কয়েক দশক ধরেই বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু, পাকিস্তানি দমন-পীড়নের কারণে তা প্রতিবারই ব্যর্থ হয়।

১৪ দিনের অক্লান্ত লড়াইয়ের শেষে বাংলাদেশে পাকিস্তানি বাহিনীকে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করে ভারত।
শেষ আপডেট: 3 December 2025 12:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর তারিখটিকে বীরগাথায় স্মরণ করল ভারতীয় বিমানবাহিনী। কয়েক দশক ধরেই বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু, পাকিস্তানি দমন-পীড়নের কারণে তা প্রতিবারই ব্যর্থ হয়। ইতিহাসের ঠিক এইদিনেই পশ্চিম ভারতের বিমানঘাঁটিতে পাকিস্তানি বিমানবাহিনীর পূর্বপরিকল্পিত হানাদারির ছক ভেস্তে দিয়ে সরাসরি যুদ্ধে যোগ দেয় ভারত। এবং ১৪ দিনের অক্লান্ত লড়াইয়ের শেষে বাংলাদেশে পাকিস্তানি বাহিনীকে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করে ভারত।
ঐতিহাসিক এই দিনটিকে স্মরণ করে বিমানবাহিনী এক্সে একটি পোস্ট করেছে। তাতে লেখা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর, পাকিস্তানের হানাদারির চক্রান্তের মুখ ভাঙা জবাব যোগ্য জবাব দেওয়া হয়েছিল। রাতভর ক্যানবেরা ক্রু পাকিস্তানের ভিতরে ঢুকে ২৩টি বিমানঘাঁটি যেমন- মুরিদ, মিয়াঁওয়ালি, সারগোদা, চান্দের, রিসালেওয়ালা, শোরকোট ও মাসরুর (করাচি) গুঁড়িয়ে দেয়। পাকিস্তানের বিমানঘাঁটিগুলির রানওয়ে চূর্ণবিচূর্ণ করা হয়, যে ছাউনিগুলি ছিল সেগুলি নষ্ট করা হয় এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যে শত্রুকে যোগ্য জবাব দেওয়া হয়।
একইসঙ্গে শুরু হয় স্থলবাহিনী অগ্রগমন। চাঙ্গামাঙ্গায় শত্রুদেশের সরবরাহ ঘাঁটিতে এএন-১২এস ৪৮টি ৫০০ পাউন্ডের বোমা নিক্ষেপ করায় আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যায়। ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল এএকে নিয়াজি ভারতের লেফটেন্যান্ট জেনারেল জেএস অরোরার কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হন। তাতে ৯৩ হাজার পাকিস্তানি জওয়ান আত্মসমর্পণ করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটাই ছিল কোনও দেশের সর্ববৃহৎ আত্মসমর্পণ। এই দিনটিকে ভারত ও বাংলাদেশে বিজয় দিবস হিসেবে পালন করা হয়।