আমার বাপের বাড়ির পুজোর রীতি হল, নাকে নথ আর কপালে টিকলি পরতেই হয়। আমি পুজোর সময় সেভাবেই সাজি।

গ্রাফিক্স: শুভ্র শর্ভিন
শেষ আপডেট: 1 October 2025 19:29
টলিউডের মিষ্টি অভিনেত্রী বুলবুলি চৌবে পাঁজা (Bulbuli Chaubay Panja)। পুজোর (Pujo) কটা দিন বুলবুলি কাটান তাঁর গ্রামের শ্বশুরবাড়িতে। বর্ধমানের পলাশী গ্রামে হয় এই দুর্গা পুজো। পলাশী থেকেই দ্য ওয়ালে পুজোর গল্প করলেন বুলবুলি। শহরের পুজোর ভিড় এড়িয়ে ঘুরে আসা যাক গ্রামের নিষ্ঠভরা শান্ত পুজোতে।
বুলবুলি বললেন 'আমার বাপের বাড়ি ও শ্বশুরবাড়ি দু জায়গাতেই দুর্গা পুজো হয়। শ্বশুরবাড়ির আদি ভিটে হল বর্ধমানের এই পলাশী গ্রামে। এই সাবডিভিশনে বাংলার চাল সবথেকে বেশি উৎপাদন হয়। আগে পলাশী গ্রামে মাত্র দুটো দুর্গা পুজো হত। তাই আমার শ্বশুরবাড়িতে গ্রামের মানুষদের জন্য এই পুজো ২০ বছর আগে শুরু হয়। তবে পুজো শুরুর সবথেকে বড় কারণ ছিল একান্নবর্তী পরিবার কর্মসূত্রে চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে সারা বছর। পুজোর সময় আদি ভিটেতে পুরো পরিবারকে এক করা। মা দুর্গা যেমন বাপের বাড়ি আসেন, তেমন সবাই যেন তাদের ভিটেতে ফিরে আসেন।'

#rel
দ্য ওয়ালেই দেবীপক্ষর শুরুতে বুলবুলি জানিয়েছিলেন কী ভাবে নবরাত্রির ব্রত রাখেন প্রতি বছর। আজ নবমীর দিন সেই নবরাত্রির ব্রত সমাপন হল। বুলবুলি বললেন 'এই পুজোতে বলিপ্রথা নেই। তাই মায়ের ভোগ নিরামিষ পদেই হয়। অষ্টমীর দিন সন্ধিপুজো, আরতি হল। নবমীর দিন আমাদের অনেকগুলো বিশেষ কাজ থাকে। বাড়ির প্রায় সকল মহিলারাই নবরাত্রি করেন। আজ নবরাত্রি ভাঙার দিন। মহালয়ার পর থেকে নবরাত্রি পালন করে আজকে প্রথম আমরা মৎস্যমুখ করব। আমাদের গ্রামের পুকুর থেকেই সেই মাছ তোলা হয়।

সেইসঙ্গে আমরা সারা গ্রামকেই বলি এই নবমীর দিন খাওয়ার জন্য। আমিষ রান্নার আলাদা ব্যবস্থা থাকে। বর্ধিষ্ণু পরিবারের সঙ্গে নিম্নবিত্ত পরিবারের মানুষদেরকেও একই সমাদরে খাওয়ানোর প্রথা রয়েছে। অষ্টমীতে গ্রামের অনাথাশ্রম ও বৃদ্ধাশ্রমে বস্ত্রবিতরণ করি আমরা। আজ নবমীতে বাড়ির থেকে গ্রামের দুঃস্থ লোকেদের বস্ত্রবিতরণ করা হবে। নবরাত্রি ভাঙার পর নজন গ্রামের বালিকাকে লাল জামা উপহার দেবার রীতিও রয়েছে।'

বাড়ির পুজোতে বুলবুলি কী ভাবে সাজলেন?
অভিনেত্রী বললেন 'আমার বাপের বাড়ির পুজোর রীতি হল নাকে নথ আর কপালে টিকলি পরতেই হয়। আমি পুজোর সময় সেভাবেই সাজি। আটপৌরে করে কাপড়, হাতে মাটির শাঁখা-পলা, পায়ে নূপুর পরি সঙ্গে আলতা। আমি চূড়াও পরি যেহেতু বাপের বাড়িতে সধবা মেয়েদের চূড়া পরার রেওয়াজ রয়েছে। এই গ্রামের আলতা বউ আমাদের আলতা পরাতে আসবেন। ষষ্ঠীর বোধনের দিনে শাঁখারি কাকা আমাদের বৌ-দের মাটির শাঁখা-পলা পরিয়ে গিয়েছেন। এই মাটির শাঁখা-পলা মা দুর্গাকেও পরানো হয়।'

শুটিং শিডিউল ছেড়ে গ্রামের বাড়ির মাটির ভিটেতে বুলবুলি পুজোর কদিন সাবেকি গিন্নি। তবে বাস্তবেও একা হাতে নানা পদ রান্না করে, অতিথি আপ্যায়ণে বুলবুলি সাক্ষাৎ দ্রৌপদী।