একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য অনুযায়ী, সাঁতার কাটার সময় হঠাৎ নিস্তেজ হয়ে পড়েন জুবিন। মুখ জলের দিকে করে ভেসে থাকতে দেখা যায় তাঁকে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে উদ্ধার করে ইয়টে তোলা হয়।
.jpg.webp)
জুবিন গর্গ
শেষ আপডেট: 14 January 2026 18:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিঙ্গাপুরে জনপ্রিয় গায়ক-গীতিকার জুবিন গর্গের (Zubeen Garg Death) মৃত্যুকে ঘিরে তদন্তে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসছে। বুধবার সিঙ্গাপুরের আদালতে (Singapore Court) জানানো হয়েছে, ইয়ট পার্টির সময় দ্বিতীয়বার লাইফ জ্যাকেট (Life Jacket) পরতে অস্বীকার করেছিলেন শিল্পী। সেই সঙ্গেই উঠে এসেছে তাঁর শরীরে অত্যধিক মদের উপস্থিতির তথ্যও।
৫২ বছর বয়সি জুবিন গর্গ গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর একটি ইয়ট পার্টিতে (Singapore Party) যোগ দিয়েছিলেন। তার পরদিনই সিঙ্গাপুরে নর্থ ইস্ট ইন্ডিয়া ফেস্টিভ্যালে তাঁর অনুষ্ঠান করার কথা ছিল। কিন্তু তার আগের দিনই জলে ডুবে মৃত্যু হয় তাঁর।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রধান তদন্তকারী আধিকারিক আদালতে জানিয়েছেন, প্রথমবার সাঁতার কাটার সময় জুবিন লাইফ জ্যাকেট (Life Jacket) পরেছিলেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর সেটি খুলে ফেলেন। ইয়টে ফিরে এসে তিনি ক্লান্ত বলেও জানান। পরে আবার জলে নামার সিদ্ধান্ত নেন জুবিন। তখন তাঁকে ছোট আকারের আরেকটি লাইফ জ্যাকেট দেওয়া হলেও তিনি তা পরতে অস্বীকার করেন। কোনও সুরক্ষা ছাড়াই তিনি লাজারাস আইল্যান্ডের দিকে একা সাঁতার কাটতে শুরু করেন।
একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য অনুযায়ী, সাঁতার কাটার সময় হঠাৎ নিস্তেজ হয়ে পড়েন জুবিন। মুখ জলের দিকে করে ভেসে থাকতে দেখা যায় তাঁকে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে উদ্ধার করে ইয়টে তোলা হয়। ইয়টে তোলার পর কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন (CPR) দেওয়া হলেও সেদিনই তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
আদালতে জানানো হয়েছে, জুবিন গর্গের হাইপারটেনশন ও এপিলেপসির পুরনো চিকিৎসা ইতিহাস ছিল। ২০২৪ সালেই তাঁর শেষবার খিঁচুনির সমস্যা হয়েছিল। তবে ঘটনার দিন তিনি নিয়মিত এপিলেপসির ওষুধ খেয়েছিলেন কি না, তা নিশ্চিত করা যায়নি। সাক্ষীদের বক্তব্যও সেই বিষয়ে চূড়ান্ত প্রমাণ দিতে পারেনি বলে আদালতকে জানানো হয়।
ময়নাতদন্তে মৃত্যুর কারণ হিসেবে জলে ডোবার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। শরীরে যে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে, তা উদ্ধার ও সিপিআর দেওয়ার সময়ের বলে জানানো হয়েছে। ফরেনসিক রিপোর্ট অনুযায়ী, তাঁর রক্তে উচ্চ রক্তচাপ ও এপিলেপসির ওষুধের অস্তিত্ব মিলেছে। অন্য কোনও মাদক পাওয়া যায়নি।
তবে টক্সিকোলজি রিপোর্টে উঠে এসেছে, জুবিন গর্গের রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা (Alcohol Level) ছিল প্রতি ১০০ মিলিলিটারে ৩৩৩ মিলিগ্রাম - যা গুরুতর মাত্রার নেশার ইঙ্গিত দেয়। আদালতে জানানো হয়েছে, এই মাত্রার অ্যালকোহল শরীরের সমন্বয় ও প্রতিক্রিয়া ক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে।
ইয়টের ক্যাপ্টেন আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে জানান, যাত্রার সময় দু’বার নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। দ্বিতীয়বার জুবিনকে লাইফ জ্যাকেট ছাড়া জলে নামতে দেখে তিনি তাঁর বন্ধুকে সতর্কও করেছিলেন। ক্যাপ্টেন আরও জানান, জুবিন হাঁটতেও পারছিলেন না এবং বন্ধুদের ধরে ইয়টে উঠছিলেন। অধিকাংশ যাত্রীই সেদিন মদ্যপান করেছিলেন বলেও তাঁর সাক্ষ্যে উঠে এসেছে। সিঙ্গাপুর পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় কোনও ফৌজদারি অপরাধের প্রমাণ মেলেনি।
এদিকে ভারতে জুবিন গর্গের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আলাদা তদন্ত চলছে। অসম পুলিশের সিআইডির অধীনে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে দায়ের হওয়া ৬০টিরও বেশি এফআইআরের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে। এই মামলায় উৎসবের আয়োজক শ্যামকানু মহন্ত, জুবিনের সচিব সিদ্ধার্থ শর্মা এবং দুই ব্যান্ড সদস্য শেখরজ্যোতি গোস্বামী ও অমৃতপ্রভা মহন্তর বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি জুবিনের খুড়তুতো ভাই ও বরখাস্ত পুলিশ আধিকারিক সন্দীপন গর্গের বিরুদ্ধে খুন না হলেও অনিচ্ছাকৃত খুনের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।