
শেষ আপডেট: 13 February 2024 17:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুধু প্রযুক্তির জগতে নয়, এআই বা আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স নিয়ে এখন চর্চা চলছে সাধারণ মানুষের মধ্যেও। কারণ এরকম একটা আশঙ্কা রয়েছে যে এআই আগামী দিনে বহু মানুষের রুজিরুটি কেড়ে নিতে পারে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইতিমধ্যে প্রয়োগ করাও শুরু হয়ে গেছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে। যার আওতায় শুধু উৎপাদন শিল্পই নয়, রয়েছে চারুশিল্পও। সম্প্রতি এআই-র সাহায্যে মৃত দুই গায়কের গলা ব্যবহার করেছেন এ আর রহমান। তাঁর ছবি 'লাল সেলাম'-এ এআইয়ের গান শোনা যাবে। বাংলায় সৃজিত মুখার্জিও এর ব্যবহার শুরু করেছেন। জানালেন ওঁর ছবি ‘পদাতিক’-এ অভিনেতা জিতু কমলের কণ্ঠস্বরে শোনা যাবে সত্যজিৎ রায়ের কণ্ঠ!
এছাড়াও দক্ষিণী ছবির নির্মাতারা অনেকেই এই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে কাজ করার কথা ভেবেছেন। ‘মিস্টার ইন্ডিয়া’ খ্যাত পরিচালক শেখর কাপুর ভেবেছেন তাঁর ছবি ‘মাসুম’-এর সিকুয়েলে, ছবির নানান সুবিধা অসুবিধা মেটাতে তিনি এআই-এর সাহায্য নেবেন।

শাহরুখ খানের ভিএফএক্স কোম্পানি ‘রেড চিলিজ’ এআই-এর সাহায্যেই ‘পাঠান’, ‘জাওয়ান’-এর মতো ছবি বানাতে পেরেছে।
দক্ষিণী ছবির পরিচালক গুহান সেনিয়াপ্পান একটি তামিল সিনেমায় নির্দেশনার দায়িত্ব নিয়েছেন যেখানে ভারতে প্রথমবার এআই ব্যবহার করে আড়াই মিনিটের দৃশ্য তৈরি হবে। পরিচালক বলেন, কোনও সুপারহিরো ছবি বা অ্যাকশন সিন তৈরি করতে গেলে এআই খুবই কার্যকরী আর সস্তাও!
কয়েকদিন আগে একটি বিজ্ঞাপনে এআই ব্যবহার করতে দেখা গেছিল শাহরুখ খানকে। যেখানে অভিনেতার মুখ ব্যবহার করে অন্যান্য ব্যবসাদারেরা বিজ্ঞাপন বানাতে পারবেন। কোভিডের সময় ব্যবসাদারদের সাহায্য করার জন্য এতে রাজি হয়েছিলেন অভিনেতা। আর এই ক্যাম্পেনের সাহায্য তৈরি হয়েছিল প্রায় ৩ লক্ষ বিজ্ঞাপন।
অনেক ভালোও যেমন হয়েছে, তেমন এর খারাপ দিকও অনেক। তাই এআই-য়ের ব্যবহার নিয়ে প্রতিবাদ নেমেছিলেন হলিউডের চিত্রনাট্যকার সহ বেশ কিছু অভিনেতা। তাঁদের দাবি অভিনেতাদের না জিজ্ঞেস করে এআই-য়ের সাহায্যে তাঁদের গলার স্বর, মুখ ইত্যাদি ব্যবহার করা চলবে না। ওঁদের এই ধর্মঘট চলে প্রায় চার মাস। কাজও বন্ধ রেখেছিলেন কিছু অভিনেতা। পরে তাঁদের দাবি মেনে নেওয়ায় সেই ধর্মঘট তুলে নেওয়া হয়। সেখানে জনি ডেপ থেকে শুরু করে মার্ক রুফালোর মতো তাবড় অভিনেতারা এর বিরোধিতা করেন। ধর্মঘটের মূল স্লোগান ছিল, ‘এআই ইজ নট আর্ট’, অর্থাৎ এআই শিল্প নয়।

তাঁর ছবি, গলার আওয়াজ, যাতে মর্ফ না করতে পারে তার জন্য ২০২৩ সালে অনিল কাপুর আদালতের দ্বারস্থ হন। একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমার অজান্তেই আমার ছবি নিয়ে ডিপফেক হচ্ছে। মর্ফ করা হচ্ছে আমার ফেস। এভাবে আমি কতদিকে খেয়াল রাখব? তাই সোজা হিসেব। কেউ আমার কোনও কিছু নকল করতে পারবে না। করলে তাকে কোর্টে গিয়ে জবাবদিহি করতে হবে।’
কিছু দিন আগে এআই নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন বিগ বি। সিম্বলিক ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে যোগ দিয়েছিলেন অমিতাভ বচ্চন। ফেস্টিভ্যাল চলাকালীন অমিতাভ বচ্চন বলেন, সিনেমা তৈরির ক্ষেত্রে অনেক বড় পরিবর্তন এসেছে। মাত্র ২-৩ মাসের মধ্যেই এআই জিনিসটা বেশ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। তবে এটা চিন্তার বিষয়। ফেস ম্যাপিংয়ের শিকার হচ্ছেন সবাই। যেখানে ব্যক্তিদের মুখ পরিবর্তন করে বিভিন্ন উপায়ে ম্যানুপুলেট করা হচ্ছে।
এআই আসলে আশীর্বাদ না অভিশাপ তা সময় বলবে।