Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনেরভাঁড়ে মা ভবানী! ঘটা করে বৈঠক ডেকে সেরেনা হোটেলের বিলই মেটাতে পারল না 'শান্তি দূত' পাকিস্তানসরকারি গাড়ির চালককে ছুটি দিয়ে রাইটার্স থেকে হাঁটা দিলেন মন্ত্রী

বেনারসির মিথটাই ভেঙে চুরমার করে দিচ্ছেন কেয়া! আস্ত একটা মল স্পর্ধায় ডগমগ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আপনার বিয়ের কি বছর দশেক পেরিয়ে গেছে? রিসেপশনের বেনারসি শাড়িটি আপনি শেষ কবে পরেছিলেন মনে পড়ে? সম্ভবত নয়। কারণ বিয়ের বেনারসি বড়জোর হাতে গোনা কয়েক বার পরা হয়। তার পর ড্রাইওয়াশে কাচিয়ে উঠে যায় আলমারিতে। এর কারণও আছে। বেনারসি

বেনারসির মিথটাই ভেঙে চুরমার করে দিচ্ছেন কেয়া! আস্ত একটা মল স্পর্ধায় ডগমগ

শেষ আপডেট: 21 November 2020 15:21

দ্য ওয়াল ব্যুরোআপনার বিয়ের কি বছর দশেক পেরিয়ে গেছে? রিসেপশনের বেনারসি শাড়িটি আপনি শেষ কবে পরেছিলেন মনে পড়ে? সম্ভবত নয়। কারণ বিয়ের বেনারসি বড়জোর হাতে গোনা কয়েক বার পরা হয়। তার পর ড্রাইওয়াশে কাচিয়ে উঠে যায় আলমারিতে। এর কারণও আছে। বেনারসি যথেষ্ট জমকালো ও ভারী শাড়ি। বিয়ের কিছু বছর পরে সাদামাঠা কোনও অনুষ্ঠানে বা দুপুরের অন্নপ্রাশনেও আর পরা যায় না অত ভারী শাড়ি। এই মিথটাই এবার ভাঙছেন কেয়া শেঠ ও তাঁর সুযোগ্য কন্যা মিষ্টি শেঠ। মিথ ভাঙা সহজ নয়। পাছে লোকে কিছু বলে! বিশেষ করে যে মিথ নির্মিত হয়েছে ট্র্যাডিশনের ওপর নির্ভর করে, তা ভাঙা আরওই কঠিন। সেটা ভাঙারই 'স্পর্ধা' দেখিয়েছেন কেয়া এবং মিষ্টি। এমনই সে স্পর্ধা, এমনই তার বৈচিত্র্য ও সৌন্দর্য, যে চোখ মেলে দেখতে হয়। ঐতিহ্যপূর্ণ ভারী বেনারসি থেকে হাল্কা খাদি বেনারসির বিবর্তন দেখে মুগ্ধ হতে হয়।

বেনারসি মানেই বিয়ে!

সত্যি বলতে কী, বেনারসি শব্দটা শুনলেই আমাদের অনেকেরই চোখের সামনে ভেসে ওঠে ঝলমলে রঙিন শাড়ি পরা কনেবৌ। তার পিছু পিছুই ভাসে বিয়ের মণ্ডপ, কানে ভাসে সানাইয়ের সুর, নাকেও আসে সুখাদ্যের ঘ্রাণ। এই বেনারসি শাড়ি যেন এক ও একমাত্র বিয়েবাড়ির সঙ্গেই জড়িয়ে গেছে ওতপ্রোত ভাবে। অথচ সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একটু এগিয়ে এলেই দিব্যি বোঝা যায়, বেনারসি কিন্তু মোটেই আর বিয়েবাড়িতে কনের শরীরে আটকে নেই। বিয়ের কনের জন্য বেনারসি-- এ ধারণা পালটে গেছে কবেই! এখন যে কোনও উৎসব, সে বিয়েই হোক, বা অন্নপ্রাশন, রিসেপশনের রাত্তিরই হোক, বা অষ্টমীর সকালের অঞ্জলি, সমস্ত উদযাপনের সঙ্গেই খাপ খেয়ে যায় বেনারসি। আর সেই জন্যই ভারী কাজের সেকেলে নকশার বেনারসির পাশাপাশি ক্রমশই জনপ্রিয় হচ্ছে হালকা ওজনের ছিমছাম কাজের বেনারসিও।

