
স্যর সি শঙ্করন-অক্ষয় কুমার
শেষ আপডেট: 24 March 2025 18:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুক্তির ছ’বছর পর ফিরছে আবার ফিরছে ‘কেশরী চ্যাপ্টার ২: দ্য আনটোল্ড স্টোরি অফ জালিয়ানওয়ালাবাগ’ (Kesari Chapter 2)। তবে নতুন এ অধ্যায়ে গল্প বদলেছে। বদলেছে প্রেক্ষাপটও। গল্পে এবার জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড। ‘কেশরী চ্যাপ্টার ২’-তে স্যর সি শঙ্করন নায়ারের (Sir C Sankaran) ভূমিকায় অভিনয় করছেন অক্ষয় কুমার। সি শঙ্করন ছিলেন নির্ভীক এক আইনজীবী। জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের পর ব্রিটিশ সাম্রাজ্যকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। ছবিটি জালিয়ানওয়ালা বাগ হত্যাকাণ্ডের পিছনে সত্য উন্মোচন, এবং তাঁর ঐতিহাসিক লড়াইয়ের উপর আলোকপাত করে।
কে ছিলেন স্যর সি শঙ্করন নায়ার?
(Sir C Sankaran) জন্ম ১৮৫৭ সালের ১১ জুলাই পালঘাট জেলায়। আইনি ডিগ্রি অর্জনের জন্য মাদ্রাজে (বর্তমানে চেন্নাই) চলে আসেন এবং অবশেষে একজন অসাধারণ আইনজীবী হয়ে ওঠেন। মাদ্রাজের অ্যাডভোকেট-জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবন এগিয়ে চলে এবং পরে ১৯০৮ সালে তিনি মাদ্রাজে হাইকোর্টের বিচারক হিসেবে নিযুক্ত হন। নায়ার একজন বিশিষ্ট আইনজীবী এবং রাজনীতিবিদ ছিলেন। তিনি ১৯০৬ থেকে ১৯০৮ সাল পর্যন্ত অ্যাডভোকেট-জেনারেলের ভূমিকা পালন করেন, ১৯০৮ থেকে ১৯১৫ সাল পর্যন্ত মাদ্রাজে হাইকোর্টে একজন উচ্চপদস্থ বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৯১৫ থেকে ১৯১৯ সাল পর্যন্ত ভাইসরয়ের নির্বাহী পরিষদের অংশ হিসেবে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী হন। একজন সমাজ সংস্কারক হিসেবে, নায়ার লিঙ্গ সমতা, বর্ণ বৈষম্যের বিরোধিতা, বাল্যবিবাহ বিরুদ্ধে এবং বিনামূল্যে প্রাথমিক শিক্ষা সহ প্রগতিশীল বিষয়গুলোকে সমর্থন করেছিলেন। তাঁর সততা এবং বুদ্ধিমত্তা তাঁকে ব্রিটিশদের মধ্যেও সম্মানিত করেছিল। যাঁরা তাঁকে ১৯১২ সালে তাকে নাইট উপাধি দিয়েছিল। ১৯১৫ সালে তিনি ভাইসরয়ের কাউন্সিলে যোগদান করেন।
জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড এবং স্যর সি শঙ্করন নায়ার
(Sir C Sankaran) তাঁর ছিল জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি। ১৮৯০ সালে মাদ্রাজ আইন পরিষদের সদস্য হন স্যর সি শঙ্করন নায়ার। এবং ১৮৯৭ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন। তাঁর নীতিগুলি ভারতীয় জাতীয়তাবাদী এবং ব্রিটিশ কর্মকর্তা উভয়ের থেকেই তিনি প্রশংসা অর্জন করেছিলেন। নায়ার সেই সময় একজন ভারতীয়ের জন্য উপলব্ধ সর্বোচ্চ পদগুলির মধ্যে একটিতে অধিষ্ঠিত ছিলেন, কিন্তু প্রতিবাদ করতে তিনি পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন। লর্ড কেমসফোর্ডের সরকার কোনও অন্যায় অস্বীকার করার পর, তিনি হতাশ হয়ে পড়েন। অনেক সহ্যের পর, ১৯১৯ সালের জুলাই মাসে তিনি পদত্যাগ করেন। তাঁর পদত্যাগ প্রেস সেন্সরশিপ অপসারণ এবং পঞ্জাবে সামরিক আইনের অবসানে কারণ হয়ে ওঠে। তাঁর লেখা বই ‘গান্ধী এবং অ্যানার্কি’, তিনি জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেন। শুধু তাই নয় মাইকেল ও'ডায়ারকে তার অজ্ঞতা, অহংকার এবং জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের সময় জেনারেল ও ডায়ারের পদক্ষেপকে সমর্থনের জন্য নিন্দাও করেন। এই সাহসী বিবরণ পাঞ্জাব হত্যাকাণ্ডের সত্য উন্মোচনের ক্ষেত্রে এক বড় পদক্ষেপ ছিল।