দ্য ওয়াল ব্যুরো: রমেশ সিপ্পির শোলে-র একটি ডায়ালগ আজও কিংবদন্তী—“ম্যায়নে আপকা নমখ খায়া হ্যায় সর্দার...”।
দীপঙ্কর দেও যেন তাই। এবং অকপট তো বটেই। শুক্রবার আনুষ্ঠানিক ভাবে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন তিনি। তারপর পরিষ্কারই বুঝিয়ে দেন, তিনি সরকারের নমখ খেয়েছেন, তাই বেইমানি করতে পারবেন না।
এদিন প্রবীণ অভিনেতাকে প্রশ্ন করা হয়, আপনি তৃণমূলে যোগ দিলেন কেন? প্রথমে তিনি বলেন, “আমি তৃণমূলের সঙ্গেই ছিলাম। কিন্তু শারীরিক কারণে সব জায়গায় যেতে পারতাম না।”তারপরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর অকৃত্রিম কৃতজ্ঞতার কথা জানান বর্ষীয়ান অভিনেতা। তাঁর কথায়, “মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি আমার দায়বদ্ধতা রয়েছে। উনি আমাকে বঙ্গভূষণ ও বঙ্গ বিভূষণ—দুটো সম্মানই দিয়েছেন। তা ছাড়া আমি যখন অসুস্থ হই পরপর দু’বার মুখ্যমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে সেখানে পাঠিয়েছিলেন। আমার অসুস্থতার সময় পুরো খরচা সরকার বহন করেছিল। আমি বেইমানি করতে পারব না।”
গোড়ায় গণ্ডগোলে দীপঙ্কর দের সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন রুদ্রনীল ঘোষ। সেই সিনেমায় দীপঙ্করবাবুর মুখে ‘কী উচ্চ বংশ’ ডায়লগটি প্রবাদে পরিণত হয়ে গিয়েছে। এদিন রুদ্রনীলের বিজেপিতে যোগ দেওয়া নিয়েও তাঁকে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে দীপঙ্করবাবু বলেন, “কারও যদি কোথাও গিয়ে পাঁপড় ভাজতে ইচ্ছে হয় যাবে, আমি কী করতে পারি।” সেইসঙ্গে সাংবাদিক বৈঠকে টলিউডের ‘টিটোদা’ জানিয়ে দেন, “বাংলা কথা জেনে রেখে দিন, তৃণমূল আবার জিতছে।”
বাম আমলে আবাসনমন্ত্রী গৌতম দেবের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন দীপঙ্করবাবু। অনেকে বলেন, সেই সময়ে গৌতম দেবের ‘আশীর্বাদ’ও পেয়েছিলেন তিনি। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর আস্থা যে অটুট তা এদিন বারবার বোঝাতে চান সত্যাজিৎ রায় থেকে তপন সিনহা, মৃণাল সেনদের মতো পরিচালকের ছবিতে অভিনয় করা এই অভিনেতা।