কী সেই ইচ্ছে? কেনই বা তাকে ঘিরে জটিলতা তৈরি হয়? ২৬ অগস্টে বাবার জন্মদিনে অকথিত গল্পে ভানু-পুত্র গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায়। শুনলেন দেবশঙ্কর মুখোপাধ্যায়।

স্ত্রী নীলিমাদেবীর সঙ্গে ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়। বিয়ের পর তাঁদের এটিই প্রথম তোলা ছবি।
শেষ আপডেট: 25 August 2025 20:06
বাংলাদেশে থাকতে মাস্টারমশাই বিজ্ঞানী সত্যেন বসুর জন্মদিনে গিয়ে ঢাকাই কুট্টিদের ভাষায় মজার নকশা শুনিয়ে মাত করতেন বটে, কিন্তু নিজের জন্মদিন পালনে এক্কেবারেই মত ছিল না তাঁর।
ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় বলতেন, ‘‘আমাগো আবার জন্মদিন! জন্মদিনে সাহেবদের মতো নকল কইরা কেক কাইট্যা বাঙালি মরছে!’’
তবে জীবনের এক্কেবারে শেষ দিকে এমন ঢাকাইয়া গোঁ-এ প্রভূত চিড় ধরে। সে প্রায় সাত-আট বছরের গপ্পো। তখন তিনি যাত্রা করে বেড়ান। ওই ক’টা বছর তাঁর জন্মদিন ২৬ অগস্ট মানেই, ৪২এ, চারুচন্দ্র অ্যাভিনিউয়ের বাড়ি গমগমিয়ে উঠত! সন্ধে গড়াতেই একে একে হাজির হতেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, অনুপকুমার, রবি ঘোষ, শ্যামল মিত্র থেকে বসুশ্রী-র মালিক মন্টু বসু, এমনকি মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়, পুলিশ কমিশনার রঞ্জিত গুপ্ত—সব মিলিয়ে খান পঁচিশ-তিরিশ জন।
আগের রাত থেকে রান্না করতেন বাড়ির সর্বক্ষণের দেখভালের ‘ম্যানেজার’ যোগেশ্বর আর ‘ভানু প্রিয়া’ নীলিমা (তাঁর স্ত্রী নীলিমার এই নামটি দিয়েছিলেন পাহাড়ী সান্যাল)। পোলাও-মাংস-চপ-দই-মিষ্টি মিলে এলাহি কাণ্ড। জবরদস্ত ধুমধাম হয়েছিল তাঁর ৬০ বছরের পূর্তিতে।
এ বছর তাঁর ১০৫ নম্বর জন্মদিন। তার আগে বাবার জন্মদিনের এমন সব ঘটনা পেড়ে পুত্র গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায় কিন্তু শোনালেন তাঁর জীবনের আরও এক ‘না বলা বাণী’! একটি ছবিকে ঘিরে। যেখানে কিনা এক বিচ্ছু বালকের চরিত্রে জীবনের দ্বিতীয় এবং শেষ বারের মতো পরদায় অভিনয় করেন গৌতম।
বর্ণময় চলচ্চিত্র-জীবনে ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের বহু স্বপ্নই অধরা থেকে গিয়েছে! সত্যজিৎ রায় তাঁকে ডাকেননি। আফসোস ছিল খুব। কাজ করা হয়নি দুই প্রবল বন্ধু মৃণাল সেন-ঋত্বিক ঘটকের সঙ্গেও। সেও আফসোস। হয়নি ‘ভাওয়াল সন্ন্যাসী’-র জীবন নিয়ে সত্যি গল্পের থ্রিলার বানানো। শিবরাম চক্রবর্তীর অনুমতি নিয়েও পিছিয়ে আসতে হয় ‘হর্ষবর্ধন গোবর্ধন’ করা থেকে। ছোঁয়া হয়নি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস নিয়ে ‘পদ্মানদীর মাঝি’ ছবি প্রযোজনার মাইলফলকও!
