
শেষ আপডেট: 10 October 2023 19:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডিপ্রেশন। না, এর বাংলা মন খারাপ নয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় ডিপ্রেশনের বাংলা হল অবসাদ। মানসিক ব্যাধিগুলির মধ্যে অন্যতম ভয়ঙ্কর হল এই অসুখ। অবসাদে ভোগা মানুষজন তিলে তিলে শেষ হয়ে যেতে শুরু করেন, কেউ কেউ আবার আক্ষরিক অর্থেই শেষ করে দেন নিজেদের। সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে তাবড় তারকারা, অনেকেই ডিপ্রেশনে ভুগেছেন। বেরিয়েও এসেছেন অনেকেই। আমির খানের কন্যা ইরা খানও ব্যতিক্রম নন। বহু বছর ধরেই অবসাদের সঙ্গে যুদ্ধ করে চলেছেন তিনি। আজ মঙ্গলবার, বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসে বাবা আমিরের সঙ্গে ভিডিও বার্তায় ফের এই প্রসঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন ইরা। সেই সঙ্গে থেরাপি নিয়ে তিনি কীভাবে উপকৃত হয়েছেন, জানিয়েছেন সেকথাও।
ইরা অ্যান্ড আমির খান প্রোডাকশন্সের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে শেয়ার করা হয়েছে ভিডিওটি। সেখানে ক্যামেরার সামনেই বাবার সঙ্গে থেরাপির উপকারিতা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন ইরা। প্রসঙ্গত, মানসিক অবসাদকে অনেকেই হেলায় উড়িয়ে দেন, থেরাপি কিংবা কাউন্সেলিং নিতেও রাজি হন না তাঁরা। তাঁরা মনে করেন, মানসিক অসুখ আসলে পাগলামির নামান্তর। তা নিয়ে চিকিৎসা? নৈব নৈব চ। সেই মিথই ভাঙতে চেয়েছেন বাবা-মেয়ে জুটি। আমির জানিয়েছেন, ঠিক যেভাবে আমরা শিক্ষক, চিকিৎসক কিংবা ছুতোর মিস্ত্রির কাছে নিজ নিজ ক্ষেত্রে সাহায্য চেয়ে থাকি, প্রয়োজনে থেরাপির সাহায্য নেওয়াও ঠিক একই রকমের স্বাভাবিক একটা ব্যাপার।
'আমাদের যদি কখনও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য সাহায্যের প্রয়োজন হয়, তাহলে দ্বিধাহীনভাবে এমন একজনের কাছ থেকে সেই সাহায্য নেওয়া উচিত, যিনি প্রশিক্ষিত এবং পেশাদার,' জানিয়েছেন ইরা। আমির জানিয়েছেন, তিনি এবং ইরা বছরের পর বছর ধরে থেরাপি নিচ্ছেন এবং তাতে উপকার পেয়েছেন। 'যদি আপনারও মনে হয়, আপনি মানসিক টানাপড়েনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন, তাহলে পেশাদার এবং প্রশিক্ষিত কারও সাহায্য নিতে পারেন, এতে কোনও লজ্জা নেই,' জানিয়েছেন তিনি।
View this post on Instagram
শুধু পোস্ট হিসাবে নয়, নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতেও ভিডিওটি শেয়ার করেছন ইরা। সঙ্গে লিখেছেন, 'কারণ থেরাপি নেওয়ার একমাত্র মানদণ্ড হল মানুষ হওয়া।' পরের স্টোরিতে অনুগামীদের কাছে তিনি আর্জি জানিয়েছেন, ভ্রান্ত ধারণা ভেঙে বেরিয়ে এসে প্রয়োজনে চিকিৎসকদের সাহায্য নিতে। এরপর থেরাপির উপকারিতা নিয়ে মুখ খুলে পোস্ট করেছেন যাঁরা, তাঁদের অনেকের পোস্ট শেয়ারও করেছেন ইরা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন অভিনেতা আলি ফজল এবং বীর দাস।
এর আগে বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবসে একটি সাক্ষাৎকারে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে তাঁর নিরন্তর লড়াইয়ের কথা শেয়ার করেছিলেন ইরা। সবাই আত্মহত্যা শব্দটি উচ্চারণ করতে ভয় পায় কারণ মৃত্যু একটি ভয় পাওয়ার মতোই বিষয়, সেটা বোঝা যাচ্ছে। কিন্তু ঠিক এই কারণেই আমাদের এটা নিয়ে কথা বলা শুরু করা উচিত। যখন আপনি বুঝতে পারবেন এটা আসলে কী, বুঝতে পারবেন যে সেটা নিয়ে কিছু করা যায়, তখনই আপনি বুঝতে পারবেন যে আগাম সতর্কতা না দিয়ে এরকম কিছু ঘটে না। এটা নিয়ে অনেক ভ্রান্ত ধারণা আছে, জ্ঞানের অভাবও আছে,' বলেছিলেন আমির কন্যা।
প্রসঙ্গত, আমির কিংবা ইরাই শুধু নন, বলিপাড়ার বহু সেলেবই অবসাদে আক্রান্ত ছিলেন। দীপিকা পাডুকোন থেকে শুরু করে শাহরুখ খান, বা অমিতাভ বচ্চন, সঞ্জয় দত্তের মতো তারকারা ডিপ্রেশনের শিকার হয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট কিংবা সাক্ষাৎকার, ট্যাবু ভেঙে সর্বত্রই এ ব্যাপারে খোলাখুলি আলোচনা করতে পিছপা হননি তাঁরা।