শুটিং চলার মধ্যেই দলে দলে জোঁকের উপদ্রব শুরু হয়। পাহাড়ি এলাকায় এই সমস্যার কথা অনেকেরই জানা, কিন্তু সেটে পরিস্থিতি যে এমন আকার নেবে, তা কেউ কল্পনাও করেননি।
_0.jpg.webp)
শেষ আপডেট: 12 January 2026 16:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভূতুড়ে নাম, রহস্যময় গল্প আর পাহাড়ঘেরা লোকেশন—সব মিলিয়ে ‘ভানুপ্রিয়া ভূতের হোটেল’ শুরু থেকেই কৌতূহল জাগাচ্ছে কাস্ট থেকে শুরু করে দর্শকদের মনে। তবে ছবির শুটিং চলাকালীন যে অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল ইউনিটকে, তা কোনও চিত্রনাট্যের অংশ নয়। একবার ছোট্ট একটা সমস্যা তবে আদপে ভয়ানক বিষয় কিছু সময়ের জন্য শুটিং সেটে চরম বিপত্তির কারণ হয়ে ওঠে। ভূতের আতঙ্ক নয়, বরং পাহাড়ি এলাকার এক জীব সকলকে কার্যত ব্যতিব্যস্ত করে তোলে।
উইন্ডোজ প্রোডাকশনের এই ছবি পরিচালনা করছেন অরিত্র মুখোপাধ্যায়। উত্তরবঙ্গের মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে ছবির বেশ কিছু অংশের শুটিং হয়েছে। ইউনিটের কলাকুশলীদের জন্য থাকা-খাওয়ার সমস্ত ব্যবস্থাই ছিল আরামদায়ক ও পরিকল্পিত। তবুও প্রাকৃতিক পরিবেশের হাতছানি যে সঙ্গে করে নিয়ে আসে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত বিপত্তি, তার হাত থেকে রেহাই পায়নি এই টিম।
শুটিং চলার মধ্যেই দলে দলে জোঁকের উপদ্রব শুরু হয়। পাহাড়ি এলাকায় এই সমস্যার কথা অনেকেরই জানা, কিন্তু সেটে পরিস্থিতি যে এমন আকার নেবে, তা কেউ কল্পনাও করেননি। কখনও পায়ের পাতায়, কখনও হাতে বা শরীরের বিভিন্ন অংশে নিঃশব্দে লেগে রক্ত চুষে নিচ্ছিল জোঁকগুলো। পরিচালক অরিত্র মুখোপাধ্যায় থেকে শুরু করে অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিক, অনামিকা সাহা, মানসী সিনহা—প্রায় সকলেই এই অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার শিকার হন। ভূতের ছবির শুটিংয়ে ভূতের থেকেও বেশি আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়ায় এই ক্ষুদ্র পাহাড়ি ‘রক্তচোষা’রা।
পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষমেশ জোঁকগুলোকে আলাদা করে বাক্সবন্দি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই বাক্স দেখেই শিউরে ওঠেন অনামিকা সাহা। পর্দায় যতই দাপুটে চরিত্রে তাঁকে দেখা যাক না কেন, বাস্তব জীবনে জোঁকের ভয় যে কম নয়, তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যদিও এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য শুটিং থেমে থাকেনি। ধীরে ধীরে জোঁকের হাত থেকে রেহাই পেয়ে ফের স্বাভাবিক গতিতে এগোয় ছবির কাজ।
উল্লেখ্য, ‘ভানুপ্রিয়া ভূতের হোটেল’-এর হাত ধরে প্রথমবার ভৌতিক ঘরানার ছবিতে কাজ করছেন নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। রোমান্টিক হরর-কমেডির স্বাদে তৈরি এই ছবির মুখ্য চরিত্রে রয়েছেন সোহম মজুমদার, মিমি চক্রবর্তী, বনি সেনগুপ্ত ও স্বস্তিকা দত্ত। এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা যাবে অনামিকা সাহা, কাঞ্চন মল্লিক, মানসী সিনহা, শ্রুতি দাস, রজত গঙ্গোপাধ্যায়, প্রিয়াঙ্কা ভট্টাচার্য, উজান চট্টোপাধ্যায়, বিমল গিরি ও অপূর্ব বারকে।
ইতিমধ্যেই মুক্তি পাওয়া ট্রেলার ও গান দর্শকদের মধ্যে ভালো সাড়া ফেলেছে। সব মিলিয়ে সরস্বতী পুজোর দিন, ২৩ জানুয়ারি, বড়পর্দায় মুক্তি পেতে চলেছে ‘ভানুপ্রিয়া ভূতের হোটেল’। ভৌতিক গল্পের সঙ্গে বাস্তব শুটিংয়ের এই অভিজ্ঞতা ছবিকে ঘিরে কৌতূহল আরও বাড়িয়ে তুলেছে।