হাসি যে কখন বাস্তবকে ছাপিয়ে যায়, তা প্রমাণ করে দিল এক অভিনব প্রোমোশনাল ভিডিও। সুনীল গ্রোভারের নিখুঁত আমির-অবতার এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে স্বয়ং আমির খানকেই নিজের অফিস থেকে নিরাপত্তারক্ষীরা বের করে দিতে বাধ্য হয়।

শেষ আপডেট: 12 January 2026 16:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাসি যে কখন বাস্তবকে ছাপিয়ে যায়, তা প্রমাণ করে দিল এক অভিনব প্রোমোশনাল ভিডিও। সুনীল গ্রোভারের নিখুঁত আমির-অবতার এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে স্বয়ং আমির খানকেই নিজের অফিস থেকে নিরাপত্তারক্ষীরা বের করে দিতে বাধ্য হয়। সদ্য প্রকাশিত এই ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই নেটদুনিয়ায় আলোড়ন তুলেছে, আর প্রশংসা কুড়িয়েছে খোদ ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’-এর কাছ থেকেই।
আমির খান প্রোডাকশন্সের আসন্ন ছবি ‘হ্যাপি প্যাটেল: খতরনাক জাসুস’-এর প্রচারের অংশ হিসেবে মুক্তি পাওয়া ভিডিওটির শুরুতেই এক বিস্ময়কর দৃশ্য—নিজের অফিসের দরজা দিয়ে ধাক্কা মেরে বের করে দেওয়া হচ্ছে আমির খানকে। কীভাবে এমন পরিস্থিতি তৈরি হল, তা জানতেই গল্প গড়ায় ফ্ল্যাশব্যাকে।
পরিচালক হিসেবে প্রথমবার ক্যামেরার পেছনে দাঁড়ানো বীর দাস অফিসে ঢুকতেই চোখ কপালে ওঠার জোগাড়। আমির খানের পোশাক, ভঙ্গি, কথা বলার স্টাইল—সবকিছুতে হুবহু আমির, অথচ তিনি আসলে সুনীল গ্রোভার। আত্মবিশ্বাসে ভর করে নিজেকে ‘আমির খান’ বলে পরিচয় দেন সুনীল। শুধু তাই নয়, বীর দাসকে অভিনন্দন জানিয়ে হাতে ধরিয়ে দেন মোটা অঙ্কের বোনাস চেক, সঙ্গে ভবিষ্যদ্বাণী—ছবি সুপারহিট না হলে তাঁর নাম আর আমির খান থাকবে না! অস্কার জয়ের আশ্বাস দিয়ে আগাম সিক্যুয়েলের চেকও তুলে দেন তিনি।
এই হাস্যকর অথচ নিখুঁত অভিনয়ের মাঝেই হঠাৎ প্রবেশ করেন আসল আমির খান। পরিস্থিতি সামলাতে গিয়ে যখন বীর দাস ভুল করে সুনীলকেই ‘আমির’ বলে সম্বোধন করেন, তখন আর ধৈর্য রাখতে পারেন না তারকা। নিরাপত্তারক্ষীদের ডেকে সবাইকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। কিন্তু গল্পের টুইস্ট এখানেই—সুনীল তাঁর ‘আমিরি’ স্টাইলে নিরাপত্তারক্ষীদেরও চেক দিয়ে বশ মানান। ফল? বিভ্রান্ত গার্ডরা টেনে হিঁচড়ে অফিসের বাইরে বার করে দেয় আসল আমির খানকেই! দৃশ্য দেখে হাসি থামানো দায়।
ভিডিওটি শেয়ার করে আমির খান প্রোডাকশন্সের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে রসিক মন্তব্য, “@whosunilgrover এতটা ন্যাচারাল করিস না ভাই, আসল আমিরকে চেনাই যাচ্ছে না।”
এই মিমিক্রি যে শুধু দর্শকদের মন জয় করেছে তা নয়, মুগ্ধ হয়েছেন আমির খান নিজেও। ‘দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান কপিল শো’-এর সাম্প্রতিক এক পর্বে কার্তিক আরিয়ান ও অনন্যা পান্ডের উপস্থিতিতে সুনীলের আমির-অবতার দেখে তিনি কার্যত বাকরুদ্ধ। বলিউড হাঙ্গামাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আমির অকপটে স্বীকার করেন, “আমি একে নকল বলব না। এতটাই বাস্তব যে মনে হচ্ছিল নিজেকেই দেখছি। অল্প একটা ক্লিপ দেখেই বুঝে গিয়েছিলাম—পুরো এপিসোড দেখতেই হবে।” হাসতে হাসতে দম বন্ধ হয়ে আসার কথাও লুকোননি তিনি। তাঁর কথায়, এতে কোনও বিদ্বেষ ছিল না—শুধুই নিখাদ আনন্দ।
উল্লেখ্য, ‘হ্যাপি প্যাটেল: খতরনাক জাসুস’ পরিচালনা করেছেন বীর দাস। ছবিতে অভিনয় করেছেন বীর দাস, প্রিয়াংশু চট্টোপাধ্যায়, সঞ্জয় দত্ত, শরিব হাশমি ও ইমরান খান। প্রযোজক আমির খান নিজেও ছবিতে একটি ক্যামিও চরিত্রে ধরা দেবেন। আগামী শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি মুক্তি পেতে চলেছে এই ছবি।
সুনীল গ্রোভার ও আমির খানের এই মুখোমুখি হওয়া শুধু একটি প্রোমোশন নয়, বরং অভিনয়, আত্মপরিহাস আর সুস্থ হাস্যরসের এক অনন্য উদাহরণ। যখন নকল এতটাই নিখুঁত হয়ে ওঠে যে আসলকে ছাপিয়ে যায়, তখন প্রশ্ন থেকেই যায়—এই হাসির দুনিয়ায় শেষ পর্যন্ত আসলটা চেনা যাবে তো?