
শেষ আপডেট: 21 November 2020 15:21
তবে কেয়া ও মিষ্টি অনন্য শুধু কালেকশনে নয়, ভাবনাতেও। যেমন বিয়ের বেনারসি কিনতে নির্দিষ্ট ফ্লোরে উঠলেই আপনাকে সপরিবারে আমন্ত্রণ জানাবে একটি পরিবার। না না, সত্যি কোনও পরিবার নয়, ম্যানিকুইনের পরিবার। সে পরিবারে রয়েছে বউ, বর, মা, বাবা, শ্বশুর, শাশুড়ি, ভাই, বোন—মিলিয়ে বেশ কয়েক জন। তাদের পোশাক দেখেই আপনি বেছে ফেলতে পারবেন বিয়েতে কনের বেনারসি-সহ গোটা পরিবারের প্যাকেজ! সবটা মিলিয়ে ১২ জনের বিয়ের পোশাকের প্যাকেজ শুরু ৫০ হাজার টাকা থেকে।
মিষ্টি শেঠের কথায়, “আমাদের মধ্যবিত্ত বাঙালি পরিবারে মেয়ের বিয়ে একটা বড় ব্যাপার। তাতে কোনও খামতি রাখতে চান না মা-বাবা। তাই মেয়ের শাড়ি-গয়নাই সবচেয়ে প্রাধান্য পায় স্বাভাবিক ভাবেই। আর তা করতে গিয়ে দেখা যায়, অনেক সময়েই বাজেটের অনেকটাই বেরিয়ে যায় কনের বেনারসি কিনতে গিয়ে। পরিবারের বাকি সদস্যদের পোশাকে তখন আপস করা শুরু হয়। এমনটা হবে না এখানে এসে এই প্যাকেজ নিলে। সুন্দর করে সকলের পোশাক সাজিয়ে দিয়েছি আমরা। যে যেমন খুশি মিলিয়ে-মিশিয়েও নিতে পারেন।”
মোট কথা, বেনারসি থেকে কেউই বঞ্চিত হবেন না বিশেষ দিনে, এই ভাবনা নিয়েই নিত্যনতুন সৃষ্টিতে মেতে রয়েছেন কেয়া এবং মিষ্টি। যেমন ধরুন, বিয়ের রাত্তিরে কনের জন্য যদি আসে ঘন মুঘল কাজের মিনাকারি লাল কাতান বেনারসি, তাহলে কনের মা বা বরের মায়ের জন্য চাই সাদা বা অফ হোয়াইট জমির কোরিয়াল বেনারসি। আর কনের ছোটো বোনটি, সেই বা কী দোষ করল! হালকা নরম হাল ফ্যাশনের জর্জেট বা টিস্যু বেনারসি ছাড়া তার সাজই বা সম্পূর্ণ হয় কী করে! কোরিয়াল বেনারসির মজাই হল হালকা জমির উপর কনট্রাস্ট পাড় আর আঁচল। চিরায়ত লাল সাদা কম্বিনেশনের কোরিয়াল বেনারসি তো অনেক আছে বাজারে।
মিষ্টি শেঠ বলছেন, “আমরা চেষ্টা করেছি একেবারে অন্য আঙ্গিকে নানা রঙের কনট্রাস্টে সাজিয়ে তুলতে কোরিয়াল বেনারসির শরীর। আধুনিকা মা কিংবা শাশুড়িদের পছন্দকে মাথায় রেখে তুলে এনেছি নানারকম প্যাস্টেল শেডের আনকমন কনট্রাস্টও। টিস্যু বেনারসিতেও রঙের কম্বিনেশন নিয়ে অসাধারণ কিছু কাজ করেছেন আমাদের তাঁতিরা। সিল্কের মধ্যে আমরাই প্রথম নিয়ে এসেছি ম্যাট জরির সূক্ষ্ম কাজ। সেকেলে বেণারসি-সুলভ অতিরিক্ত চাকচিক্য ছেঁটে ফেলায় নতুন ধরণের এই বেনারসির আবেদন হয়ে উঠেছে অনেক বেশি মেধাবী আর এলিগেন্ট।”
স্কুলে বা অফিসেও চলুক বেনারসির রাজত্ব, সারা বছর
আবার যাঁরা জমকালো সাজ ভালবাসেন, সেই সব আধুনিকাদের জন্য রয়েছে জরির ব্রোকেডের কাজ করা হালকা টিস্যু বেনারসি। গাঢ় থেকে হালকা নানা রঙের কনট্রাস্টে তৈরি শিফন বা টিস্যু বেনারসিগুলো যে কোনও আউটিংয়েই পারফেক্ট।
আবার ধরুন, শিফনে স্বচ্ছন্দ নন। পার্টিতেও যান না বিশেষ। অথচ রোজ ক্লাস নিতে যেতে হয় ইস্কুলে-কলেজে বা দরকারি সেমিনারে, সাহিত্যবাসরে। এমন নারীদের পছন্দের কথাও ভেবেছেন কেয়া ও মিষ্টি। সাজিয়ে দিয়েছেন কটন বেনারসি৷ ঢাকাই জামদানি আর বেনারসির সংমিশ্রণে বানানো ঢাকাই বেনারসি শাড়ি কিন্তু এযুগের কর্মরতা মহিলাদের প্রথম পছন্দ। সেমি ট্রান্সপারেন্ট এই বেনারসির শরীরে জামদানি কাজের পাশাপাশি পাড়ে আর আঁচলে তুলে ধরা হয়েছে বেনারসি ফ্যাব্রিকের নকশা। সংযম আর আভিজাত্যের সুষম মিশ্রণ এই বেনারসিগুলো বঙ্গললনাদের চোখ টানবেই।
