
প্রতীকী ছবি: শুভ্র শর্ভিন
শেষ আপডেট: 11 December 2024 17:58
শহর জুড়ে চলছে ৩০তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। আজ তার শেষ দিন। বছরভর আপামর বাঙালি ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ মুখিয়ে থাকেন এই উৎসবের জন্য। এবার নেতাজি ইন্দোরে নয়, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়েছে ধনধান্য স্টেডিয়ামে। সেখানে বসেছিল চাঁদের হাট। এদিকে আবার ৩০তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে এসে বেশ কিছুটা হতাশ বেঙ্গল প্যানোরমার জুরি।
এমনিতেই বাংলা সিনেমার সুদিন আর দুর্দিন-এই নিয়ে চর্চার অন্ত নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় মাঝেমধ্যেই এ নিয়ে প্রতিবাদী রব ওঠে! অনেক দিন ধরেই দর্শককে বাংলা ছবির পাশে দাঁড়ানোর আর্জি জানাচ্ছেন নির্মাতা বা অভিনেতারা। সাংবাদিক বৈঠক থেকে সোশাল মিডিয়া, সর্বত্র ওই কথা বলতে শোনা যাচ্ছে অনেককে। উৎসব চলাকালীন দ্য ওয়ালের মুখোমুখি হলেন ভিকে চেরিয়ান (জুরি, বেঙ্গলি প্যানোরমা)।
দ্য ওয়ালের তরফ থেকে জুরি মেম্বারকে প্রশ্ন করা হয়, বেঙ্গল প্যানোরমায় মোট কতগুলি সিনেমা রয়েছে? উত্তরে তিনি জানান ৭টি। এবার প্রশ্ন হল, তার মধ্যে কি এমন কোনও সিনেমা রয়েছে, যা পুরোটা দেখতে ইচ্ছে করেনি? উত্তরে তিনি জানান, এভাবে তো সব সিনেমাকে খারাপ বলা যায় না। তবে এমন একটা সিনেমা অবশ্যই রয়েছে, যা তাঁর বেশ খারাপ লেগেছে।
পাল্টা প্রশ্ন করা হয়, এমনটার কারণ কী? তবে কি চেকলিস্টে সমস্যা? অর্থাৎ ফাইনাল রাউন্ডে যখন সিনেমা বেছে নেওয়া হয়, তখনই সেই বিচারে আসল সমস্যা রয়ে যায়? দ্য ওয়ালকে উত্তরে ভিকে চেরিয়ান বলেন, 'চেকলিস্টে সমস্যা এমনটা বলা যায় না। যে যে ছবি মনোনীত হবে, সেখান থেকেই তো বেছে নেওয়া হবে। এবার যদি সেসব ছবির মানই এমন থাকে, সেক্ষেত্রে কারই বা কী করার আছে!'
তিনি আরও বলেন, 'সিনেমার প্রথম অংশ দেখেই সিদ্ধান্তে আসা যায় না। তার জন্য গোটা সিনেমা দেখতে হয়। তারপরেই বলা যায়, কোন সিনেমা কেমন। এখন বাংলায় এমন অনেক সিনেমা হয়, যার পুরোটা বসে দেখা দায় হয়ে যায়। মৃণাল সেন, ঋত্বিক ঘটকের সময় যেমন বাংলা ছবি হত, এখন কেন সেসব হয় না? তারাও বাংলা ভাষাকে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে গিয়েছিলেন। আসলে আমার মনে হয়, বাংলা সিনেমার মান বেশ খানিকটা পড়েছে। আগে যেমন সিনেমা হত, তেমন খুঁজে পাওয়া কঠিন।'