সিনেমার আলো, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ, অ্যাকশন-কাটের মাঝের কোলাহল—এই সব কিছুর মাঝেও স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের জীবনে একটা জায়গা আছে, যেখানে সবকিছু থেমে যায়।

স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় ও অজপা মুখোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 29 October 2025 14:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিনেমার আলো, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ, অ্যাকশন-কাটের মাঝের কোলাহল—এই সব কিছুর মাঝেও স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের জীবনে একটা জায়গা আছে, যেখানে সবকিছু থেমে যায়। সেখানে শুধু থাকে একটুখানি বাতাস আর নস্টালজিয়া।
সেই পুরনো দিনের টুকরো স্মৃতি ঝালিয়ে নিলেন এক লহমায়। ফেসবুক পাতায় স্বস্তিকা লিখলেন, তাঁদের পরিবারের একটা মজার দিক হলো—কেউই নিজের কাজের ‘বাগেজ’টা বয়ে বেড়ান না। বাবা সারাজীবন বলতেন, “স্টুডিওটাই আমার অফিস।” মা ছিলেন একেবারে সাধারণ গৃহবধূ। বড় ফিল্মস্টারের স্ত্রী হয়েও জীবনে কোনও বাড়তি চাকচিক্য আসেনি। পরের প্রজন্মে এসে স্বস্তিকা আর তাঁর বোন—দু’জনেই ইন্ডাস্ট্রির অঙ্গ, কিন্তু কারোরই কপালে কোনও বিশেষ ‘ডানা’ গজায়নি।
এক সময় জনপ্রিয়তা মাপা হতো রাস্তার মানুষের চোখে। যাদবপুর থেকে টলিগঞ্জের পথে বেরোলেই, সঙ্গে বোন থাকলে বলত, “চল চল, রিকশা করে যাই।” স্বস্তিকা হেসে প্রতিবাদ করতেন, “না না, আমি রিকশায় উঠব না, ট্যাক্সি নেব।” কিন্তু বোনের সোজা উত্তর, “কেন রে? তুই কে রে? কেউ চিনবে না! এত ভাব নিচ্ছিস কেন, যেন খুব বড় হিরোইন!”
অবশেষে ব্যাগ দিয়ে মুখটা ঢেকে রিকশায় উঠতেন অভিনেত্রী। কিছুক্ষণের মধ্যেই রিকশাচালক হয়তো বলেই ফেলত, “ও দিদি, আপনি বই করেন না? আপনার ছবি দেখেছি... না না, পয়সা লাগবে না!” পাশে বসে বোন নির্বিকার মুখে রাস্তা দেখত, যেন কিছুই শুনছে না।
সোশ্যাল মিডিয়ার আগের পৃথিবীটা ছিল একেবারে অন্যরকম। মানুষ চিনে নিলে গল্প শুরু হতো—কোন সিনেমা কেমন লাগল, কার বাড়িতে কার ছবি জনপ্রিয়, কোন গ্রামে কোন ছবি চলছে—সব মিলিয়ে এক মানবিক উষ্ণতা। তখনকার তারকারা ছিলেন যেন অধরা জ্যোৎস্নার মতো। এখনকার দুনিয়ায় সবাই হাতের মুঠোয়—ফোনের স্ক্রিনে বন্দি। সেলফি তুলে স্মৃতি রাখা ছাড়া কথাবার্তাও নেই।
স্বস্তিকা নিজেই স্বীকার করেন, “আমি চ্যাদ-ভ্যাদ কমই করি, বয়সের সঙ্গে সঙ্গে সেটা আরও কমছে।” রিলের দশ সেকেন্ডের দুনিয়ায় সবাই এখন বিখ্যাত। কিন্তু মৃত্যুর পর কজন মনে রাখবে? ভালো কাজ, সহানুভূতি—এসব দিয়েই হয়তো মানুষ বিচার হবে, খ্যাতি দিয়ে নয়।
কোভিডের সময় আবার শুরু হয়েছিল রিকশায় চড়া। ভাবনা এসেছিল—আহারে, ওদের তো রোজগারই নেই! পাড়ার কুকুরছানাগুলোকেও ওরাই দেখাশোনা করে। সাধারণ জীবনের সঙ্গে সেই সংযোগটা ফিরিয়ে আনতেই হয়তো রিকশা আবার জীবনের অংশ হয়ে উঠল।
লক্ষ্মীপূজোর দিন নিমন্ত্রণে যাওয়ার সময় রিকশাই ছিল ভরসা। কয়েক দিন পর বিজয়গড়ে এক কাজের জায়গায় যেতে হবে—বোন তখন বলল, “রিকশা নিয়েই যাই।” স্বস্তিকা হেসে জিজ্ঞেস করলেন, “উবের নিবি নাকি?” বোনও হেসে ফেলল। এবার আর বলল না, “তোকে কেউ চিনবে না দিদি।”
দু’জনে একসঙ্গে রিকশায় চেপে বসে গল্প করতে করতে ফিরলেন। পাড়ার পুরনো রিকশাচালকের নাতি–নাতনিও নাকি এখন স্কুলে যায়—বকশিসও পেল। বোনের সেই চেনা সংলাপ আবার ঝুলল ঠোঁটে, “ধুর, ছাড় তো!”