস্টেম বদলেও স্পার্স ঘুরে দাঁড়াতে ব্যর্থ। উলটে আর্সেনাল আরও কয়েকবার গোলের সুযোগ তৈরি করে। ডেকলান রাইস (Declan Rice) এবং এজে—দু’জনেরই শট দুর্দান্ত রিফ্লেক্সে বাঁচান ভিকারিও।
রেফারির শেষ বাঁশি বাজার পর ডার্বি ডে-র বার্তা পরিষ্কার—এই মরসুমে খেতাবের লড়াইয়ে বড় ধাক্কা খেল টটেনহ্যাম, কার্যত ছিটকে গেল তারা। অন্যদিকে আরও কলার তুলে এগল আর্সেনাল। ম্যাচের পালা চুকতেই এজের মুরালের নীচের লাইন প্রকটভাবে সত্যি মনে হচ্ছে—‘অল রোড লিডস হোম!’