বেনারসির অচলায়তন ভাঙছেন কেয়া এবং মিষ্টি

কিন্তু এই ধারণা থেকে আরও কয়েক কদম এগিয়ে ভেবেছেন কেয়া ও মিষ্টি। শুধু ভাবেননি, বলা যায় ইতিহাস গড়েছেন। সে ইতিহাস ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে তাঁদের কালীঘাটের নিজস্ব মল ‘কেয়া শেঠ এক্সক্লুসিভ’-এ। এ মল জুড়ে শুধুই বেনারসির সম্ভার। আর তার বিবিধ রঙে-রূপে মুগ্ধ শুধু নয়, বিস্মিত হবেন যে কোনও কেউ! তবে কেয়া ও মিষ্টি অনন্য শুধু কালেকশনে নয়, ভাবনাতেও। যেমন বিয়ের বেনারসি কিনতে নির্দিষ্ট ফ্লোরে উঠলেই আপনাকে সপরিবারে আমন্ত্রণ জানাবে একটি পরিবার। না না, সত্যি কোনও পরিবার নয়, ম্যানিকুইনের পরিবার। সে পরিবারে রয়েছে বউ, বর, মা, বাবা, শ্বশুর, শাশুড়ি, ভাই, বোন—মিলিয়ে বেশ কয়েক জন। তাদের পোশাক দেখেই আপনি বেছে ফেলতে পারবেন বিয়েতে কনের বেনারসি-সহ গোটা পরিবারের প্যাকেজ! সবটা মিলিয়ে ১২ জনের বিয়ের পোশাকের প্যাকেজ শুরু ৫০ হাজার টাকা থেকে। মিষ্টি শেঠের কথায়, “আমাদের মধ্যবিত্ত বাঙালি পরিবারে মেয়ের বিয়ে একটা বড় ব্যাপার। তাতে কোনও খামতি রাখতে চান না মা-বাবা। তাই মেয়ের শাড়ি-গয়নাই সবচেয়ে প্রাধান্য পায় স্বাভাবিক ভাবেই। আর তা করতে গিয়ে দেখা যায়, অনেক সময়েই বাজেটের অনেকটাই বেরিয়ে যায় কনের বেনারসি কিনতে গিয়ে। পরিবারের বাকি সদস্যদের পোশাকে তখন আপস করা শুরু হয়। এমনটা হবে না এখানে এসে এই প্যাকেজ নিলে। সুন্দর করে সকলের পোশাক সাজিয়ে দিয়েছি আমরা। যে যেমন খুশি মিলিয়ে-মিশিয়েও নিতে পারেন।”

সবার জন্য বেনারসি

বাজেটের কথাই যখন এল, তখন উল্লেখ করতেই হয়, বেনারসি মানেই যে পকেটে বড়সড় ধাক্কা, তেমন ভাবনাও উধাও হয়ে যাবে এখানে এলেই। আড়াই হাজার টাকা দামের যে বেনারসিগুলি শুরু হচ্ছে, গরিমায় বা ঔজ্জ্বল্যে কিন্তু তা এতটুকু কম নয়! যে কোনও অনুষ্ঠানে, দিনে বা রাতে সব সময় পরা যাবে এই শাড়িগুলি। মোট কথা, বেনারসি থেকে কেউই বঞ্চিত হবেন না বিশেষ দিনে, এই ভাবনা নিয়েই নিত্যনতুন সৃষ্টিতে মেতে রয়েছেন কেয়া এবং মিষ্টি। যেমন ধরুন, বিয়ের রাত্তিরে কনের জন্য যদি আসে ঘন মুঘল কাজের মিনাকারি লাল কাতান বেনারসি, তাহলে কনের মা বা বরের মায়ের জন্য চাই সাদা বা অফ হোয়াইট জমির কোরিয়াল বেনারসি। আর কনের ছোটো বোনটি, সেই বা কী দোষ করল! হালকা নরম হাল ফ্যাশনের জর্জেট বা টিস্যু বেনারসি ছাড়া তার সাজই বা সম্পূর্ণ হয় কী করে! কোরিয়াল বেনারসির মজাই হল হালকা জমির উপর কনট্রাস্ট পাড় আর আঁচল। চিরায়ত লাল সাদা কম্বিনেশনের কোরিয়াল বেনারসি তো অনেক আছে বাজারে। মিষ্টি শেঠ বলছেন, “আমরা চেষ্টা করেছি একেবারে অন্য আঙ্গিকে নানা রঙের কনট্রাস্টে সাজিয়ে তুলতে কোরিয়াল বেনারসির শরীর। আধুনিকা মা কিংবা শাশুড়িদের পছন্দকে মাথায় রেখে তুলে এনেছি নানারকম প্যাস্টেল শেডের আনকমন কনট্রাস্টও। টিস্যু বেনারসিতেও রঙের কম্বিনেশন নিয়ে অসাধারণ কিছু কাজ করেছেন আমাদের তাঁতিরা। সিল্কের মধ্যে আমরাই প্রথম নিয়ে এসেছি ম্যাট জরির সূক্ষ্ম কাজ। সেকেলে বেণারসি-সুলভ অতিরিক্ত চাকচিক্য ছেঁটে ফেলায় নতুন ধরণের এই বেনারসির আবেদন হয়ে উঠেছে অনেক বেশি মেধাবী আর এলিগেন্ট।”

