বয়স, সমাজের গতানুগতিক ধারণা কিংবা ‘লোকে কী বলবে’— এসব তাঁর কাছে বরাবরই গৌণ। মুখ্য হয়ে ওঠে আড়ম্বরহীনতা (Swastika Mukherjee)।

স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 14 December 2025 14:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পঞ্চাশের ধারে কাছে এলেই ত্বক কুঁচকে যাবে, বলিরেখা পড়বে, হাড়ের জোর কমবে। অনেকেই বলবেন, সেটাই স্বাভাবিক। বয়স বাড়লে, শরীর জানান দেবে।
অনেকেই বয়সকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিব্যি ফিট। বাংলা ছবির দুনিয়ায় স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় (Swastika Mukherjee) মানেই সাহস, স্পষ্টতা আর নিজস্বতা। পর্দায় কমেডি থেকে চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে যেমন অনায়াস সাবলীল, বাস্তব জীবনেও তেমনই তিনি। বিতর্ক, গসিপ বা সমালোচনা— কোনওটাই তাঁকে দমিয়ে রাখতে পারে না। যা ভাবেন, তা অকপটে বলতেই স্বচ্ছন্দ বোধ করেন স্বস্তিকা। বয়স, সমাজের গতানুগতিক ধারণা কিংবা ‘লোকে কী বলবে’— এসব তাঁর কাছে বরাবরই গৌণ। মুখ্য হয়ে ওঠে আড়ম্বরহীনতা (Swastika Mukherjee)।

ফ্যাশনের ক্ষেত্রেও তিনি ট্রেন্ডসেটার। বয়স যে শুধুই একটি সংখ্যা, তা বারবার প্রমাণ করেছেন অভিনেত্রী। ৪৫ তম জন্মদিনে (Swastika Mukherjee Birthday) সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর নতুন পোস্ট ফের নজর কেড়েছে অনুরাগীদের। হলুদ-সাদা চেক বিকিনি-স্টাইল পোশাকে, চোখে সানগ্লাস আর গলায় মুক্তোর মালা— মন্দারমণির (Mandarmani) সমুদ্রপাড়ে স্বস্তিকার উপস্থিতি যেন আত্মবিশ্বাসে টইটম্বুর। সেই ছবির সঙ্গে লেখা তাঁর বক্তব্য যতটা সত্য ততটাই ধারালো।

স্বস্তিকার কথায়, এই শরীর শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়— এই শরীর বেঁচে থেকেছে, কাজ করেছে, সন্তান ধারণ করেছে, রাজনীতি করেছে, প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। সমাজ যখন তাকে অদৃশ্য হতে বলেছিল, তখনও সে থামেনি। জল, সূর্য আর নিজের জায়গা দাবি করার অধিকার এখনও তার আছে। আর তা যদি কারও অস্বস্তির কারণ হয়, তাতেই তিনি সন্তুষ্ট।

ইন্ডাস্ট্রিতে এসেছিলেন কোলে মেয়ে নিয়ে। যে সময়ের কথা হচ্ছে, সেই সময়ের সমাজে নায়িকাদের নিয়ে বিভিন্ন তত্ত্ব ছিল। অভিনেত্রীদের বিয়ে যাওয়া মানে বয়স বেড়ে যাওয়া। সন্তান হয়ে গেলে তো আর কথাই নেই! স্বস্তিকা চিরকালই ছক ভাঙা। তাই এই তত্ত্বের ধার ধারেননি তিনি। সকলের সামনে মেয়েকে নিয়ে এসেছেন। মেয়ের সঙ্গেই বড় হয়েছেন যেন।

মন্দারমণির সমুদ্রতটে হলদে বিকিনিতে স্বস্তিকার উপস্থিতি যেন আরও একবার সেই বার্তাই দিল— বয়স বা শরীর কোনওটাই নারীর স্বাধীনতার মাপকাঠি নয়। স্পেশ্যাল দিনে নিজেকেই শুভেচ্ছা জানিয়ে অভিনেত্রী লিখেছেন, বয়স বাড়া সমস্যা নয়; সমস্যা সেই সংস্কৃতি, যা মহিলাদের ভয় দেখিয়ে অনুমতির গণ্ডিতে বেঁধে রাখতে চায়। সেলুলাইট, পিগমেন্টেশন বা বয়সের ছাপ— সব মিলিয়েই এই শরীর তাঁর কাছে গর্বের।