বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের হাজার হাজার টেকনিশিয়ানের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ সামনে এল। সাংসদ ও অভিনেতা দেব, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখে বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির টেকনিশিয়ানদের ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্পের আওতায় আনার অনুরোধ জানান

শেষ আপডেট: 12 March 2026 16:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের হাজার হাজার টেকনিশিয়ানের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ সামনে এল। সাংসদ ও অভিনেতা দেব, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখে বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির টেকনিশিয়ানদের ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্পের আওতায় আনার অনুরোধ জানান। তাঁর সেই আবেদনে সাড়া দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী, সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে সে কথাও জানান অভিনেতা-সাংসদ। (Swasthya Sathi, Film Technicians, Dev, Mamata Banerjee)
৭ মার্চ ২০২৬ তারিখে লেখা ওই চিঠিতে দেব উল্লেখ করেন, পূর্ব ভারতের সিনেমা টেকনিশিয়ান ও কর্মীদের সংগঠন Federation of Cine Technicians and Workers of Eastern India (FCTWEI)-এর অধীনে কাজ করা সাত হাজারেরও বেশি টেকনিশিয়ান আগে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে ৫ লক্ষ টাকার একটি মেডিক্লেম সুবিধার আওতায় ছিলেন। কিন্তু চলতি অর্থবর্ষে সেই সুবিধা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বহু টেকনিশিয়ান ও তাঁদের পরিবার স্বাস্থ্য সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়েছেন।
চিঠিতে দেব জানান, এই পরিস্থিতি নিয়ে বহু টেকনিশিয়ান তাঁর কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের অধিকাংশই আবার ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্পের আওতায়ও নেই। তাই বিষয়টি বিবেচনা করে টেকনিশিয়ানদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ করেন তিনি। একই সঙ্গে টেকনিশিয়ানস স্টুডিও প্রাঙ্গণে একটি বিশেষ ক্যাম্পের আয়োজন করে যোগ্য কর্মীদের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করার আবেদনও জানান সাংসদ।
মুখ্যমন্ত্রীর সম্মতিতে এবার সেই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হতে চলেছে। দেব নিজেই জানান, বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সাত হাজারেরও বেশি পরিশ্রমী টেকনিশিয়ানের কল্যাণে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার পথ খুলে গিয়েছে।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে আগামী ১৪ মার্চ টেকনিশিয়ানস স্টুডিও প্রাঙ্গণে একটি বিশেষ রেজিস্ট্রেশন ক্যাম্প বসবে। সেখানে উপস্থিত থেকে সমস্ত যোগ্য টেকনিশিয়ানকে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করার অনুরোধ জানিয়েছেন দেব, যাতে তাঁরা এই সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্পের সুবিধা নিতে পারেন।
বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পে ক্যামেরার পেছনে কাজ করা অসংখ্য কর্মীর শ্রমেই তৈরি হয় বড় পর্দার ম্যাজিক। তাঁদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে টলিপাড়ার এক বড় অংশ। হাজার হাজার টেকনিশিয়ান ও তাঁদের পরিবারের জন্য এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে স্বস্তির বার্তা হয়ে এল।