স্কুলে বা অফিসেও চলুক বেনারসির রাজত্ব, সারা বছর

কিন্তু এ তো গেল বড়সড় উৎসবের প্রসঙ্গ। বছরে দু-একদিন ব্যবহার করে সারা বছর আলমারিতে তুলে রাখার মতো শাড়ি আজকের দিনে আর কে কিনতে চায়? বিশেষ করে তা যদি হয় বেনারসির মতো স্পেশ্যাল শাড়ি! তাই সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বেনারসির দুনিয়ায় বিপ্লব এনেছেন কেয়া শেঠ। তাঁর কালেকশন হাতড়ালে সন্ধের পার্টি হোক, বা সাতসকালের পুজো—সে রকম বেনারসিও পেয়ে যাবেন আপনি। এমনকি অফিসের মিটিং, বন্ধুদের সঙ্গে গেটটুগেদারে, বা জন্মদিনে পরার মতো হালকা ফ্যাব্রিকের উপর কাজ করা শিফন বা জর্জেট বেনারসিও রয়েছে হাতের নাগালেই! অফিসের মিটিংয়ে বেনারসি পরে যাওয়ার কথা শুনতে যতই অবাক লাগুক, পছন্দসই জিনিসটি একবার পরলেই নিজেকে আবিষ্কার করবেন অনন্যা রূপে। এখনকার ডিজিটাল সময়ে থ্রি-ডি বেনারসি মানেই ইউনিক। থ্রি-ডাইমেনশনাল বা ত্রিমাত্রিক ডিজাইন থাকে এই বেনারসিতে। বোঝাই যাচ্ছে, দেখতে অন্যরকম হবেই। নানা রঙ, নানা শেডে থ্রি-ডি এফেক্ট দেওয়া হয়। কনট্রাস্ট ব্লাউজে আজকের আধুনিকাদের পছন্দের তালিকায় প্রথমেই রয়েছে এই বেনারসি। আবার যাঁরা জমকালো সাজ ভালবাসেন, সেই সব আধুনিকাদের জন্য রয়েছে জরির ব্রোকেডের কাজ করা হালকা টিস্যু বেনারসি। গাঢ় থেকে হালকা নানা রঙের কনট্রাস্টে তৈরি শিফন বা টিস্যু বেনারসিগুলো যে কোনও আউটিংয়েই পারফেক্ট। আবার ধরুন, শিফনে স্বচ্ছন্দ নন। পার্টিতেও যান না বিশেষ। অথচ রোজ ক্লাস নিতে যেতে হয় ইস্কুলে-কলেজে বা দরকারি সেমিনারে, সাহিত্যবাসরে। এমন নারীদের পছন্দের কথাও ভেবেছেন কেয়া ও মিষ্টি। সাজিয়ে দিয়েছেন কটন বেনারসি৷ ঢাকাই জামদানি আর বেনারসির সংমিশ্রণে বানানো ঢাকাই বেনারসি শাড়ি কিন্তু এযুগের কর্মরতা মহিলাদের প্রথম পছন্দ। সেমি ট্রান্সপারেন্ট এই বেনারসির শরীরে জামদানি কাজের পাশাপাশি পাড়ে আর আঁচলে তুলে ধরা হয়েছে বেনারসি ফ্যাব্রিকের নকশা। সংযম আর আভিজাত্যের সুষম মিশ্রণ এই বেনারসিগুলো বঙ্গললনাদের চোখ টানবেই।

জেনে নিন বেনারসির নানা রঙ-রূপ

বেনারসি মানেই হল আদ্যোপান্ত একটা শিল্পকর্ম। সাদা ক্যানভাসে নানা রঙ ছড়িয়ে যেমন রূপকথা তৈরি হয়, বেনারসিও ঠিক তেমন। শাড়ির ধরন, নকশা, কারুকাজের উপর ভিত্তি করে এর নানা নাম—জংলা, বেল স্যাটিন, স্বর্ণকাতান, চান্দেরি, রগ্যাঞ্জা কাতান, পাটোলা, জুট কাতান ইত্যাদি। কাতান হল একধরনের সুতো যা নানা রকম সিল্কের সুতো পেঁচিয়ে তৈরি হয়। কাতান বেনারসির ফ্যাব্রিক হাল্কা হয়। তুলনায় স্যাটিন বেনারসি অনেকবেশি ওজনদার।