১৯৬০ সাল। সে বার হঠাৎই বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়ের উপন্যাস ‘কাঞ্চন মূল্য’-র চিত্রনাট্য নিয়ে বাড়িতে হাজির চিত্র পরিচালক নির্মল মিত্র। সঙ্গে চিত্রনাট্যকার সাহিত্যিক নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়। নির্মলের ইচ্ছে, হাসির ছবি করা। এবং ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিয়ে।
কেন? এর আগে ভানুর ‘বরয়াত্রী’ (১৯৫১), ‘টনসিল’ (১৯৫৬) হিট হয়েছে। ‘যমালয়ে জীবন্ত মানুষ’ (১৯৫৮) তো সুপারডুপার হিট। এ দিকে ‘কাঞ্চন মূল্য’ উপন্যাসটি আবার ‘শরৎ স্মৃতি পুরস্কার’ পেয়েছে। সবটা মিলে অনেকের মতো নির্মল মিত্রও দেখলেন, উত্তমকুমার-ছবি বিশ্বাস-বিকাশ রায়ের মতো ‘হিরো’-সম্বলিত ছবি ছাড়াও তো ফিল্ম ‘হিট’ হয়! তখন তড়িঘড়ি স্ক্রিপ্ট নিয়ে ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে গিয়ে প্রস্তাব পাড়েন। শুধু অভিনয় নয়, প্রযোজনা করার আবদারও। কেননা সে সময় অভিনয়ের পাশাপাশি বহু প্রযোজকের যাবতীয় কাজ ভানু করছেন।
স্ক্রিপ্ট শুনলেন ভানু। খুব পছন্দ হল। তার প্রধান কারণ, গল্পে ‘বিধবা বিবাহ’-র ইতিহাস জড়িয়ে। অভিনয় তো বটেই, প্রযোজনাতেও তিনি রাজি। কিন্তু প্রযোজনার কথা শুনেই স্ত্রী নীলিমা প্রবল আপত্তি করে বসলেন।
সময়টা ভাবুন, ১৯৬০। ছবির বাজেট আনুমানিক দেড় লাখ। নীলিমার যুক্তি, এত টাকা জলে গেলে দেখবে কে! গৌতম বলছিলেন, "একে গ্রামের পটভূমিকায় ছবি, মফস্সলের লোকজনই অমন ছবি দেখতে চাইত না। তার ওপর এর ঠিক আগেই বিএল খেমকা-র ‘নির্ধারিত শিল্পীর অনুপস্থিতিতে’ ভাল চলেনি। সেখানে সব কাজে বাবাকে অবাধ ছাড়পত্র দিয়েছিলেন খেমকা। তাতেও।"
বিদূষী স্ত্রীর মতামতে চিরকালই আস্থাশীল ভানু। তাই রাজি হয়েও পরে ‘না’ করে দিলেন তিনিও। গল্পের সেই শুরু। তার পরও কিন্তু ছবি হল। ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়েরই প্রযোজনায় এবং ঘটনাবহুল সব কর্মকাণ্ডের মধ্যে দিয়ে। তাতে স্বয়ং নীলিমাদেবীর ভূমিকা ছিল এক্কেবারে সামনের সারিতে! শুধু তাই নয়, ১৯৬১ সালের ১৪ জুলাই ছবিটি মুক্তি পাওয়ার আগে নানা প্রেক্ষাগৃহে তখন ঝড় তুলছে উত্তম-সৌমিত্র-অরুন্ধতী দেবী অভিনীত তপন সিংহর ‘ঝিন্দের বন্দী’! তা সত্ত্বেও ১০ সপ্তাহ রমরমিয়ে চলেছিল ‘কাঞ্চন মূল্য’!
