Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
পয়লা বৈশাখে শুটিং শুরু, যিশুর কামব্যাক—‘বহুরূপী ২’ কি ভাঙবে সব রেকর্ড?‘কেকেআরের পাওয়ার কোচ রাসেল ২৫ কোটির গ্রিনের থেকে ভাল!’ আক্রমণে টিম ইন্ডিয়ার প্রাক্তন তারকাবিহারে আজ থেকে বিজেপি শাসন, রাজনীতির যে‌ অঙ্কে পদ্মের মুখ্যমন্ত্রী আসলে নীতীশেরই প্রথম পছন্দঅশোক মিত্তলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইডি, ক'দিন আগেই রাজ্যসভায় রাঘব চাড্ডার পদ পেয়েছেন এই আপ সাংসদ West Bengal Election 2026: প্রথম দফায় ২,৪০৭ কোম্পানি বাহিনী! কোন জেলায় কত ফোর্স?IPL 2026: ভাগ্যিস আইপিএলে অবনমন নেই! নয়তো এতক্ষণে রেলিগেশন ঠেকানোর প্রস্তুতি নিত কেকেআর TCS Scandal: যৌন হেনস্থা, ধর্মান্তরে চাপ! নাসিকের টিসিএসকাণ্ডে মালয়েশিয়া-যোগে আরও ঘনাল রহস্যক্যান্ডিডেটস জিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে গুকেশের মুখোমুখি সিন্দারভ, ড্র করেও খেতাবের লড়াইয়ে বৈশালীIPL 2026: চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে হেরে টেবিলের তলানিতে কেকেআর! গুরুতর বদলের ইঙ্গিত রাহানের নববর্ষের 'শুভনন্দন'-এও মুখ্যমন্ত্রীর SIR তোপ! বাংলায় পয়লা বৈশাখের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর

ভারতেরও এক 'শেক্সপিয়র' আছেন, বিশ্বসাহিত্যে কতটা জায়গা পেয়েছেন তিনি?

দীর্ঘ সময় কালিদাসের আসল রচনাগুলি অন্ধকারেই ছিল। তবে আধুনিক যুগে তিনি নতুনভাবে আবিষ্কৃত হয়েছেন। তাঁর সাহিত্য আজও পাঠক-সমালোচকদের কাছে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

ভারতেরও এক 'শেক্সপিয়র' আছেন, বিশ্বসাহিত্যে কতটা জায়গা পেয়েছেন তিনি?

গ্রাফিক্স - দিব্যেন্দু দাস

পৃথা ঘোষ

শেষ আপডেট: 10 September 2025 15:31

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের সাহিত্যের ইতিহাসে কত যে মণিমাণিক্য ছড়িয়ে রয়েছে, তার সূচনার হদিশ পেতে গেলে ফিরে যেতে হবে সেই প্রাচীনকালে। ইংরেজি সাহিত্যে যেমন উইলিয়াম শেক্সপিয়র (William Shakespeare) বিশ্ববিখ্যাত নাট্যকার ও কবি হিসেবে পরিচিত, তেমনই ভারতীয় সাহিত্যে (Indian Literature) কালিদাস (Kalidasa) এক অনন্য নাম। প্রকৃতি, প্রেম ও মানবিক আবেগকে সূক্ষ্মভাবে প্রকাশ করার ক্ষমতার জন্য তাঁকে ‘ভারতের শেক্সপিয়র’ (Indian Shakespeare) বলা হয়।

কালিদাস: ভারতের শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক

ভারতের প্রাচীন সাহিত্যে ঋষি-বাল্মিকী ও মহর্ষি-বেদব্যাসের পরই কালিদাসের নাম উচ্চারিত হয়। কালিদাসকে চতুর্থ থেকে পঞ্চম শতকের গুপ্ত যুগের মানুষ বলে মনে করা হয়। যদিও তাঁর জীবনের সুনির্দিষ্ট তথ্য অজানা, তবুও তিনটি নাটক, দু’টি মহাকাব্য ও দু’টি ক্ষুদ্র কাব্য আজও স্বমহিমায় উজ্জ্বল। তাঁর রচনায় হিন্দু দর্শন, পুরাণ ও ভারতীয় সংস্কৃতির গভীর প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।

