ফাইনালের পরপরই ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো সেনেগালের এই আচরণকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলেছিলেন। এদিকে ফাইনালে মাঠে হামলা চালানোর চেষ্টা করা ১৮ জন সেনেগালি সমর্থক আপাতত জেলে—তাদের আপিলের শুনানি ৩০ মার্চ।

মরক্কো
শেষ আপডেট: 18 March 2026 10:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুই মাস আগের ফাইনাল। মাঠে সংঘাত, বিতর্ক, অচলাবস্থা। তারপর অতিরিক্ত সময়ে গোল করে আফ্রিকা কাপ অব নেশনস (AFCON) জিতেছিল সেনেগাল। কিন্তু মঙ্গলবার কার্যত নজিরবিজীন কায়দায় সেই শিরোপা কেড়ে নিল কনফেডারেশন অব আফ্রিকান ফুটবল (CAF)। নয়া চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হল মরক্কোকে। এমনকি বদলে দেওয়া হল ফলাফলও… ৩-০—সেনেগালের বিরুদ্ধে।
ফাইনালে ঠিক কী হয়েছিল?
১৮ জানুয়ারি রাবাতের প্রিন্স মুলে আব্দুল্লাহ স্টেডিয়ামে ফাইনাল। আয়োজক মরক্কোর প্রতিপক্ষ সেনেগাল। নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্য। অষ্টম অতিরিক্ত মিনিটে ভিএআর দেখে মরক্কোকে পেনাল্টি দিলেন কঙ্গোর রেফারি জাঁ-জ্যাক নদালা। এল হাদজি মালিক দিউফের ফাউলে ব্রাহিম দিয়াজকে (Brahim Diaz) ফেলা হয়েছে বলে এহেন রায়। যার জেরে মাঠে ছড়িয়ে পড়ে ক্ষোভ। এই পেনাল্টি মানতে রাজি হননি সেনেগালের খেলোয়াড়রা। প্রায় ২০ মিনিট ময়দান ছেড়ে বিদ্রোহ প্রদর্শন। অধিনায়ক সাদিও মানে (Sadio Mane) অনেক বুঝিয়েসুজিয়ে মাঠে ফেরালেন সতীর্থদের। তারপর মরক্কোর পেনাল্টি। রিয়াল মাদ্রিদের উইঙ্গার দিয়াজ প্যানেনকা চিপ করলেন—গোলকিপার এদুয়ার মেন্ডি বাঁচিয়ে দিলেন সহজে। দীর্ঘ বিলম্বের পর পেনাল্টি নিতে গিয়ে স্পষ্টতই ছন্দ হারিয়েছিলেন দিয়াজ।
অতঃপর লড়াই গড়াল অতিরিক্ত সময়ে। আর পাপে গেয়ের দুরন্ত গোলে ১-০-তে দ্বৈরথ জিতে নিল সেনেগাল। শিরোপা উঠল তাদের হাতে। যদিও নাটক এখানেই শেষ নয়। বিজিত মরক্কো আপিল করল। আর সেই আর্জিতেই পাল্টে গেল ইতিহাস!
নিয়মের কঠোর প্রয়োগ
ক্যাফের আপিল কমিটির রায়—সেনেগাল রেফারির অনুমতি ছাড়া মাঠ ছেড়ে গিয়েছে, যা নিয়ম ৮২ ও ৮৪-এর সরাসরি উল্লঙ্ঘন। আইন অনুযায়ী, দল স্বেচ্ছায় ময়দান ত্যাগ করলে ৩-০ ব্যবধানে পরাজিত বলে গণ্য হবে। সেই অনুযায়ী মরক্কোকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়। সে দেশের ফুটবল ফেডারেশনের অভিমত, এই আপিলের উদ্দেশ্য কখনও মাঠের খেলাকে চ্যালেঞ্জ করা ছিল না—ছিল শুধু নিয়মের প্রতিষ্ঠা।
সেনেগালের ক্ষোভ, ক্যাসের দরজায়
সেনেগালের ফুটবল ফেডারেশন এই রায়কে ‘অন্যায্য, নজিরবিহীন ও অগ্রহণযোগ্য’ বলে নিন্দা করেছে। ক্রীড়া সালিশি আদালত ক্যাসে (CAS) যত দ্রুত সম্ভব আপিল জানানো হবে বলে খবর। রোষ ছড়িয়েছে ফুটবলারদের মধ্যে। ফরাসি ক্লাব লিওঁর ডিফেন্ডার মুসা নিয়াখাতে ট্রফি তোলার ছবি পোস্ট করে লিখলেন— ‘ওরা পাগল হয়ে গিয়েছে!’ সোশ্যাল মিডিয়াও চুপ নেই। সেখানেও ক্ষোভের ঢল।
উল্লেখ্য, ফাইনালের পরপরই ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো (Gianni Infantino) সেনেগালের এই আচরণকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলেছিলেন। এদিকে ফাইনালে মাঠে হামলা চালানোর চেষ্টা করা ১৮ জন সেনেগালি সমর্থক আপাতত জেলে—তাদের আপিলের শুনানি ৩০ মার্চ।