ঋতাভরীকে প্রপোজ করেছেন, এমন ব্যক্তিদের সংখ্যা হাতেগোনা যাবে না। কতজনই হতে চেয়েছেন তাঁর প্রেমিক।

ঋতাভরী।
শেষ আপডেট: 3 June 2025 18:02
শুভঙ্কর চক্রবর্তী
সমসাময়িক যে সকল বাংলা ছবি তৈরি হচ্ছে, তার মধ্যে ভিন্ন চরিত্রে নিজেকে সাজিয়ে চলেছেন ঋতাভরী। সহজাত অভিনয় , চরিত্রের গভীরতায় উজাড় করেছেন বারবার। তবে সহজ-সরল অভিনয়ে ঠিক যেমন নজর কেড়েছেন, তেমনই বিভিন্ন সময়ে ‘ডাকাবুকো’ মেয়ে হিসেবে চর্চিত হয়েছেন তিনি। স্পষ্টবাদী তো বটেই এছাড়া বিভিন্ন সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোলিং থেকে বডি শেমিংয়ের বিরুদ্ধে বারবার সোচ্চার হয়েছেন।
সম্প্রতি মুক্তি পেতে চলছে ‘বাৎসরিক’। ছবিতে একেবারে সাদামাটা চরিত্রে ঋতাভরী। নো-মেক আপ লুক। ‘বিধবা’ চরিত্র এবং তার সঙ্গে ছবিতে অতিপ্রাকৃত বিষয়আশয়। মৈনাক ভৌমিক ছবির ‘বাৎসরিক’ ছবিতে ঋতভরী চক্রবর্তী অনেকটা তাই। কিন্তু শুধুমাত্র ছবির ‘দ্য ওয়াল’ অফিসে ছবির প্রোমোশনের আড্ডা থেমে থাকেনি, তা বদলে গিয়েছে প্রশ্নে-প্রশ্নে। প্রেম, বন্ধুত্ব, সিনেমা থেকে আনফিল্টার্ড র্যাপিড ফায়ার অবধি, ক্রিজের বাইরে বেরিয়ে ছক্কা হেঁকেছেন ঋতাভরী।
‘বাৎসরিক’ ছবিতে ঋতাভরী একেবারে ‘নন গ্ল্যামারাস’। এক কথায়—‘নো মেকআপ’। এমন লুকে অভিনয়ের এক সাহস লাগে। বহু অভিনেত্রী এমনভাবে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে খানিক ইতস্তত বোধও করেন, তবে ঋতাভরী তা করেননি, তিনি বলেন, ‘আমি নিজেকে অভিনেত্রী হিসেবে দেখি। অনেকে আছেন, যাঁরা নিজেদের আগে স্টার মনে করেন, পরে অভিনেত্রী। তাই কখনও শারীরিক গঠন কিংবা অত্যাধিক সোজাসাপ্টা চরিত্রে অভিনয় করতে পিছপা হয়নি। আমার চিরকাল মনে হয়েছে, এমন অভিনয় করতে চাই যা দেখে মনে হয়, চরিত্রের খুব কাছাকাছি পৌঁছতে পারি। দর্শকের যেন মনে না হয়, আমি ঋতাভরী, মনে হয়, আমি অপর্ণা, ফুল্লরা কিংবা সবরী।’
চলতি বছরে মুক্তি পেতে চলেছে ঋতাভরী অভিনীত দুটি ছবি। ‘বাৎসরিক’ এবং ‘শাখাপ্রশাখা’। দুটি ছবিতেই বিধবার চরিত্রে অভিনয় করছেন ঋতাভরী। বললেন, ‘দুটি চরিত্রই সদ্য তদের স্বামীকে হারিয়েছেন। তাই সাজগোজ, পরিপাটি, কিংবা দারুণ প্রসাধনে রাখা সে থাকবে না। আমাদের সমাজে এটাই অধিকাংশ ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। এবং সে কারণে এই চরিত্রগুলোয় অভিনয় করতে গেলে, লিপস্টিক, চুল উড়িয়ে নিশ্চয়ই থাকব না! এটাই স্বাভাবিক!’
ঋতাভরীকে প্রপোজ করেছেন, এমন ব্যক্তিদের সংখ্যা হাতেগোনা যাবে না। কতজনই হতে চেয়েছেন তাঁর প্রেমিক। সোশ্যাল মিডিয়ায় বহু কমেন্টে লেখা, ‘আই ওয়ান্চ টু ম্যারি ইউ’। আবার অনেকে, সামনে থেকে দাঁড়িয়েও চেষ্টা করেছেন, যদি খানিক ‘পাত্তা’ পাওয়া যায়। তেমনই এক ঘটনার কথা শোনা গেল ঋতাভরীর মুখে, তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, কেউ আপনাকে সবচেয়ে বাজে পিকআপ লাইন কী ব্যবহার করেছে? উত্তরে আবার হাসি, ‘এক বড় স্টার, ন্যাশনাল স্টার। কলকাতার নয়। আমাকে জিজ্ঞেস করেন ‘ব্রহ্মা জানেন কোথায় দেখব?’ আমি ওঁকে বলি, ব্রহ্মা আর ঋতাভরী গুগল করুন, দেখিয়ে দেবে। সারা দেশে একটাই অভিনেত্রী ঋতাভরী আছে, আমার ছবিটিই দেখাবে। আমায় ঘুরে বলল, ‘সারা পৃথিবীতে একটাই ঋতাভরী আছে’। আমি তখন শুধু ভাবলাম! এইজন্যই তুমি খেলোয়ার! এতগুলো গার্লফ্রেন্ড ছিল!’