জেনে নিন বেনারসির নানা রঙ-রূপ
ব্রোকেড বেনারসির কথা আবার এসেছে ইতালিয় শব্দ ‘ব্রোকো’ থেকে। এর মানে হল টুইস্টেড থ্রেড। নানারকম সুতোর কাজ করা হয় এই বেনারসিতে। সবসময় সোনালি বা রুপোলি জরি ব্যবহার করা হয় তেমনটা নয়। তবে সুতোর বুনন এমন হয় যে এই বেনারসি সহজেই নজর টানে। শাড়ি শুধু নয় ব্রোকেডের কাজের কুর্তা, জ্যাকেট তৈরি হয়। ইন্দো-ওয়েস্টার্ন ফ্যাশনে ব্রোকেডের কাজই বেশি চলছে এখন।
মাদুরাই সিল্ক দিয়ে তৈরি মাদুরাই বেনারসি দক্ষিণের শিল্পকর্মকে ফুটিয়ে তোলে। খুব ঘন সুতোর কাজ এবং ফ্লোরাল বা ফিগার মোটিফ থাকে এই শাড়িতে। শাড়ির পাড় খুব বেশি চওড়া হয় না।
বেনারসির ঘরানায় কুলীন বলা চলে ঘিচা বেনারসিকে। খুব ঘন সোনালি জরির কাজ এই বেনারসিকে জমকালো করে তোলে। তবে শাড়ি ওজনে হাল্কা। ঘিচা ফ্যাব্রিকের কারণে খুবই আকর্ষণীয় এই বেনারসি। ফ্লোরাল, অ্যানিমাল মোটিফ থাকে শাড়িতে, জিওমেট্রিক্যাল প্যাটার্নও বোনা হয়। সান্ধ্যপার্টি, বিয়ের আসর বা যে কোনও অনুষ্ঠানে ঘিচা বেনারসি রাজকীয় লুক নিয়ে আসে।
সিলভার বেনারসি মানেই আভিজাত্য। রুপোলি জরির কাজে নকশা তোলা হয়। খুব সূক্ষ্ম হাতে কাপড় বুনতে হয়। রূপোর জল করা সুতোর বুনন যদি হয় তাহলে আগে সুতোকে নরম করে নিতে হয়। এই ধরনের বেনারসি আর্টিস্টিক লুক নিয়ে আসে।
বাঙালি বিয়েকে রাজকীয় মেজাজ দিতে রয়্যাল বেনারসিও এক্সক্লুসিভ। মুঘল যুগের ওয়াল পেন্টিং দেখে নকশা তোলা হয় এই বেনারসিতে। খুবই হাল্কা ওজনের, কিন্তু ঘন কারুকাজের এই বেনারসি বাঙালি কনেকে দেবে ব্যতিক্রমী লুক।
স্বর্ণসুতো বেনারসি হল পুরাণের স্বর্ণবস্ত্রের মতো। পুরাণের সিল্কবস্ত্রের উপর যেমন ভাবে সোনার সুতোয় নকশা তোলা হত। এই ধরনের বেনারসিতে তেমনভাবেই সোনার জল করা সুতোয় সূক্ষ্ম কারুকাজ করা হয়। দামেও বেশি, ডিজাইনেও সেরা। বেনারসের কয়েকজন কারিগরই জানেন এমন সোনার সুতোর কাজ। স্বর্ণসুতা বেনারসিতে এখনও বেনারসের গন্ধ জড়িয়ে আছে।
ঘারচোলা বেনারসি গুজরাটের ট্রাডিশন। নানা রঙের সুতো ও জরির কাজ থাকে এই বেনারসিতে। শিল্পকর্ম একটু জটিল। তাই এক সপ্তাহ থেকে ১২ দিন অবধি সময় লাগে একটি শাড়ি বুনতে। যত সূক্ষ্ম কাজ ততই তার মূল্য বেশি।
কাঞ্জিরোসি কেয়া শেঠের নিজস্ব ওয়ার্কশপেই তৈরি হয়। কাঞ্জিভরম সিল্কের উপরে বেনারসির ফ্যাব্রিক এই শাড়িকে অন্যমাত্রায় নিয়ে গেছে। রঙে এবং কারুকাজে আকর্ষণীয়, ওজনেও হাল্কা। যে কোনও অনুষ্ঠানে ফ্যাশনিস্তাদের পছন্দ এই বেনারসি।
ডিজাইনার জারদৌসি বেনারসিও কেয়া শেঠের সম্ভারের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। আমাদের ওয়ার্কশপে তৈরি করা হয় এই ধরনের ডিজাইনার বেনারসি। বিয়ে, রিসেপশন বা যে কোনও অনুষ্ঠানে ফ্যাশনেবল লুক চাইলে এই বেনারসি ট্রাই করা যেতেই পারে। এর কারুকাজ অন্যরকম, ওজনেও হাল্কা। প্যাচওয়ার্ক ব্লাউজ, সেমি-পাফ স্লিভ এই বেনারসির সঙ্গে বেশ মানানসই।
পাটোলা সিল্ক দিয়ে তৈরি বেনারসি। ইক্কতের কাজ একে ফ্যাশনেবল করে তুলেছে। খুব সূক্ষ্ম জরির কাজ থাকে এই বেনারসি শাড়িতে।
বেনারসি কার্নিভাল