ঠিক কী ঘটেছে? জানা গিয়েছে, এ দিন কলকাতার ট্রপিকাল মেডিসিন হাসপাতালে শ্রীময়ীর অশীতিপর দিদাকে নিয়ে আউটডোরে দেখাতে আসেন কাঞ্চন-শ্রীময়ী। সেখানেই আচমকাই মেডিসিন বিভাগের কর্মরত চিকিৎসকের সঙ্গে বচসায় জড়ান অভিনেতা। অভিযোগকারী চিকিৎসকের বক্তব্য, কাঞ্চন নিজের ক্ষমতা প্রয়োগ করে বাজে ব্যবহার করেছেন।
.png.webp)
শেষ আপডেট: 10 July 2025 01:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের বিতর্কে নাম জড়াল কাঞ্চন মল্লিকের। কলকাতার ট্রপিকাল মেডিসিন হাসপাতালের আউটডোর বিভাগে এক চিকিৎসককে নিগ্রহের অভিযোগ উঠল অভিনেতা-বিধায়কের বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়েছে স্বাস্থ্যভবনে। স্বাস্থ্যভবন সূত্রের খবর, অভিযোগ মিলেছে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঠিক কী ঘটেছে? জানা গিয়েছে, এ দিন কলকাতার ট্রপিকাল মেডিসিন হাসপাতালে শ্রীময়ীর অশীতিপর দিদাকে নিয়ে আউটডোরে দেখাতে আসেন কাঞ্চন-শ্রীময়ী। সেখানেই আচমকাই মেডিসিন বিভাগের কর্মরত চিকিৎসকের সঙ্গে বচসায় জড়ান অভিনেতা। অভিযোগকারী চিকিৎসকের বক্তব্য, কাঞ্চন নিজের ক্ষমতা প্রয়োগ করে বাজে ব্যবহার করেছেন। ডাক্তার জানিয়েছিলেন,একটি শিশুকে তিনি দেখছেন। তাঁকে দেখে কাঞ্চনের আত্মীয়কে দেখবেন। আর এতেই নাকি রেগে যান বিধায়ক। তাঁর নাকি দাবি ছিল আগে তাঁর আত্মীয়কে দেখে দিতে হবে।
প্রসঙ্গে কাঞ্চন মল্লিকের সঙ্গে দ্য ওয়ালের তরফে যোগাযোগ করা হলে সুবিধে পাওয়ার অভিযোগকে খারিজ করে তিনি বলেন, "শ্রীময়ীর দিদা আসানসোলে থাকেন ছিয়াশি বছর বয়স তাঁর। ওঁকে ট্রপিক্যাল মেডিসিনে ভর্তি করা হয়। ত্বকের সমস্যা হয়েছিল। তারপর উনি সুস্থ হয়ে ওঠেন। মে মাসে ওঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আজ ওঁর চেকআপ ছিল। আসানসোল থেকে এসেছিলেন দেখাতে। আমি আর শ্রীময়ীই নিয়ে যাই। ওপিডিতে দেখার পর ওঁর প্রেশার-সুগারের কিছু সমস্যা ছিল। আমাদের বলা হয় মেডিসিন বিভাগে নিয়ে যেতে। সেই মতোই নিয়ে যাওয়া হয়। আউটডোরে টিকিট কেটে লাইন দিয়ে দেখাই। কোনও সুবিধে নিইনি, দাবি করিনি। চিকিৎসক মেহবাবুর রহমানকে এরপর আমি অনুরোধ করি দিদার প্রেসার মেপে দেওয়ার জন্য। উল্টে তিনি আমায় বলেন, "আমি কী করব সেটা কি আপনি ঠিক করে দেবেন?" শ্রীময়ী তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন, 'সুগারের একটা ওষুধ কি দিদার চলবে?' সেই চিকিৎসক পাল্টা আমার স্ত্রীর দিকে তেড়ে গিয়ে বলে ওঠেন, 'আপনি কি ডাক্তার? আপনার কি ডিগ্রি আছে? আপনি সব ঠিক করে দেবেন?'"
কাঞ্চন যোগ করেন, "স্ত্রীর প্রতি এ হেন আচরণ মেনে নেওয়া তো সম্ভব ছিল না! অবশ্যই আমি প্রতিবাদ করেছি, তবে হাতাহাতি হয়নি। আমার কী দোষ? আমি জনপ্রতিনিধি, বিধায়ক বলেই কি আমার সঙ্গে, আমার পরিবারের সঙ্গে যা ইচ্ছে তাই করা যায়? ওই চিকিৎসকের কি বাড়িতে কেউ নেই? বা থাকলেও উনি কি ওর বাড়ির লোকেদের সঙ্গেও এভাবে কথা বলেন?"
যদিও ওই চিকিৎসকের দাবি, তিনি দুর্ব্যবহার করেননি। তাঁর কথায়, "উনি কেন রেগেছেন আমি বুঝিনি। তবে ওঁর ব্যবহার খারাপ লেগেছে। ওঁর রোগী এসেছিলেন…আমি বুঝলাম না কেন রেগে গিয়েছে। একজন চিকিৎসকের সঙ্গে এমন ভাবে কথা বলা যায় না।”
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ওয়েস্টবেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট। তাঁদের তরফে জানানো হয়েছে, 'আমরা চাই নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা এবং পেশাগত সম্মানের সুরক্ষা। থ্রেট কালচার আর বরদাস্ত করা হবে না।' ফ্রন্ট থেকে স্পষ্ট বলে দেওয়া হয়, এই প্রতিবাদ শুধু ডাক্তারদের পেশাগত অধিকারের নয়, এ এক বৃহত্তর লড়াই, যেখানে প্রশ্ন সুষ্ঠু চিকিৎসা পরিকাঠামোর।