বন্দ্যোপাধ্যায়-দম্পতিকে ‘না’ থেকে ‘হ্যাঁ’ করাতে মস্ত একটা ‘তাস’ খেলেছিলেন পরিচালক মিত্তিরমশাই। কী সেই তাস? বলার আগে, শোনানো যাক, ছবি ঘিরে নানান কাহিনি।
উত্তমকুমার। তাঁর ‘ভানুদা’ ছবি করছেন শুনে অর্থসাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন (একথা মহানায়কের ভাই তরুণকুমারও জানতেন না)।
ছবি বিশ্বাস। তাঁর ‘ভেনো’ (এ নামেই ডাকতেন) ছবি করছে শুনে নামমাত্র পারিশ্রমিকে রাজি হয়ে গেলেন তিনি। শ্যুটিং থাকল, কী না থাকল, সেটে হাজির হয়ে যেতেন। ‘প্যাকআপ’ হয়ে গেলেও তাঁর মজলিশ থামত না।
তুলসী চক্রবর্তী। ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাজ মানে তিনি থাকবেনই। তরজা-গায়ক হিসেবে একটাই দৃশ্য তাঁর। তাতেও করলেন। এমনকি বিনিময়ে টাকাপয়সা না নিয়েই চলে যাচ্ছিলেন! ধরেবেঁধে তাঁকে অর্থ দিতে হল।
জমিয়ে কাজ করলেন বিকাশ রায়, কমল মিত্র, অনুপকুমার, রাজলক্ষ্মী দেবীরা। অনিল চট্টোপাধ্যায় তখন ‘অগ্নিসংস্কার’ ছবিটি করে বিশাল নাম কুড়িয়েছেন। জনপ্রিয়তায় উত্তমকুমারকে পাল্লা দেবেন, এমন আশা তাঁর বুকে। কাজে নামলেন তিনিও।
বাসবী দেবী তখন প্রায় নবাগতা। তাঁকেও নায়িকার চরিত্রে নিলেন ভানু। নিজে তো রইলেনই। এমনকি নির্মল মিত্রের জোরাজুরিতে বাধ্য হলেন বানিয়ে-বানিয়ে গপ্পো বলা দুষ্টু, কিন্তু মায়াবী এক বালকের চরিত্রে পুত্র গৌতমকে নিতে। এক বার একটু গাঁইগুঁই করে বলেছিলেন, “ও কি পারবে?’’ ছদ্ম ধমক দিয়ে নির্মল-উত্তর ছিল, ‘‘পারবে না মানে? তুমি শিখিয়ে নেবে!’’
ছবির ‘ডিসট্রিবিউটর’ হিসেবেও যাঁকে পাওয়া গেল, তিনিও ডাকসাইটে। আর ডি বনশল। তাঁর অনুমতি পেয়ে তাঁর কোম্পানির সর্বময় কর্তা বিমল দে লেগে পড়লেন কাজে। এ কথায় গৌতম মিষ্টি হেসে বললেন, ‘‘বিমল দে ছিলেন বাঙাল। ফলে বাবার সঙ্গে বাঙাল-ব্রাদারহুডটা ভালই জমে গিয়েছিল।’’
পল্লীজীবনের কাহিনি বলে সঙ্গীত পরিচালনায় নেওয়া হল প্রখ্যাত লোকগায়ক নির্মলেন্দু চৌধুরীকে। সহকারী হেমাঙ্গ বিশ্বাস। এর পাশাপাশি মারকাটারি সাফল্য এল হেমন্ত মুখোপাধ্যায় যোগ দেওয়ায়। তা’ও কী, দু’টি গান গাইলেন তিনি এবং একটি গানে তখন যা পারিশ্রমিক নিতেন, সেই টাকা নিলেন।
এই গান-পর্বটি শুরু হয়েছিল এক্কেবারে গোড়ায়। তখন মাঝেমাঝেই বেপাত্তা হয়ে যেতেন সঙ্গীত পরিচালক নির্মলেন্দু। তিনি তখন ভানুকে না বলেকয়ে রাজেন তরফদারের ছবি ‘গঙ্গা’-র কাজে ঢুকেছেন! সেখানে আবার সঙ্গীত পরিচালক সলিল চৌধুরী আসতে পারছিলেন না বলে, সামাল দেওয়ার কাজে ছিলেন নির্মলেন্দু।
