গতকাল অর্থাৎ ১০ অক্টোবর নিউটাউনের এক অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হল শানের লাইভ কনসার্ট। হাজির ছিলেন হাজার হাজার দর্শক। 'তনহা দিল' থেকে শুরু করে 'চাঁদ সিফারিশ', 'যাদু হ্যায় নাশা হ্যায়', 'দিল নে তুমকো' নস্টালজিয়ার ভেলায় ভাসিয়ে গায়ক নিয়ে যাচ্ছিলেন ফেলে আসা অতীতে।

শেষ আপডেট: 11 October 2025 16:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: "সাক্ষী থাকুক শাল, অশ্বত্থ বটের পেয়াদারা,
সাক্ষী থাকুক ছাতিম-পলাশ-বুনো ফুলের ঘ্রাণ..."!
কংক্রিটের জঙ্গলে এ সবের অস্তিত্ব ছিল না সেই সন্ধেতে। ছিল না বুনো ফুলের শিহরণ। তবে যা ছিল তা হল একরাশ মুগ্ধতা, ছিল দীর্ঘদিনের লালিত এক না ফুরনো ভালবাসা।
গতকাল অর্থাৎ ১০ অক্টোবর নিউটাউনের এক অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হল শানের লাইভ কনসার্ট। হাজির ছিলেন হাজার হাজার দর্শক। 'তনহা দিল' থেকে শুরু করে 'চাঁদ সিফারিশ', 'যাদু হ্যায় নাশা হ্যায়', 'দিল নে তুমকো' নস্টালজিয়ার ভেলায় ভাসিয়ে গায়ক নিয়ে যাচ্ছিলেন ফেলে আসা অতীতে। শো যখন প্রায় জমজমাট ঠিক তখনই আচমকাই শান এক অনুরোধ করে বসেন দর্শকদের। বলে বসেন, "আমায় একটু পাঁচ মিনিট দেবেন, একটু জল খাব।" টানা গান গাইছেন, এ অনুরোধ একেবারেই অযৌক্তিক নয়। তবে চমকের বাকি ছিল তখনও।

আচমকাই শানের ফোন নিয়ে হাজির হলেন এক ব্যক্তি, স্টেজের উপরেই। ভিডিও কলে স্ত্রী রাধিকা মুখোপাধ্যায়। তা জানতে পেরেই ৫৩-র শানের মুখেও ফুটে উঠল বছর ষোলোর কিশোরের লাজুক হাসি। মাথা চুলকে বললেন, 'আসলে আজ তো করওয়া চৌথ। আমার পাঞ্জাবি স্ত্রী না খেয়ে বসে আছে। মনে হয় চাঁদ দেখা গিয়েছে। এবার আমাকে দেখে তবেই খাবে।"
তারপরের অধ্যায়টা বেশ ফিল্মি। বলিউড তো তামাম জনগণকে শিখিয়েই দিয়েছে এরপরের ধাপগুলো। একবার চাঁদ, একবার শান... উপোস ভাঙলেন রাধিকা। জল খেলেন শান নিজেও। এরপরেই দর্শকদের উদ্দেশে ছুড়ে দিলেন এক প্রশ্ন, 'আজ কি উপস্থিত কেউ করওয়া চউথ করছেন এখানে?' দর্শকদের তরফে তেমন সাড়া না মেলায় ফের বললেন, "হ্যাঁ, ঠিকই আছে। আমরা তো বাঙালি। আমদের এই সব করওয়া চৌথ নেই।"

এই মুহূর্তে শানের বয়স ৫৩ বছর। তবে গতকালের এনার্জি দেখে তা বিশ্বাস করতে খানিক কষ্ট হচ্ছিল। কখনও টি-শার্ট খুলে শাহরুখোচিত ভঙ্গিতে দুই হাত বাড়িয়ে 'ক ক ক কিরণ' আবার কখনও বা 'ও লেড়কি হ্যায় কাহা'র সেই আইকনিক নাচ ... কিছুই বাদ দিচ্ছিলেন না বাংলার শান্তনু। নিজের গানেই যে সীমাবদ্ধ ছিল তাঁর পারফরম্যান্স তা কিন্তু নয়। কখনও কুমার শানু, কখনও অভিজিৎ আবার কখনও সোনু নিগম...সবার গানই গেয়ে চললেন একটানা। বারবার ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন ২০০০-এর মাঝামাঝি সময়টায়। অফিসের চাপে দগ্ধ মিলেনিয়ালদের তখন চোখের কোণে জল। নস্টালজিয়া যে বড় দায়! তা কি এভাবে ভোলা যায়?