
শেষ আপডেট: 20 November 2022 14:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আর ৩ মাস। তার পরেই পঁচিশে পা দেওয়ার কথা ছিল ঐন্দ্রিলার। কিন্তু হিসেব উল্টে গেল। প্রেমিক সব্যসাচীর জন্মদিনের পরের দিন সেই যে হাসপাতালে ভর্তি হতে হল, সুস্থ শরীরে ঘরে ফেরা আর হল না ঐন্দ্রিলার (Aindrila Sharma) । ১৯ দিনের লড়াই শেষে জীবনজ্যোতি নির্বাপিত হল। আদরের 'মিষ্টি'কে হারিয়ে শোকাহত মুর্শিদাবাদ বহরমপুরে ঐন্দ্রিলার প্রতিবেশীরা (neighbors)।
বহরমপুর থানার ইন্দ্রপ্রস্থ সাউথ এলাকার বাসিন্দা ছিলেন অভিনেত্রী (actress) ঐন্দ্রিলা শর্মা। বাবা উত্তম শর্মা পেশায় চিকিৎসক। মা শিখা শর্মা একজন সিনিয়র নার্স। বহরমপুরের কাশীশ্বরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন ঐন্দ্রিলা। পড়াশোনার পাশাপাশি নাচ এবং আঁকাতেও অংশ নিতেন অভিনেত্রী। স্কুল শেষ হওয়ার পর একটি বেসরকারি কলেজে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার জন্য ভর্তি হয়েছিলেন ঐন্দ্রিলা। কিন্তু অসুস্থতার কারণে সেই পড়া শেষ করা হয়নি তাঁর।
২৪ বছর বয়সি অভিনেত্রীর বহরমপুরের প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, পাড়ায় মিষ্টি এবং মিতু নামেই পরিচিত ছিলেন দুই বোন ঐন্দ্রিলা এবং ঐশ্বর্য। মিষ্টি বরাবরই অত্যন্ত মিশুকে এবং মিষ্টভাষী ছিলেন বলে জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা। তারকা হওয়া সত্ত্বেও আদৌ তারকাসুলক কোনও হাবভাবই দেখা যেত না অভিনেত্রীর মধ্যে, দাবি তাঁদের। দুর্গাপুজোর সময় অন্য বছরের মত এই বছরেও বাড়িতে এসেছিলেন ঐন্দ্রিলা। সেই সময় পাড়া-প্রতিবেশী সকলের সঙ্গে দেখা করা, কথা বলা, সবকিছুই করেছেন আর পাঁচটা মেয়ের মতোই। প্রাণোচ্ছল সেই মেয়েটাই যে এভাবে 'নেই' হয়ে যাবে, মেনে নিতে পারছেন না তাঁরা কেউই। মিষ্টিকে হারিয়ে কেঁদে ভাসাচ্ছেন তাঁরা।
প্রসঙ্গত, মারণ রোগ ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াইয়ে ২ বার জয়ী হয়েছিলেন ঐন্দ্রিলা। ১ নভেম্বর ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর হাওড়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় অভিনেত্রীকে। পুরো সময়েই অভিনেত্রীর পাশে ছিলেন প্রেমিক অভিনেতা সব্যসাচী চৌধুরী।
হাসপাতালে বেশ কয়েকবার হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। টানা ভেন্টিলেশন সাপোর্টে থাকার পরেও শনিবার রাতে ১০ বার হার্ট অ্যাটাক হয় অভিনেত্রীর। অবশেষে সব লড়াই শেষ হল রবিবার দুপুরে। পরিবার পরিজন, আত্মীয় বন্ধু এবং অজস্র অনুরাগীকে কাঁদিয়ে বিদায় নিলেন 'ফাইটার' ঐন্দ্রিলা শর্মা।
ফুটফুটে মুখ, স্পষ্ট উচ্চারণ, নাচে দক্ষ-- তবু তেমন কাজ পাননি ঐন্দ্রিলা, ভাইরাল কেবল তাঁর অসুখ