জানতে পেরে এক দিন রেগে গিয়ে ভানু ধরলেন তাঁকে! নির্মলেন্দু লাজুক-লাজুক হয়ে বললেন, ‘‘ও দিদিভাই (নীলিমা) করে দেবে!’’ গৌতম বলছিলেন, ‘‘মা কিন্তু খুশি মনেই রাজি হয়েছিল। তার ওপর ছবিতে কীর্তনাঙ্গের গান ছিল। মা তখন মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের কাকা বিখ্যাত শিল্পী রত্নেশ্বর মুখোপাধ্যায়ের কাছে কীর্তন শেখে। রেডিয়োতে বহু দিন ধরে গান গায়। মায়ের কাছে কাঞ্চন মূল্য-র গান শিখতে হেমন্তকাকা (মুখোপাধ্যায়) দু’দিন আমাদের বাড়ি আসে। হেমন্তকাকুর কীর্তনাঙ্গের গানটি মায়েরই সুর করা।”
ছবির শীর্ষ সঙ্গীতে সরোদ বাজিয়েছিলেন উস্তাদ আলাউদ্দিন খানের ভ্রাতুষ্পুত্র উস্তাদ বাহাদুর খান। তার রিহার্সালের দিনও ত্রিসীমানায় নেই নির্মলেন্দু। সামাল দেন নীলিমা দেবী ও অমর রায়। তিনটি গানের রেকর্ডিংও করেন নীলিমা, কিন্তু নির্মল মিত্রের হাজার অনুরোধে দশ সেকেন্ডের একটি মাত্র গান রেখে বাকি দুটি ছেঁটে দেন ভানু।
কেন? গৌতম হেসে বললেন, ‘‘বাবা মুখে বলেছিল, ছবিটা বড় হয়ে যাবে। আসলে বউয়ের কাজ রাখতে লজ্জা পেয়েছিল বোধ হয়! টাইটেল-কার্ডেও মায়ের নাম বাদ যায়।”
তিন-চার খেপে প্রায় ৪৫ দিন শ্যুটিং হয়েছিল। টেকনিশিয়ান, এনটিওয়ান, ক্যালকাটা মুভিটোন সমেত আরও কিছু স্টুডিয়োয়। আর গ্রামের দৃশ্য সোনারপুরের দিকে। জংলা গাছ, বাঁশবাগান, ঝোপঝাড়ের মধ্যে।

'কাঞ্চন মূল্য' ছবিতে পারিজাত বসু (বাঁদিকে) ও অনুপকুমারের ( ডান দিকে)। মাঝে খচ্চরের পিঠে ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সৌজন্যে গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রায় ৩০ দিন কাজ ছিল গৌতমের। বলছিলেন, ‘‘মজা হয়েছিল খুব। একটা দৃশ্য ছিল, ‘বিদ্যাসাগরের দল’ ধরেবেঁধে বিধবাদের বিয়ে দিয়ে দেবে বলে, তাঁরা সব পালাচ্ছেন। প্রায় জনা ৪০ বৃদ্ধা। তাঁদের সঙ্গে এক পাল ছাগলও। বৃদ্ধাদের সব ১০টাকা করে দিয়ে আনা হয়েছিল। খানকতক ছাগলও। ওঁদের ভিড়ে সে দিন থিকথিক করছিল স্টুডিয়ো। ছবিতে ঘোড়ায় চড়ার দৃশ্য ছিল। অনিলকাকার। ঘোড়া চালানো শেখাতে টালিগঞ্জ রেস কোর্সের একজন মুসলিম ট্রেনার আনা হয়েছিল। তিনি আবার মজা করে আমাকেও ঘোড়ায় চড়া শেখান। বাবার আবার ঘোড়া নয়, একটা খচ্চরের পিঠে বসে শট ছিল! তাতে সকলের কী হাসি! আরেকটা মজার কথা। এক দৃশ্যে রাজলক্ষ্মী দেবী জমিদার বাড়িতে ঢুকতে গিয়ে দারোয়ানের বাধা পাবে। দারোয়ানটি তখন ঢোকার মুখে সিঁড়িতে বসে আটা মাখছে। সেই আটার তাল তুলে রাজলক্ষ্মী তার মুখে মারবে। এটা দু’বার ‘টেক’ হয়েছিল। প্রথম বার আটার লেচি মুখে এমন থেবড়ে বসে যায় যে, দারোয়ানের নকল গোঁফ খুলে আসে। দারোয়ানের চরিত্রে ছিলেন পতাকী মুখোপাধ্যায়। তিনি হলেন অভিনেতা সন্তু মুখোপাধ্যায়ের বাবা, স্বস্তিকার দাদু।”

