কর্নাটকের জনপ্রিয় কাদালেকালু দোসা এখন কলকাতাতেও বেশ জনপ্রিয়। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই দোসা সহজেই বানানো যায় বাড়িতেই।

কাদালেকালু দোসা
শেষ আপডেট: 11 March 2026 15:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বাস্থ্যসচেতনদের পাতে নতুন সংযোজন—কাদালেকালু দোসা (Kadalekalu Dosa)। এত দিন শহরের রেস্তরাঁয় দক্ষিণী খাবারের তালিকায় রাগির দোসা (Ragi Dosa) কিংবা চালের দোসাই (Rice Dosa) বেশি দেখা যেত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে জনপ্রিয়তার নিরিখে তাদের টক্কর দিচ্ছে কর্নাটকের (Karnataka) এই বিশেষ দোসা। ধীরে ধীরে কলকাতার (Kolkata) খাদ্যরসিকদের পছন্দের তালিকাতেও জায়গা করে নিয়েছে।
‘কাদালেকালু’ শব্দের অর্থ কালো ছোলা (Black Chana)। সাধারণ দোসা যেখানে চাল ও ডাল পিষে তৈরি করা হয়, সেখানে কাদালেকালু দোসার মূল উপাদান কালো ছোলা। সেই কারণেই এই দোসা স্বাদে যেমন আলাদা, তেমনই পুষ্টিগুণেও অনেকটা এগিয়ে।
বাঙালি সাধারণত সাদা রঙের চাল-ডালের দোসা খেতেই অভ্যস্ত। সাম্প্রতিক সময়ে স্বাস্থ্যসচেতনদের মধ্যে লালচে রঙের রাগির দোসাও জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তবে এখন বাদামি রঙের কাদালেকালু দোসা সেই দুইয়ের সঙ্গেই প্রতিযোগিতায় নেমেছে। স্বাদে মুচমুচে এই দোসা সকালের জলখাবার হিসেবে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
স্বাস্থ্যগুণের কারণেই এই দোসার চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। সাধারণ চালের দোসায় শর্করা (Carbohydrate) তুলনামূলক বেশি থাকে। কিন্তু কালো ছোলার কারণে কাদালেকালু দোসায় প্রোটিন (Protein) এবং ফাইবার (Fiber) অনেক বেশি থাকে। ফলে এই দোসা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে। যারা প্রোটিন ডায়েট (Protein Diet) অনুসরণ করেন, তাঁদের জন্যও এটি আদর্শ জলখাবার। সকালের খাবারে এটি খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে এবং রক্তে শর্করার মাত্রাও হঠাৎ করে বাড়ে না।
এই খাবারের উৎস কর্নাটকের গ্রামাঞ্চল। সেখানে ‘কাদালে’ নামে পরিচিত কালো ছোলার চাষ প্রচুর হয়। এক সময় কৃষকদের প্রাত্যহিক খাদ্যতালিকায় জায়গা করে নেয় কাদালেকালু দোসা। কারণ, সাধারণ চালের দোসা খুব দ্রুত হজম হয়ে যায়। কিন্তু ছোলার ফাইবার বেশি থাকায় এই দোসা খেলে অনেকটা সময় পেট ভরা থাকে এবং শক্তি জোগায়। মাঠে কাজ করা কৃষকদের জন্য তাই এটি ছিল আদর্শ খাবার।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কর্নাটক ছাড়িয়ে অন্ধ্রপ্রদেশ (Andhra Pradesh) এবং তামিলনাড়ু (Tamil Nadu)-তেও এই দোসার জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। এখন সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে কলকাতাও। শহরের বেশ কিছু দক্ষিণী খাবারের রেস্তরাঁয় ইতিমধ্যেই এই দোসা পরিবেশন করা হচ্ছে।
ঘরেও চাইলে সহজেই বানানো যায় কাদালেকালু দোসা
কালো ছোলা, আতপ চাল এবং মেথিদানা (Fenugreek Seeds) আলাদা করে ৭-৮ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখতে হয়। পরে আদা ও কাঁচালঙ্কা দিয়ে মিহি করে বেটে ব্যাটার (Batter) তৈরি করতে হয়। কয়েক ঘণ্টা ঢেকে রাখার পর গরম চাটুতে (Non-stick Tawa) সামান্য তেল বা ঘি দিয়ে পাতলা করে ছড়িয়ে ভেজে নিলেই তৈরি হয়ে যায় মুচমুচে দোসা। নারকেলের চাটনির সঙ্গে পরিবেশন করলে স্বাদ আরও বেড়ে যায়।