ভোর ৩টেয় শুটিং ফ্লোরে দাঁড়িয়ে কিংবদন্তির প্রশ্ন—“আমি কেন নাচতে পারব না?”

ধর্মেন্দ্র
শেষ আপডেট: 7 January 2026 17:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ধর্মেন্দ্রর (Dharmendra) শেষ অভিনীত ছবি ‘ইক্কিস’ (Ekkis Film) মুক্তি পেয়েছে মাত্র কয়েক দিন আগে। প্রয়াত এই কিংবদন্তি অভিনেতাকে শেষবারের মতো রুপালি পর্দায় দেখে আবেগে ভাসছেন তাঁর অগণিত অনুরাগী। সম্প্রতি, যখন ছবির কোরিওগ্রাফার বিজয় গঙ্গোপাধ্যায় শেয়ার করলেন ধর্মেন্দ্রর সঙ্গে কাজ করার এক অনন্য অভিজ্ঞতা। তাঁর কথায় উঠে এসেছে অভিনেতার অসাধারণ পরিশ্রমের ছবি।
পিঙ্কভিলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিজয় জানান, ‘ইক্কিস’-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ কাওয়ালি সিকোয়েন্সের শুটিং চলছিল গভীর রাতে। দৃশ্যটি পরিকল্পিত ছিল ধর্মেন্দ্রর চরিত্রের কলেজ রিইউনিয়নের অংশ হিসেবে। তখন ঘড়ির কাঁটা প্রায় রাত ২.৩০ থেকে ৩টার মধ্যে। শুটিংয়ের সময় প্রবীণ অভিনেতাকে কিছু খুব সহজ নাচের স্টেপ করার অনুরোধ জানানো হয়েছিল, যাতে তাঁর চলাফেরায় কোনও অসুবিধা না হয়।
কিন্তু সেখানেই সবাইকে অবাক করে দেন ধর্মেন্দ্র। তিনি জানতে চান, বাকিরা ঠিক কী ধরনের নাচ করছে। যখন তাঁকে দেখানো হয় যে অন্য শিল্পীরা একে অপরের কাঁধে হাত রেখে লেগ স্টেপ করছে, তখন তিনি স্পষ্ট প্রশ্ন করেন, “আমি কেন এটা করতে পারব না?”
বিজয় জানান, ইউনিটের উদ্দেশ্য ছিল ধর্মেন্দ্রকে অতিরিক্ত পরিশ্রম না করানো। তাই তাঁকে শুধু সংগীত উপভোগ করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু ধর্মেন্দ্র তাতে রাজি হননি। তিনি জেদ ধরেন যে নিজেই সেই স্টেপগুলো করে দেখতে চান। বয়স ও শারীরিক অবস্থার কারণে বারবার বসা ও ওঠা তাঁর পক্ষে কষ্টকর ছিল, তবু তিনি থেমে যাননি। দু’জন নৃত্যশিল্পীকে ডেকে নিয়ে নিজে থেকেই স্টেপ শেখার উদ্যোগ নেন।
অবশেষে উঠে দাঁড়িয়ে তিনি পুরো স্টেপটি করে দেখান, আর তাতেই স্তব্ধ হয়ে যায় গোটা ইউনিট। টিমের সদস্যরা তাঁকে বোঝান যে বেশি রিটেক হলে শরীরে চাপ পড়তে পারে। বাস্তবে, সেই দৃশ্যে নাচ করা তাঁর চরিত্রের জন্য একেবারেই বাধ্যতামূলক ছিল না। কিন্তু ধর্মেন্দ্রর কাছে বিষয়টি ছিল আত্মসম্মানের। তিনি চাননি, কেউ যেন মনে করে তিনি আর পারছেন না।
এখানেই শেষ নয়। বিজয় আরও জানান, ধর্মেন্দ্র গানটির কথাও জানতে চান এবং প্রয়োজনে লিপ-সিঙ্কের জন্য লিরিক মুখস্থ করতেও প্রস্তুত ছিলেন। যদিও তাঁকে জানানো হয়েছিল যে তার দরকার নেই, তবু শতভাগ দেওয়ার মানসিকতা থেকে এক মুহূর্তের জন্যও সরে আসেননি অভিনেতা।
সাক্ষাৎকারে আবেগপ্রবণ হয়ে বিজয় আরও বলেন, তাঁর বাবা অনিল গঙ্গোপাধ্যায় ১৯৯১ সালে ‘দুষ্মন দেবতা’ ছবিতে ধর্মেন্দ্রর সঙ্গে কাজ করেছিলেন। এই প্রসঙ্গ উঠতেই ধর্মেন্দ্র সস্নেহে স্মরণ করে বলেন,
“তিনি খুবই দয়ালু মানুষ ছিলেন।”