কলকাতায় আত্মপ্রকাশ করল সুমন্ত বাত্রার নতুন বই ‘কাফিলা’, যেখানে দেশভাগের যন্ত্রণা, উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলির কাহিনি এবং বেঁচে থাকার লড়াই উঠে এসেছে।

শেষ আপডেট: 22 September 2025 13:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশভাগের বেদনা ও মানুষের বেঁচে থাকার অদম্য লড়াইকে কেন্দ্র করে লেখা প্রখ্যাত আইনজীবী, লেখক ও সাংস্কৃতিক সুমন্ত বাত্রার নতুন বই ‘কাফিলা: অ্যা ঝাঙ্গি ফ্যামিলি'স পার্টিশন মেমোয়ার’ প্রকাশিত হল কলকাতায়। ১৯৪৭- এর দেশভাগকে কেন্দ্র করে লেখা এই বইতে ব্যক্তিগত পারিবারিক স্মৃতির কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। পরতে পরতে রয়েছে বিভাজনের করুণ কাহিনি ও লড়াইয়ের টুকরো কথা।
বইটিতে লেখক তুলে ধরেছেন তাঁর পূর্বপুরুষ দাস পরিবারের নানা গল্প। পাকিস্তানের ঝাঙ্গ জেলার রোদু সুলতান থেকে দেশভাগের পর আলাদা হয় তাঁদের যাত্রাপথ। পারিবারিক স্মৃতিচারণার সঙ্গে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের মিশেলে তিনি এঁকেছেন দেশভাগের ক্ষতচিহ্ন ও মানবিক টিকে থাকার শক্তি।
সুমন্ত বলেন, 'যদিও এটি আমার পরিবারের গল্প, আসলে এটি সেই কোটি কোটি মানুষের ভিতরের কথা, যারা দেশভাগের যন্ত্রণা সহ্য করেছিলেন। আমি তাঁদের স্মৃতি ও অদম্য মানসিকতাকে শ্রদ্ধা জানাতে চেয়েছি এবং বর্তমান প্রজন্মকে সেই ইতিহাসের অসমাপ্ত অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটে।'
বইটির সম্পাদক শান্তনু রায় চৌধুরী বলেন, 'কাফিলায় সুমন্ত নিখুঁত ঐতিহাসিক গবেষণাকে জীবন্ত অভিজ্ঞতা ও আবেগের সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছেন। ফলে বইটির রেশ পাঠকের মনে থেকে যাবে।'
২০ সেপ্টেম্বর লেখকের বাবা (প্রয়াত) জন্মবার্ষিকী ছিল। সেদিনই এই বই প্রকাশিত হওয়ায় খুশি তিনি। বলেন, 'কাফিলা কেবল একটি স্মৃতিকথা নয়, বরং সাহস, বেঁচে থাকা আর আশার জীবন্ত দলিল। এটি ইতিহাসের এমন এক টুকরো অংশ সংরক্ষণ করছে, যা ধীরে ধীরে বিস্মৃতির আড়ালে চলে যাচ্ছিল।'
সুমন্ত বাত্রা প্রায় তিন দশক ধরে আন্তর্জাতিক দেউলিয়া ও দেউলিয়াত্ব আইন বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত। গ্লোবাল রিস্ট্রাকচারিং রিভিউ তাঁকে বিশ্বসেরা ৩০ জন বিশেষজ্ঞের মধ্যে স্থান দিয়েছে। দেউলিয়া আইনের ক্ষেত্রে তাঁর অসামান্য অবদানের জন্য একাধিক পুরস্কার পেয়েছেন। লন্ডন-ভিত্তিক ‘ইনসল ইন্টারন্যাশনাল’-এর ইতিহাসে একমাত্র এশীয় এবং সর্বকনিষ্ঠ সভাপতি ছিলেন তিনি। আইন পেশার বাইরে ভারতীয় সংস্কৃতি ও সাহিত্যকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। কুমায়ুন সাহিত্য উৎসবের প্রতিষ্ঠাতা, এর আগে দ্য ইন্ডিয়ানস, আনারকলি এবং সঞ্জীব কুমারের অনুমোদিত জীবনী অ্যান অ্যাক্টর’স অ্যাক্টর বই লিখেছেন।