
বিদ্যা বালান
শেষ আপডেট: 25 April 2025 16:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বর্তমানে বলিউডের তারকাদের যেন ক্যামেরা ছাড়া চলেই না। জিম লুক, এয়ারপোর্ট লুক, রেস্তরাঁ লুক—প্রতি মুহূর্তে ফটো-রেডি থাকতে হয় তাঁদের। এই চাপ একেবারে কেরিয়ারের শুরুর দিকেই গিয়ে বসে। বিদ্যা বালানও এর ব্যতিক্রম নন। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, এই ‘পারফেক্ট ইমেজ’ বজায় রাখার চাপে একটা সময় রীতিমতো ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন।
একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমি ভয়ে ভয়ে থাকতাম, যেন এয়ারপোর্টে কোনও ফটোগ্রাফার না আসে। ঠাকুরকে ডাকতাম মনে মনে—‘দয়া করে আজকে কেউ যেন না আসে’। কিন্তু তাতে কিছুই হত না। ক্যামেরা থাকতই!”
বিদ্যার বয়স এখন ৪৫ পেরিয়েছে। এখন আর তিনি গা করেন না কে কী বলছে, কে কী ভাবছে। নিজের মেদবহুল চেহারা, নিজস্ব ফ্যাশন সেন্স, আর শাড়ির প্রতি ভালবাসাকে নিয়ে আজ তিনি আত্মবিশ্বাসী। তাঁর মতে, “সুস্থ থাকাটাই আসল। নিজেকে মেনে নিতেই সময় লেগেছে, কিন্তু আজ আমি স্বস্তিতে আছি।”
এক সময় তিনিও চেয়েছিলেন টিপিক্যাল বলিউড ডিভাদের মতো দেখাতে। শরীরে আঁটসাঁট পোশাক পরেও দেখেছেন। কিন্তু সেগুলো তাঁকে মানাত না—এমনটাই মনে করেন বিদ্যা। “আমি অন্য অভিনেত্রীদের মতো হতে চেয়েছি, তাঁদের মতো পোশাক পরেছি। কিন্তু আয়নায় নিজেকে দেখে মনে হয়েছে, এ তো আমি না! অদ্ভুত লাগত নিজেকে। একেবারেই স্বচ্ছন্দ বোধ করতাম না,” বলেন তিনি।
শাড়িই তাঁর ‘সিগনেচার’। রেড কার্পেটেও বারবার শাড়িতেই দেখা গেছে তাঁকে। এবং সেই আত্মবিশ্বাসের সৌজন্যেই হয়তো তিনি আজ একা হাতে বদলে দিয়েছেন বলিউডের ‘সাইজ জিরো’ ফেটিশ। বিদ্যার কথায়, “আমার সামনে চয়েসই ছিল না। ওই সব পোশাকে আমি ফিট হতাম না। আমি বুঝে গিয়েছিলাম, হয় তো সারাজীবন অন্যের মতো হওয়ার চেষ্টা করব, নয়তো নিজের মতো করে থাকব।”
সবশেষে বিদ্যার আত্মপ্রকাশ একদম খোলামেলা। “আমি যা পরতে ভালবাসি, তাই পরি। যা ইচ্ছে করি। আমি স্বাধীন। আমি মুক্ত। এখন মানুষের আর কোনও উপায় নেই, তাঁরা শুধু আমার প্রশংসা করতেই পারেন। কারণ, আমায় আর লজ্জা বলে কিছু নেই।”