MIDNIGHT BLUE COLOUR KATAN SILK BENARASI SAREE | Keya Seth Exclusive | Saree, Designer blouse patterns, Midnight blue color

অরগ্যাঞ্জা হল ব্রোকেডের বেনারসি। ওজনে হাল্কা ও পাতলা হয়। নানারকম মোটিফ বোনা হয় এই বেনারসিতে। যে কোনও অনুষ্ঠানে নজর কাড়ে এই বেনারসি। পশ্চিমা বেনারসি আবার তৈরি হয় খুবই উন্নতমানের সিল্ক দিয়ে। হিমালয় পার্বত্য অঞ্চলে যে ছাগল পাওয়া যায় তার লোম থেকে তৈরি হয় এমন সিল্ক। এই বেনারসিও পাতলা, ওজনে হাল্কা। জরি দিয়ে নানা কারুকাজ করা হয়। কারোয়া বেনারসিতে থাকে এমব্রয়ডারির কাজ। কারোয়া বুটি বেনারসি দেখতেও অন্যরকম কারণ শাড়ির জমিতে নানা রকম প্যাটার্নের বুটি থাকে। ফ্লোরাল মোটিফ এই বেনারসির বৈশিষ্ট্য। জারদৌসি বেনারসিতে আবার মেটালিক বা ধাতব সুতো দিয়ে এমব্রয়ডারি করা হয়। রেট্রো বেনারসির কদরই আলাদা। নানারকম সুতোর কাজে নকশা তোলা হয়। পাড় হয় সোনালি বা রুপোলি জরির। সাধারণত কনট্রাস্ট রঙে এই বেনারসির কারুকাজ করা হয়। ব্রোকেড ব্লাউজের সঙ্গে যে কোনও অনুষ্ঠানেই মানিয়ে যায় এই বেনারসি। ব্রোকেড বেনারসির কথা আবার এসেছে ইতালিয় শব্দ ‘ব্রোকো’ থেকে। এর মানে হল টুইস্টেড থ্রেড। নানারকম সুতোর কাজ করা হয় এই বেনারসিতে। সবসময় সোনালি বা রুপোলি জরি ব্যবহার করা হয় তেমনটা নয়। তবে সুতোর বুনন এমন হয় যে এই বেনারসি সহজেই নজর টানে। শাড়ি শুধু নয় ব্রোকেডের কাজের কুর্তা, জ্যাকেট তৈরি হয়। ইন্দো-ওয়েস্টার্ন ফ্যাশনে ব্রোকেডের কাজই বেশি চলছে এখন। মাদুরাই সিল্ক দিয়ে তৈরি মাদুরাই বেনারসি দক্ষিণের শিল্পকর্মকে ফুটিয়ে তোলে। খুব ঘন সুতোর কাজ এবং ফ্লোরাল বা ফিগার মোটিফ থাকে এই শাড়িতে। শাড়ির পাড় খুব বেশি চওড়া হয় না। বেনারসির ঘরানায় কুলীন বলা চলে ঘিচা বেনারসিকে। খুব ঘন সোনালি জরির কাজ এই বেনারসিকে জমকালো করে তোলে। তবে শাড়ি ওজনে হাল্কা। ঘিচা ফ্যাব্রিকের কারণে খুবই আকর্ষণীয় এই বেনারসি। ফ্লোরাল, অ্যানিমাল মোটিফ থাকে শাড়িতে, জিওমেট্রিক্যাল প্যাটার্নও বোনা হয়। সান্ধ্যপার্টি, বিয়ের আসর বা যে কোনও অনুষ্ঠানে ঘিচা বেনারসি রাজকীয় লুক নিয়ে আসে। সিলভার বেনারসি মানেই আভিজাত্য। রুপোলি জরির কাজে নকশা তোলা হয়। খুব সূক্ষ্ম হাতে কাপড় বুনতে হয়। রূপোর জল করা সুতোর বুনন যদি হয় তাহলে আগে সুতোকে নরম করে নিতে হয়। এই ধরনের বেনারসি আর্টিস্টিক লুক নিয়ে আসে। বাঙালি বিয়েকে রাজকীয় মেজাজ দিতে রয়্যাল বেনারসিও এক্সক্লুসিভ। মুঘল যুগের ওয়াল পেন্টিং দেখে নকশা তোলা হয় এই বেনারসিতে। খুবই হাল্কা ওজনের, কিন্তু ঘন কারুকাজের এই বেনারসি বাঙালি কনেকে দেবে ব্যতিক্রমী লুক। স্বর্ণসুতো বেনারসি হল পুরাণের স্বর্ণবস্ত্রের মতো। পুরাণের সিল্কবস্ত্রের উপর যেমন ভাবে সোনার সুতোয় নকশা তোলা হত। এই ধরনের বেনারসিতে তেমনভাবেই সোনার জল করা সুতোয় সূক্ষ্ম কারুকাজ করা হয়। দামেও বেশি, ডিজাইনেও সেরা। বেনারসের কয়েকজন কারিগরই জানেন এমন সোনার সুতোর কাজ। স্বর্ণসুতা বেনারসিতে এখনও বেনারসের গন্ধ জড়িয়ে আছে। ঘারচোলা বেনারসি গুজরাটের ট্রাডিশন। নানা রঙের সুতো ও জরির কাজ থাকে এই বেনারসিতে। শিল্পকর্ম একটু জটিল। তাই এক সপ্তাহ থেকে ১২ দিন অবধি সময় লাগে একটি শাড়ি বুনতে। যত সূক্ষ্ম কাজ ততই তার মূল্য বেশি। কাঞ্জিরোসি কেয়া শেঠের নিজস্ব ওয়ার্কশপেই তৈরি হয়। কাঞ্জিভরম সিল্কের উপরে বেনারসির ফ্যাব্রিক এই শাড়িকে অন্যমাত্রায় নিয়ে গেছে। রঙে এবং কারুকাজে আকর্ষণীয়, ওজনেও হাল্কা। যে কোনও অনুষ্ঠানে ফ্যাশনিস্তাদের পছন্দ এই বেনারসি। ডিজাইনার জারদৌসি বেনারসিও কেয়া শেঠের সম্ভারের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। আমাদের ওয়ার্কশপে তৈরি করা হয় এই ধরনের ডিজাইনার বেনারসি। বিয়ে, রিসেপশন বা যে কোনও অনুষ্ঠানে ফ্যাশনেবল লুক চাইলে এই বেনারসি ট্রাই করা যেতেই পারে। এর কারুকাজ অন্যরকম, ওজনেও হাল্কা। প্যাচওয়ার্ক ব্লাউজ, সেমি-পাফ স্লিভ এই বেনারসির সঙ্গে বেশ মানানসই। পাটোলা সিল্ক দিয়ে তৈরি বেনারসি। ইক্কতের কাজ একে ফ্যাশনেবল করে তুলেছে। খুব সূক্ষ্ম জরির কাজ থাকে এই বেনারসি শাড়িতে।

