এক সময়ের সিলভার স্ক্রিনের ঝলমলে তারকা, আজও তিনি আলোচনার কেন্দ্রে তবে, একেবারেই অন্য কারণে।

সবচেয়ে ধনী নায়িকা!
শেষ আপডেট: 4 October 2025 19:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক সময়ের সিলভার স্ক্রিনের ঝলমলে তারকা, আজও তিনি আলোচনার কেন্দ্রে তবে, একেবারেই অন্য কারণে। বলিউডের প্রিয় মুখ জুহি চাওলা— যিনি নয়ের দশকে একের পর এক হিট ছবিতে দর্শকের হৃদয় জয় করেছিলেন— এখন আর সিনেমায় নিয়মিত নন। গত দু’বছর কোনও ছবিতেই দেখা যায়নি তাঁকে। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে, তিনি হয়ে উঠেছেন ভারতের সবচেয়ে ধনী অভিনেত্রী। সিনেমার বাইরে দাঁড়িয়ে, নিজের বুদ্ধিমত্তা, দূরদৃষ্টি আর ব্যবসায়িক বিচক্ষণতায় গড়ে তুলেছেন এক বিশাল সাম্রাজ্য— যার মূল্য আজ প্রায় ৭,৭৯০ কোটি টাকা।
হারুন ইন্ডিয়া রিচ লিস্ট ২০২৫ অনুযায়ী, গত এক বছরে জুহি চাওলা ও তাঁর পরিবারের সম্পত্তি বেড়েছে আশ্চর্যজনকভাবে ৬৯ শতাংশ। এই উত্থান তাঁকে দেশের সব নারী অভিনেতার মধ্যে সম্পদের দিক থেকে এক নম্বরে নিয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, তিনি এখন ভারতের ষষ্ঠ সর্বাধিক ধনী স্বনির্মিত নারী হিসেবেও জায়গা করে নিয়েছেন এম৩এম হারুন ইন্ডিয়া রিচ লিস্টে। এক বছরে তাঁর আয় বেড়েছে প্রায় ৩,১৯০ কোটি টাকা— এককথায় অবিশ্বাস্য সাফল্য।
তাঁর এই অগাধ সম্পদের মূল উৎস বলিউড নয়, বরং ক্রিকেট। জুহি চাওলা কলকাতা নাইট রাইডার্সের অন্যতম মালিক। তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধু ও সহ-অভিনেতা শাহরুখ খান এবং স্বামী জয় মেহতার সঙ্গে মিলে তিনি পরিচালনা করেন এই জনপ্রিয় আইপিএল দলটি। শাহরুখের রেড চিলিজ এন্টারটেনমেন্ট এবং মেহতা গ্রুপের যৌথ মালিকানায় থাকা নাইট রাইডার্স স্পোর্টসই আজ তাঁর অর্থনৈতিক শক্তির মূল ভিত্তি।

২০২৪ সালের আইপিএল শিরোপা জয় করার পর কেকেআরের ব্র্যান্ড মূল্য পৌঁছে যায় ১,৯১৫ কোটি টাকায়, যা হৌলিহান লোকে-র আইপিএল ব্র্যান্ড ভ্যালুয়েশন স্টাডি (জুন ২০২৪)-এর তথ্য অনুযায়ী লিগের অন্যতম সেরা অবস্থানে। সেই জয়ের পর থেকেই জুহির সম্পদে যেন জোয়ার এসেছে। গত বছর যেখানে তাঁর সম্পত্তি ছিল ৪,৬০০ কোটি টাকার আশেপাশে, আজ তা বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ।
অভিনয় জীবনের শুরুর দিকে, ১৯৮৬ সালে ‘সুলতানত’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে পা রাখেন জুহি চাওলা। তারপর নব্বইয়ের দশকে একের পর এক সাফল্য— ‘কায়ামত সে কায়ামত তক’, ‘ডর’, ‘ইয়েস বস‘, ‘হম হ্যায় রাহী পেয়ার কে’— তাঁকে পরিণত করে দেয় ইন্ডাস্ট্রির সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সর্বাধিক পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত নায়িকাদের একজন হিসেবে। কোমল হাসি আর প্রাণবন্ত উপস্থিতি তাঁকে করে তুলেছিল দর্শকের প্রিয়তমা।

২০১০-এ তিনি বেছে বেছে কিছু প্রজেক্টে কাজ করেছেন। তাঁর সর্বশেষ কাজ ছিল নেটফ্লিক্সের ফ্রাইডে নাইট প্ল্যান (২০২৩), যেখানে নবাগত বাবিল খানের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেছিলেন তিনি। তারপর থেকে সিলভার স্ক্রিনে আর দেখা যায়নি তাঁকে— কিন্তু সেই নীরবতার আড়ালেই যেন তৈরি হচ্ছিল এক নীরব বিপ্লব।
আজ জুহি চাওলা কেবল এক প্রাক্তন অভিনেত্রী নন, বরং এক সফল উদ্যোক্তা, এক দূরদর্শী বিনিয়োগকারী, আর সেই মেয়েটি, যিনি প্রমাণ করেছেন— খ্যাতি ফুরোয়, আলো ম্লান হয়, কিন্তু যাঁর আছে সাহস আর বিশ্বাস, তিনি কখনও হারিয়ে যান না। নয়ের সেই হাসিমুখ আজও যেন বলে দেয়— “যে পথেই যাই, আমি আলো খুঁজে নেব।” সিলভার স্ক্রিন থেকে দূরে থেকেও, জুহি চাওলা আজও নিজের জীবনের নায়িকা।