আদালতে জমা দেওয়া হলফনামা ও সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, ফসলের গোড়া বা নাড়া পোড়ানো অনেক কমে গিয়েছে। কিন্তু, উপগ্রহবিদ ও মহাকাশ বিজ্ঞানীদের দাবি, কমার বদলে আরও বেড়েছে।

বদলে গিয়েছে নাড়া পোড়ানোর সময়।
শেষ আপডেট: 8 December 2025 15:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রতিবছর শীতকালে দিল্লির দূষণ মাত্রাছাড়া হয়। সাধারণের জীবনযাত্রার দুর্ভোগ ছাড়াও শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থদের নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া সঙ্কটজনক হয়ে ওঠে। এই দূষণের অন্যতম কারণ হল, পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশে ফসলের গোড়া পোড়ানোর ধোঁয়া। ইদানীং, আদালতে জমা দেওয়া হলফনামা ও সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, ফসলের গোড়া বা নাড়া পোড়ানো অনেক কমে গিয়েছে। কিন্তু, উপগ্রহবিদ ও মহাকাশ বিজ্ঞানীদের দাবি, কমার বদলে আরও বেড়েছে। শুধু বদলে গিয়েছে নাড়া পোড়ানোর সময়। সময় বদলে দিয়ে উপগ্রহের নজর এড়িয়ে কৃষকরা বহাল তবিয়তে ফসলের গোড়া পুড়িয়ে চলেছেন এবং তা বেড়েছে।
শুধু তাই নয়, নাসার এক বিজ্ঞানীর দাবি, বায়ুদূষণের চলতি বছরে হিসাব বলছে গত ১৫ বছরের মধ্যে এই বছরের পরিসংখ্যান সবথেকে নিকৃষ্ট। ঘটনা বুঝতে হলে কল্পনা করুন আকাশ থেকে কৃষিক্ষেত্রের উপর নজর রাখা চলছে। কিন্তু চোখ যেমন সারাক্ষণ নিষ্পলক থাকে না, তেমনই আকাশ থেকে পর্যবেক্ষণের চোখও অতন্দ্র থাকে না। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুবার তার দৃষ্টি এড়ায়।
উপগ্রহ যখন পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে তখন কৃষকরা মওকা বুঝে তার দৃষ্টি এড়িয়ে যায়। পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় এই ব্যবস্থাই চলছে। আমদাবাদের ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (ISRO) স্পেস অ্যাপ্লিকেশনস সেন্টারের চার বিজ্ঞানী বলেন, আমাদের গবেষণায় দেখা গিয়েছে ২০২০ সালে নাড়া পোড়ানোর সবথেকে তুঙ্গে থাকা সময় ছিল দুপুর দেড়টা নাগাদ। কিন্তু, ২০২৪ সালে তা বদলে হয়ে গিয়েছে বিকেল ৫টা।
এই সময় বদলের কারণেই পৃথিবীকে ঘিরে ঘুরতে থাকা উপগ্রহের নজর এড়িয়ে যাচ্ছে কৃষকরা। নাসার গবেষক হীরেন জেঠওয়ার দাবি, পাঞ্জাবে ফসলের গোড়া পোড়ানো ৯২ শতাংশ কমে গিয়েছে, এই দাবি পুরোপুরি মিথ্যা এবং বিভ্রান্তিকর। তাঁরা NASA-NOAAর উপগ্রহের উপর ভরসা রাখেন। যা দুপুরের পর থেকে ধীরে ধীরে কমে একেবারে শূন্য হয়ে যায়। এই সত্যটি বেশিরভাগ লোকই জানেন।
বিজ্ঞানীর দাবি, অগ্নিসংযোগের ঘটনা কমলে বায়ুদূষণের মাত্রা বাড়ছে কেন। ১৫ বছরে বাতাসে ভাসমান বিভিন্ন ক্ষুদ্র কণার পরিমাণ যে হারে বেড়েছে তা ২০১৯ ও ২০২৪ সালের পর ২০২৫ সালে তৃতীয় সর্বোচ্চ নিকৃষ্ট স্তরের। বিভিন্ন বেসরকারি সমীক্ষাতেও ধরা পড়েছে, কৃষকরা জমিতে আগুন ধরানোর সময় বদলে দিয়েছেন। যদিও সরকারি মত বলছে, চলতি বছরে এই দুই রাজ্যে নাড়া পোড়ানোর ঘটনা অনেক কমে গিয়েছে।
কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব গত ২ ডিসেম্বর লোকসভায় বলেন, এ বছর ২০২২ সালের তুলনায় পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় নাড়া পোড়ানোর ঘটনা ৯০ শতাংশ কম। বিজ্ঞানীরা বলছেন, পোলার অরবিটিং স্যাটেলাইট সকাল ও রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ এবং দুপুর ও রাত দেড়টা নাগাদ বিষুবরেখার (equator) উপর দিয়ে যায়। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, আগে যেখানে দুপুর দেড়টায় আগুন ধরানো হতো এখন সেখানে বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ তা করা হয়। তাঁরা বলছেন, উপগ্রহ চিত্র বলছে নাড়া পোড়ানোর ঘটনা কমেছে। কিন্তু পাঞ্জাব-হরিয়ানার আকাশ ধোঁয়াচ্ছন্ন এবং এবং ধোঁয়াশায় ভরা থাকছে। এই সন্দেহ থেকেই গবেষণার শুরু।