Foods banned in royals: ব্রিটেনের রাজপরিবারের জীবনে খাবার নিয়েও রয়েছে কড়া নিয়ম। এমন ৭টি খাবার আছে, যা রাজবাড়ির মেনুতে কখনও ঢোকে না।কেন এই খাবারগুলি নিষিদ্ধ এবং তার নেপথ্যের কারণ জানলে অবাক হবেন।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 6 March 2026 16:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজবাড়ির জীবন মানেই ঐশ্বর্য আর প্রাচুর্য— বাইরে থেকে এমনটাই মনে হয়। কিন্তু সেই ঝলমলে জীবনের আড়ালে রয়েছে একগুচ্ছ কড়া নিয়ম। বিশেষ করে ব্রিটেনের রাজপরিবারের (British Royal Family) ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ বেশ কঠোর। রাজা থেকে রানি, রাজপুত্র-রাজকন্যা— প্রত্যেকের ব্যক্তিগত জীবনেও রয়েছে নানা নিয়মের বেড়াজাল। পছন্দের পোশাক বা প্রসাধনী যেমন সবসময় ব্যবহার করা যায় না, তেমনই খাবারের ক্ষেত্রেও রয়েছে একাধিক নিষেধাজ্ঞা। এমন সাতটি খাবার আছে, যেগুলো থেকে রাজপরিবারের সদস্যরা সচরাচর শতহস্ত দূরে থাকেন।
প্রথমেই রয়েছে মশলাদার খাবার (Spicy Food)। টক-ঝাল-মশলায় কষানো রগরগে পদ রাজবাড়ির রান্নাঘরে সাধারণত তৈরি হয় না। কারণ এমন খাবার খেয়ে যদি শরীর খারাপ হয় বা পেটের সমস্যা দেখা দেয়, আর সেই সময় বাইরে কোনও রাজকীয় অনুষ্ঠান থাকে, তাহলে তা সম্মানহানির কারণ হতে পারে। তাই ঝাল-মশলাদার খাবার এড়িয়েই চলেন তাঁরা।
দ্বিতীয় নিষিদ্ধ তালিকায় রয়েছে খোলসযুক্ত সি-ফুড (Shellfish Seafood)। চিংড়ি, কাঁকড়া, ঝিনুক, স্কুইড, ক্রেফিশ কিংবা বেবি অক্টোপাস— এসবই রাজপরিবারের মেনু থেকে দূরে থাকে। রাজবাড়ির এক প্রাক্তন বাটলার জানিয়েছিলেন, এই ধরনের খাবার থেকে খাদ্যে বিষক্রিয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। তাই রাজকীয় খাবারের তালিকায় এগুলোর জায়গা নেই।
তৃতীয়ত কাঁচা পেঁয়াজ (Raw Onion)। রান্না করা পেঁয়াজে তেমন সমস্যা না থাকলেও কাঁচা পেঁয়াজ খাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কারণ কাঁচা পেঁয়াজের গন্ধ দীর্ঘ সময় মুখে থেকে যায়। অতিথিদের সঙ্গে কথা বলার সময় তা অস্বস্তির কারণ হতে পারে। তাই সামাজিক বা আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের আগে রাজপরিবারের কেউই কাঁচা পেঁয়াজ খান না।
একই কারণে তালিকায় রয়েছে রসুন (Garlic)। রানি ক্যামিলা (Queen Camilla) একবার অস্ট্রেলিয়ার মাস্টারশেফ (MasterChef Australia) অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে এসে জানিয়েছিলেন, রাজবাড়ির রান্নাঘরে রসুন প্রায় নিষিদ্ধ। কারণ, কাছাকাছি বসে কথা বলার সময় এর তীব্র গন্ধ অন্যদের অস্বস্তিতে ফেলতে পারে।
এ ছাড়াও রয়েছে বিশেষ ধরনের মাংস (Rare Meat)। রানি এলিজাবেথের (Queen Elizabeth II) প্রাক্তন ব্যক্তিগত রাঁধুনি ড্যারেন ম্যাকগ্রাডি (Darren McGrady) জানিয়েছিলেন, আধা-কাঁচা স্টেক বা কম রান্না করা মাংস তিনি কখনও খেতেন না। ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতেই মাংস সম্পূর্ণ রান্না করে তবেই পরিবেশন করা হত।
পাস্তা (Pasta) নিয়েও ছিল আপত্তি। শর্করা বেশি এমন ভারী খাবার পছন্দ করতেন না রানি। সেই কারণেই পাস্তার পাশাপাশি ভাত ও আলুও অনেক সময় রাজকীয় নৈশভোজের তালিকা থেকে বাদ পড়ত।
সবশেষে রয়েছে ফয় গ্রাঁ (Foie Gras)। রাজহাঁসের কলজে দিয়ে তৈরি এই খাবার ইউরোপে জনপ্রিয় হলেও রাজবাড়িতে তা নিষিদ্ধ। কারণ এর প্রস্তুতির পদ্ধতিকে নিষ্ঠুর বলে মনে করতেন রাজা চার্লস (King Charles III)। ২০০৮ সালে যুবরাজ থাকাকালীনই তিনি এই খাবার রাজপরিবারের মেনু থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন।
অর্থাৎ বাহ্যিক আড়ম্বরের আড়ালে কঠোর নিয়মেই বাঁধা ব্রিটেনের রাজপরিবারের জীবন। খাবারের ক্ষেত্রেও সেই শৃঙ্খলা অটুট।