বেনারসি কার্নিভাল

এমনই ৬০ রকমের, সংখ্যায় প্রায় ৪০ হাজার বেনারসি শাড়ির কালেকশন নিয়ে শুরু হয়েছে কেয়া শেঠ এক্সক্লুসিভের বেনারসি কার্নিভাল। শীতকাল মানেই তো কার্নিভালের মরসুম। কত রকমের কার্নিভালই তো হয় এই সময়ে। কেয়া শেঠের এই বিশেষ কার্নিভাল সেজেছে, বেনারসি দিয়ে। ২০ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে এই কার্নিভাল, চলবে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত। হাজারো বেনারসি দেখতে একবার পৌঁছে যেতেই পারেন 'কেয়া শেঠ এক্সক্লুসিভ', কালীঘাটে। শুধু চোখের দেখা নয়, বেনারসি শাড়ি নিয়ে হাজারো তথ্যও জানে পারবেন কার্নিভালে। আর পছন্দ হলে তো সংগ্রহ করতেই পারবেন, যে কোনও ধরনের বেনারসি। তবে শুধু শাড়ি নয়, সম্ভারে রয়েছে বেনারসি দিয়ে তৈরি নানান ইন্দো-ওয়েস্টার্ন এবং ওয়েস্টার্ন পোশাকও। রয়েছে বেনারসি দিয়ে তৈরি ছেলেদের পোশাকও। বেনারসি নিয়ে এই অভিনব কার্নিভালে সকলকে স্বাগত।

আরও পড়ুন: বিয়ের মরশুমে স্বপ্ন আর সাধের মেলবন্ধন, এবার বেনারসির বিবর্তন দেখুক বাংলা


```