লোককথায় বলা হয়, প্রথম জীবনে অযোগ্যতা ও অজ্ঞতার কারণে স্ত্রী তাঁকে ঘর থেকে বের করে দেন। কিন্তু অদম্য মনোবল আর অধ্যবসায়ের জোরে সেই কালিদাসই একদিন হয়ে ওঠেন ভারতবর্ষের শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক।

যদিও বাল্মিকী বা ব্যাসদেবের মতো ধর্মগ্রন্থ রচয়িতা নন, তবু কালিদাসের সাহিত্যকীর্তি ভারতীয় কবিতার ইতিহাসে অমর হয়ে আছে। তাঁর কাব্য ও নাটকের প্রভাব অগণিত কবিকে প্রেরণা দিয়েছে। প্রেম, প্রকৃতি ও সৌন্দর্যের নিখুঁত চিত্র বুনতে তাঁর ভূমিকা অনন্য। বিশেষত বৈষ্ণব সাহিত্যে রাধার রূপ বর্ণনায় যে উপমাগুলি ব্যবহৃত হয়েছে, সেখানে কালিদাসের লেখনীর ছায়া স্পষ্ট।

বাংলা সাহিত্যের প্রায় সব ধারাতেই কালিদাসের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। তাই তাঁকে বাঙালি সাহিত্যচর্চার উত্তরাধিকারের অঙ্গ বললেও ভুল হবে না। প্রাচীনকাল থেকে আধুনিক সাহিত্য পর্যন্ত তাঁর ছাপ বিদ্যমান।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গেও কালিদাসের এক বিশেষ যোগসূত্র খুঁজে পাওয়া যায়। গৃহশিক্ষকের মাধ্যমে ছোটোবেলায় কবিগুরু কালিদাসের কাব্যের সঙ্গে পরিচিত হন। রবীন্দ্রনাথের মানসিকতা ও কবিত্বে কালিদাসের প্রভাব ও সাদৃশ্য বহু সমালোচকই উল্লেখ করেছেন।

দীর্ঘ সময় কালিদাসের আসল রচনাগুলি অন্ধকারেই ছিল। তবে আধুনিক যুগে তিনি নতুনভাবে আবিষ্কৃত হয়েছেন, এবং তাঁর সাহিত্য আজও পাঠক-সমালোচকদের কাছে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

কালিদাসের উল্লেখযোগ্য রচনাগুলি হল – কুমারসম্ভব (মহাকাব্য), রঘুবংশ (মহাকাব্য), মেঘদূত (গীতিকাব্য), শ্যামলাদণ্ডকম (স্তোত্র/ভক্তিমূলক কাব্য), অভিজ্ঞান শকুন্তলম (নাটক)। মালবিকাগ্নিমিত্রম (নাটক) এবং বিক্রমোর্বশীয়ম্ (নাটক)।

উইলিয়াম শেক্সপিয়র ছিলেন ইংল্যান্ডের খ্যাতনামা কবি, নাট্যকার ও অভিনেতা। তিনি ১৫৪টি সনেট, ৩৯টি নাটক ও দীর্ঘ কাব্য রচনা করেছেন, যা আজও বিশ্বের নানা ভাষায় অনুবাদ হয়েছে, আজও নানাভাবে তা মঞ্চস্থ হয়। তাঁকে “বার্ড অফ এভন” ও ইংল্যান্ডের জাতীয় কবি বলা হয়। ১৭৮৯ সালে ইংরেজ বিচারপতি ও প্রাচ্যবিদ স্যার উইলিয়াম জোনস প্রথমবার কালিদাসের বিখ্যাত নাটক ‘অভিজ্ঞান শকুন্তলম’ ইংরেজিতে অনুবাদ করেন। তিনি তুলনামূলকভাবে মন্তব্য করেন যে, কালিদাসের সাহিত্যকীর্তি শেক্সপিয়রের সমকক্ষ। এরপর থেকেই কালিদাসকে ভারতের শেক্সপিয়র বলা শুরু হয়।

শেক্সপিয়র বিশ্বজোড়া যে খ্যাতি পেয়েছেন, তার ঠিক কতটা কালিদাস পেলেন!


```