'কাঞ্চন মূ্ল্য'র একটি দৃশ্যে (বাঁ দিক থেকে) অনুপকুমার, গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায়, ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় ও পারিজাত বসু। ছবি: সৌজন্যে গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায়
ফ্লোরে বহু উজ্জ্বল ঘটনার সাক্ষী সে দিনের ১২ বছরের কিশোর গৌতম। বললেন, ‘‘বাসবীদি তখন সদ্য বম্বে থেকে ফিল্ম করে এসেছে। খুব সুন্দর গানের গলা ছিল ওর। গান করত। আর আমায় গোয়েন্দা গল্প শোনাতো কাজের ফাঁকে। দারুণ গাইতেন রাজলক্ষ্মী দেবীও।”
এর পর বললেন, ‘‘সব চেয়ে মজার ছিল, ছবিজ্যেঠুর হ্যাম খাওয়া। পার্ক স্ট্রিটের ‘স্কাইরুম’ থেকে প্রায়ই ম্যানেজার নিজে হাতে করে খান ৪০ হ্যাম নিয়ে আসতেন। একটা গাছ তলায় ইজিচেয়ারে বসে আমায় হ্যাম খেতে ডাকতেন জ্যেঠু। কিন্তু গুনে গুনে ঠিক চারটে দিতেন আমায়। বাকি সব নিজে খেতেন। বলতেন, বেশি খাস না। তুই ছোট তো, পেট খারাপ করবে।”
পরের বছরটা ছিল ’৬১ সাল। রবীন্দ্র-শতবর্ষ। ফলে প্রচুর রবীন্দ্রনাথের গল্প নিয়ে কাজ হচ্ছিল স্টুডিয়োয়। সেই সূত্রেই ওই হ্যাম-পর্বের ঠিক আগে এক দিন ছবি বিশ্বাসের সঙ্গে সত্যজিৎ রায়ের হঠাৎ দেখা! তখন ‘তিন কন্যা’ ছবির ‘সমাপ্তি’-র শ্যুটিং হচ্ছিল। গৌতমের মনে পড়ে, দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ‘সমাপ্তি’-তে অপর্ণা সেনের একটি দৃশ্য দেখার গল্প।
এ তো গেল ছবি তৈরির কাহিনি। কিন্তু ছবিটির প্রযোজক হতে কী ভাবে রাজি করানো হয় ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়কে? এমনকি বেঁকে বসা নীলিমা দেবীকেও!
এখানেই মস্ত তাস ফেলেন নির্মল মিত্র। কাহিনিকার বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় তখন সম্ভবত বিহারের দ্বারভাঙ্গায় থাকেন। খোদ তাঁকেই পাকড়াও করে মিত্তিরমশাই সোজা চলে আসেন ভানু-নীলিমার কাছে। তখন তাঁরা জুবিলি পার্কে থাকতেন।
‘রাণুর প্রথম ভাগ’-এর স্রষ্টা বিভূতিভূষণের কথা ফেলতে পারেননি বন্দ্যোপাধ্যায়-দম্পতি। এর পরেই জন্ম নেয় বাংলা সিনেমার ইতিহাসে একটি সোনার অধ্যায়। ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রযোজনায় প্রথম ছবি ‘কাঞ্চন মূল্য’!
তখন কে জানত, ওটিই হবে তাঁর প্রথম প্রযোজনা এবং ওটিই হবে শেষ!