
শেষ আপডেট: 10 January 2024 08:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাত্র ৫৫ বছর বয়সে থেমে গেল তাঁর জীবনপ্রদীপ। উস্তাদ রশিদ খানের অকালপ্রয়াণে শোকস্তব্ধ সঙ্গীতজগৎ। আর গেয়ে উঠবে না সেই পরিচিত কণ্ঠ। ‘আয়ো গে জব তুম…’ বলে ডাকলেও আর চোখ তুলে তাকাবেন না রশিদ খান। প্রস্টেট ক্যানসারে ভুগছিলেন রামপুর-সাসওয়ান ঘরানার এই শিল্পী। তারই চিকিৎসা চলছিল। চিকিৎসায় ভালো সাড়াও দিচ্ছিলেন। কিন্তু আচমকাই ছন্দপতন হয় ডিসেম্বরের শেষে। হঠাৎই সেরিব্রাল অ্যাটাক হয় তাঁর। তারপরেই ভেন্টিলেশনে জীবনযুদ্ধ চলছিল। মঙ্গলবার বিকেলে সব শেষ। জানা গেছে, আজই শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে মহান সঙ্গীতশিল্পীর।
সূত্রের খবর, আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ নাকতলার বাড়ি থেকে শিল্পীর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে রবীন্দ্র সদনে৷ সেখানে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত রবীন্দ্র সদনে মরদেহ শায়িত থাকবে৷ তার পর আবার মরদেহ নিয়ে আসা হয়ে নাকতলার বাড়িতে৷ রবীন্দ্র সদনেই গ্যান স্যালুট দেওয়া হবে সরকারের পক্ষ থেকে৷
বাড়িতে তারপর ধর্মীয় মতে যে আচার-অনুষ্ঠান করার কথা রয়েছে, সেগুলি হবে৷ দুপুর সাড়ে তিনটের সময় জানাজা করে, অর্থাৎ পদযাত্রা করে কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হবে৷ মরদেহ বাড়িতে রাখার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ আগে থেকে বরফ নিয়ে যাওয়া হয়েছে৷ পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন হবে উস্তাদ রাশিদ খানের শেষকৃত্যু।
প্রস্টেট ক্যানসারের চিকিৎসা চলছিলই। তার মধ্যেই ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন উস্তাদ রশিদ খান। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মাথায় ব্লিডিং (রক্তক্ষরণ) নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। এত দিন হাসপাতালে থাকার ফলে সংক্রমণ হয়েছিল। তড়িঘড়ি ভেন্টিলেশনে দিতে হয় তাঁকে। কিন্তু সেখান থেকে আর ফিরিয়ে আনা গেল না। মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতালে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভিতরে গিয়ে শিল্পীর খোঁজ নিয়ে তিনি বেরিয়ে আসেন হাসপাতালের বাইরে। সঙ্গে ছিলেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম, কলকাতার পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল, রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, মন্ত্রী তথা সঙ্গীতশিল্পী ইন্দ্রনীল সেন।
হাসপাতালে দাঁড়িয়েই গভীর শোক প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “রশিদ আমার ভাইয়ের মতো। ও আমাকে বলত, তুমি আমার মা। রশিদ নেই, এটা ভাবতেও পারছি না, আমার গায়ে কাঁটা দিচ্ছে।” উত্তরপ্রদেশে আদি বাড়ি হলেও কলকাতাতেই থাকতেন রশিদ খান। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “উত্তরপ্রদেশে বাড়ি হলেও উনি (রশিদ) বাংলাকে ভালবেসে কলকাতায় রয়ে গিয়েছিলেন। শুধু রশিদ নয়, ওর পরিবারের সঙ্গেও আমার যোগাযোগ ছিল। অল্প বয়সে রশিদ চলে যাওয়ায় ওর স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলে ভেঙে পড়েছে। এখন থেকে আমি ওদের অভিভাবক।”