সদ্য প্রকাশিত মোশন পোস্টারে দেখা গেছে এক বিস্ফোরক রূপান্তর— জিত যেন ইতিহাস থেকে উঠে আসা এক বিপ্লবী চরিত্র, যার চোখে আগুন, হাতে লাঠি আর এক অনমনীয় জেদ।

শেষ আপডেট: 28 October 2025 21:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলা সিনেমায় বাণিজ্যিক নায়ক মানেই সাধারণত নাচ, মারপিট, সংলাপ আর হিরোগিরি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দর্শকও বদলেছে, তাই নায়ককেও বদলাতে হয়। সেই পরিবর্তনেরই প্রমাণ যেন টলিউড সুপারস্টার জিতের আসন্ন ছবি “কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত”।
সদ্য প্রকাশিত মোশন পোস্টারে দেখা গেছে এক বিস্ফোরক রূপান্তর— জিত যেন ইতিহাস থেকে উঠে আসা এক বিপ্লবী চরিত্র, যার চোখে আগুন, হাতে লাঠি আর এক অনমনীয় জেদ।
ছবিটির কেন্দ্রীয় চরিত্র অনন্ত সিংহ, যিনি ছিলেন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের এক বিতর্কিত যোদ্ধা। সমাজের দৃষ্টিতে কেউ তাঁকে বিপ্লবী বলেছেন, কেউ ডাকাত। এই দ্বৈত পরিচয়ের ভেতরেই লুকিয়ে আছে ছবির আসল দর্শন— মানুষ কি শুধুমাত্র তাঁর কর্ম দিয়েই চিহ্নিত হয়, নাকি সময়ই তাঁকে নতুন করে চিনিয়ে দেয়? পরিচালক পথিকৃত বসুর এই সিনেমা সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজবে সিনেমার পর্দায়।
মোশন পোস্টারটি প্রকাশের পর থেকেই দর্শকমহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ব্যাকগ্রাউন্ডে ঢাকের তালে বিপ্লবের ছন্দ, পর্দায় দেখা যাচ্ছে রক্তলাল আলো আর পুরনো কলকাতার ছায়া। জিতের মুখে এক অনমনীয় অভিব্যক্তি— যেন লড়াই থামেনি, কেবল সময় বদলেছে। পোস্টারের নীচে লেখা, “বিপ্লব অনন্ত, এর কোনও শেষ নেই।” এই একটি বাক্যই যেন ছবিকে এক সুতোয় বাঁধে।
এই ছবির প্রস্তুতির পেছনে জিতের পরিশ্রমও প্রশংসনীয়। নিজের বাণিজ্যিক ইমেজ ভেঙে তিনি এক বাস্তব চরিত্রের গভীরে প্রবেশ করেছেন। চরিত্রের জন্য লাঠিখেলা শিখেছেন, শরীরী ভাষায় এনে ফেলেছেন বিপ্লবীর শক্তি ও ক্ষোভের ছাপ। তার অভিনয়গুণের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট— ৬০–৭০-এর দশকের অস্থির কলকাতা, যেখানে আদর্শ ও অস্ত্র পাশাপাশি হাঁটে।
ছবিটি নির্মিত হচ্ছে বড় স্কেলে— কলকাতা, ঝাড়খণ্ড থেকে শুরু করে মসাঞ্জর ড্যাম পর্যন্ত নানা লোকেশনে হবে শুটিং। প্রোডাকশন ডিজাইনে থাকবে সময়ের নির্ভুল পুনর্নির্মাণ, যাতে দর্শক অনুভব করতে পারেন সেই যুগের উত্তাপ ও অস্থিরতা।
তবে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ জিতের নতুন লুক। এতদিনের পরিচিত বাণিজ্যিক হিরো এবার এক দার্শনিক বিপ্লবীর অবয়বে— যে সমাজের নিয়ম মানে না, কিন্তু অন্যায়ের বিরুদ্ধে নীরবও থাকতে চায় না। এই ছবির মাধ্যমে জিৎ যেন নিজেকেও নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছেন।
সময়ের সঙ্গে বাংলা সিনেমা যখন নিজস্ব ভাষা খুঁজছে, “কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত” তখন হয়ে উঠতে পারে এক সাহসী পদক্ষেপ— যেখানে ইতিহাসের সঙ্গে মিশে যাবে নায়কের ব্যক্তিগত পুনর্জন্ম।