বাংলার ঐতিহ্যবাহী খাবারের অন্যতম উল্লেখযোগ্য পীঠস্থান দক্ষিণ কলকাতার এই রেস্তারাঁ। রয়েছে অন্যান্য ব্রাঞ্চও। বাবু কালচার মানেই জিভে জল আনা পদ।

বাবু কালচার রেস্তরাঁ
শেষ আপডেট: 21 January 2026 10:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: খাবার মানেই গোগ্রাসে খেয়ে নিলাম, কোনওমতে পেটে দিয়ে বেরিয়ে পড়লাম, এই কনসেপ্ট একটু পাল্টেছে। খাবার এখন শিল্প। ঐতিহ্য রক্ষার অন্যতম পিলারও। কথায় আছে খাবার খাইয়ে মন জয় করা যায় যে কারও। এই খাবারকে হাতিয়ার করেই স্বাধীনতার উত্তর পর্বে জন্মানো মানুষজনকে সম্মান জানাল বাবু কালচার। তাঁদের কাছ থেকে সে সময়কার গল্প, খাবারের ধরন-সহ একাধিক জিনিস জেনে আধুনিক প্রজন্মে চালিত করার ক্ষুদ্র চেষ্টা হল মঙ্গলবার।

সাধারণতন্ত্র দিবস ও নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর জন্মবার্ষিকীর কথা মাথায় রেখে তেরঙা খাবারের একটা বিশেষ থালি লঞ্চ করল এই রেস্তরাঁ। যেখানে লুচি থেকে পোলাও, মাটন থেকে মাছ, মিষ্টি থেকে পায়েস-সব সুন্দর করে স্বাদ অনুযায়ী সাজানো হয়েছে। রয়েছে ভেজ অপশনও।
কী হল এদিন বাবু কালচারে?
বাংলার ঐতিহ্যবাহী খাবারের অন্যতম উল্লেখযোগ্য পীঠস্থান দক্ষিণ কলকাতার এই রেস্তারাঁ। রয়েছে অন্যান্য ব্রাঞ্চও। বাবু কালচার মানেই জিভে জল আনা পদ। এমনই নানা পদের বাহার মিলেছে এই বিশেষ থালিতে। যা রেস্তরাঁয় পাওয়া যাবে ২৩ থেকে ২৬ তারিখ পর্যন্ত।

বিশেষত্ব কী?
১৯৫০ সালের আগে জন্মানো মানুষজনকে নিয়ে যদি এই রেস্তরাঁয় কেউ পৌঁছতে পারেন, তাঁকে সম্মান জানাতে এই থালিটি বিনামূল্যে খাওয়ানো হবে। সকলকে এই বিশেষ উদ্যোগে সামিল হওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন কর্ণধার মৃদুলা মজুমদার।
কোথা থেকে এল এমন পরিকল্পনা?
কর্ণধার জানান, নতুন-পুরনো প্রজন্মে ব্রিজ তৈরির কাজ এটা। এতদিন বাবা-মা, দাদু-ঠাকুমাদের হাত ধরেই এতোটা পথচলা। তাঁদের অভিজ্ঞতাই আগামীতে আমাদের এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে তাই এমন সময়ে স্বাধীনতা আন্দোলনের অভিজ্ঞতা থাকা মানুষজনকে কাছে পাওয়া, সম্মান জানাতে পারার চেয়ে আনন্দের আর কী হতে পারে! এই ছোট প্রয়াস সেজন্যই।
প্রবীণদের কেমন লাগল?
হাজরার বাসিন্দা বাসন্তী চক্রবর্তী বললেন, 'বয়স হয়েছে, ব্যস্ততার যুগে আমরা বড়ই ব্রাত্য। এমন আয়োজনে খুবই ভাল লাগছে অনেকদিন পর।'
শুধু সংবর্ধনা, খাওয়া দাওয়াই নয়, এদিন গানে-কবিতায় মুখর হয়েছিল রেস্তরাঁর ঘর। সকলেই প্রাণ খুলে আড্ডা দেন, ভাগ করে নেন নিজেদের সময়কার কথা। উঠে আসে স্বাধীনতার আগের অনেক গল্প। আর গোটা বিষয়টির জন্য সকলে ধন্যবাদ জানান মৃদুলা মজুমদার ও তাঁর টিমকে।