
পারভিন ববি , কবীর বেদি
শেষ আপডেট: 5 April 2025 17:20
দ্য ওয়াল: 'তুমি কি আজ রাতে অন্তত আমার সঙ্গে থাকতে পারো না?' আমি মাথা নাড়লাম। 'না', আমি আজ রাতে পারভিনের কাছে যাচ্ছি!'
পারভিন ববি পশ্চিমী হাওয়া এনেছিলেন ভারতীয় চলচ্চিত্রে। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে সম্পর্কের জটিলতা পারভিনকে ঠেলে দেয় নেশা আর মানসিক রোগের অন্ধকারে। গতকাল ছিল ৪ঠা এপ্রিল, পরভিন ববির জন্মদিন।
স্ত্রী প্রতিমা বেদীর কাছে এভাবেই নিজের গোপন অভিসার সামনে এনেছিলেন অভিনেতা কবীর বেদী। কবীর বেদীর ব্যক্তিগত জীবন সিনেমার গল্পের থেকে কিছু কম আকর্ষণীয় নয়।
কবীর বেদীর স্ত্রী ছিলেন ওড়িশি নৃত্যশিল্পী প্রতিমা বেদী। কিন্তু প্রতিমার সঙ্গে কবীরের সংসার সুখের হয়নি। প্রতিমার সঙ্গে কবীরের সম্পর্ক চিড় ধরলে সেই সময় পারভিনের জীবনে আসে ‘দিওয়ার’, ‘অমর আকবর অ্যান্টনি’, ‘নমক হালাল’-এর মতো ছবি। পারভিন যেন কবীরের ক্ষততে প্রলেপ দিয়েছিলেন। জমে উঠেছিল তাঁদের প্রেম। পারভিনের টানেই সংসার ছাড়েন কবীর বেদী। কিন্তু শেষ অবধি পারভিনের সঙ্গেো সংঘাত হয় কবীরের। কবীরকে ছেড়ে চলে যান পারভিন। কিন্তু কেন?
কবীর জানিয়েছিলেন, ‘আমার আর প্রতিমার ওপেন ম্যারেজটা প্রথমে মনে হয়েছিল একটা ভালো কিছু। কিন্তু সেটা পরবর্তীকালে আমার হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এর জেরে আমাদের সম্পর্কের অন্তরঙ্গতা কমে আসে। আমি ভালোবাসার অনুভূতিটা হারিয়েছিলাম, যে পরিমাণ আদর-যত্ন ভাগ করে নেওয়ার ছিল সেটা হয়ে উঠেনি কোনওদিন। তবে এই সম্পর্ক ভেঙে বেরিয়ে আসতেও পারছিলাম না। আমি একাকীত্বে ভুগছিলাম, আমার মনে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল...সেই শূন্যতা পূরণ করেছিল পারভিন। অসম্ভব সুন্দরী একজন অভিনেত্রী, ফর্সা গায়ের রঙ, কালো লম্বা চুল, মোহময়ী চোখ আমায় মুগ্ধ করেছিল। সে সময় পারভিন ছিলেন ভীষণ অনুভূতিপ্রবণ এবং অসম্ভব বুদ্ধিমতী।’
কবীর বেদী পারভিনকে ডেট করা শুরু করেন ১৯৭৫ সাল থেকে। যদিও শুধু কবীর নন, অমিতাভ বচ্চন, ড্যানি, মহেশ ভট্টর সঙ্গেও পারভিন ববির সম্পর্ক বেশ অনেকদূর এগিয়ে ছিল। কবীর বেদী যখন বলিউডে পা রাখেন তখন তাঁকে বলা হতো ‘গ্রীক গড’। বাবা ছিলেন পাঞ্জাবি, মা ছিলেন ব্রিটিশ। এ কারণেই এতখানি পৌরুষ উজ্জীবিত হয় কবীরের। কলেজ ফি জোগাড় করার জন্য 'অল ইন্ডিয়া রেডিও'-তে যোগ দেন তিনি। তাঁর কন্ঠস্বরের ভক্তও তো কম নয়! এরপর লুকের জন্য অভিনয় জগতে সুযোগ পান তিনি।
কবীর যখন পারভিনকে নিয়ে লন্ডনে যান তখন পারভিনকে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ দেখানোর কথা বলেন কবীর। প্রেমের সংঘাত শুরু ঠিক এখান থেকেই।
পারভিনের ভয় ছিল, তাঁকে ডাক্তার দেখানো হলে পাগল প্রতিপন্ন করা হবে তাঁকে। যে কারণে বলিউড থেকে তাঁকে সরতে হতে পারে। অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েই পারভিন সেই রাতে কবীরকে ছেড়ে চলে যান।
কবীর বেদী বলেছিলেন যাকে নিয়ে আবার ঘর বাঁধা যায় ভেবেছিলাম, সে আসলে মানসিক রোগের শিকার। নিজেকে বারবার শেষ করে দিতে চেয়েছিলেন, পারভিন। উথালপাথাল প্রেম নিভল অবিশ্বাসে। কোনও পুরুষের সঙ্গেই বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি তাঁর। ক্রমে সিজোফ্রেনিয়ার মতো রোগের শিকার হয়ে, নানা শারীরিক অসুস্থতায় ভুগে ২০০৫ সালের ২০ জানুয়ারি বন্ধ ঘরে একাকী মৃত্যু হয় বলিউডের লাস্যময়ী নায়িকার।