সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে বিহারের একটি সরকারি অনুষ্ঠানের ভিডিও। সেখানে দেখা যাচ্ছে, হিজাব পরিহিত এক মহিলা চিকিৎসককে নিয়োগপত্র তুলে দিচ্ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার।

শেষ আপডেট: 16 December 2025 20:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘দঙ্গল’ ছবিতে অভিনয় করে অল্প বয়সেই দেশজুড়ে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন জ়ায়রা ওয়াসীম। পর পর দু’টি হিট ছবিতে অভিনয়ের পর আচমকাই বলিউডকে বিদায় জানান তিনি। তখন জানিয়েছিলেন, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং মানসিক শান্তির খোঁজেই তিনি অভিনয় জগত ছাড়ছেন। সেই সিদ্ধান্তের পর থেকে লাইমলাইট থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন জ়ায়রা। খুব কম ক্ষেত্রেই প্রকাশ্যে মতামত জানান। তবে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের একটি সাম্প্রতিক ঘটনার ভিডিও দেখে নীরব থাকতে পারলেন না প্রাক্তন এই অভিনেত্রী।
সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে বিহারের একটি সরকারি অনুষ্ঠানের ভিডিও। সেখানে দেখা যাচ্ছে, হিজাব পরিহিত এক মহিলা চিকিৎসককে নিয়োগপত্র তুলে দিচ্ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। সেই সময় মঞ্চের সামনে এগিয়ে আসতেই মুখ্যমন্ত্রী আচমকাই তাঁর দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করেন, “এটা কী?” এরপর তিনি খানিকটা ঝুঁকে ওই চিকিৎসকের হিজাব টেনে নামানোর চেষ্টা করেন। (ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি দ্য ওয়াল)। ঘটনার আকস্মিকতায় হতভম্ব হয়ে যান ওই মহিলা। পরিস্থিতি সামাল দিতে তাঁকে হাত ধরে দ্রুত মঞ্চ থেকে নামিয়ে নিয়ে যান উপস্থিত কর্মীরা।
ভিডিওতে আরও দেখা যায়, উপ-মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে তাঁকে থামানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু ততক্ষণে সেই মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি হয়ে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই বিতর্ক দানা বাঁধে। বিরোধী দলগুলি এই ঘটনাকে নারীর সম্মান এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর আঘাত বলে আখ্যা দেয়।
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন জ়ায়রা ওয়াসীম। সমাজমাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি লেখেন, একজন মহিলার আত্মসম্মান কোনওভাবেই খেলার পুতুল হতে পারে না। বিশেষ করে প্রকাশ্য মঞ্চে এমন আচরণ মেনে নেওয়া যায় না বলেই মন্তব্য করেন তিনি। একজন মুসলিম মহিলা হিসাবে অন্য মুসলিম মহিলার পর্দা এভাবে সরিয়ে দেওয়া এবং তার সঙ্গে থাকা হাসি তাঁকে গভীরভাবে আহত করেছে বলে জানান জ়ায়রা। তাঁর কথায়, "ক্ষমতা থাকলেই সীমা লঙ্ঘনের অধিকার জন্মায় না"। এই ঘটনার জন্য নীতীশ কুমারের নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া উচিত বলেও দাবি করেন তিনি।
জ়ায়রার মন্তব্যের পর বিষয়টি আরও জোরালো হয়। আরজেডি এবং কংগ্রেসের মতো বিরোধী দলগুলিও মুখ্যমন্ত্রীর আচরণের তীব্র সমালোচনা করে। তাঁদের দাবি, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে এমন ব্যবহার কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।