সোমার সত্তরতম জন্মদিন সেলিব্রেট করতে মেয়ে রাইমাকে নিয়ে লাল স্লিভলেস গাউন পরে সোমার আবাসনে হাজির হলেন মুনমুন সেন।

গ্রাফিক্স - দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 16 July 2025 20:29
সুচিত্রা সেন আর সুপ্রিয়া দেবীর সম্পর্কের সেতু ছিলেন উত্তমকুমার। সুচিত্রা-সুপ্রিয়া, দুই নায়িকা কখনও একসঙ্গে কোনও ছবিতে স্ক্রিনশেয়ার করেননি। একসঙ্গে ফটো সেশনেও দাঁড়াননি দুই কিংবদন্তি। যা সবার কাছেই এক বিরল আশ্চর্যের ব্যাপার। দু'জনের মধ্যে ছিল সৌজন্যমূলক সম্পর্ক। দু'জন দু'জনের প্রিয় বান্ধবীও কোনওদিনই ছিলেন না। উত্তমের জীবিতকালে সুচিত্রার প্রতি জন্মদিনে ফুল পাঠাতে ভুলতেন না উত্তম-সুপ্রিয়া। সেই ধারা তাঁদের মেয়েরাও বজায় রেখেছেন। তবে শুধু ফুল পাঠানো নয়, সুচিত্রা কন্যা মুনমুন সেন আর সুপ্রিয়া কন্যা সোমা চৌধুরী চ্যাটার্জীর ভীষণ বন্ধুত্ব। শুধু তাই নয়, মুনমুনের মেয়ের রাইমার খুব ভাল বান্ধবী সোমার বড় মেয়ে অনিতা।
সোমার সত্তরতম জন্মদিন সেলিব্রেট করতে মেয়ে রাইমাকে নিয়ে লাল স্লিভলেস গাউন পরে সোমার আবাসনে হাজির হলেন মুনমুন সেন।

দুই মেয়ে যেন মায়েদের স্মৃতি এভাবেই ধরে রাখছেন। সোমাকে সিনেমায় নিয়ে এসেছিলেন উত্তমকুমার। ছোট পার্শ্বচরিত্রেই 'পঙ্খীরাজ', 'কলঙ্কিনী কঙ্কাবতী' ইত্যাদি ছবিতে রূপসী সোমা নজর কাড়েন। সোমার অভিনয় ক্ষমতা একেবারেই ছিল না। কিন্তু তাঁকে ভাল রোলে পরিচালকরা ব্যবহারও করেননি। তবে অতীব সুন্দরী সোমা তেল, সাবান বা শাড়ির বিজ্ঞাপনের মডেল হিসেবে ভীষণ জনপ্রিয়তা পান। রূপের আগুন ছড়াবার ক্ষমতা থাকলেও অভিনয় জগতে কিছুই করতে পারলেন না সোমা। সুপ্রিয়া দেবী মেয়ের জন্য অনেক চেষ্টাই করেছিলেন, তবে সবই বৃথা যায়। বিয়ে, সম্পর্ক, প্রেম ভাঙা সন্তান সংসারের চাপে সোমার কেরিয়ার আর গড়া হল না। তবে তাঁকে সামনে যে দেখত সেই মুগ্ধ হত। সোমার গলার স্বর মা সুপ্রিয়া দেবীর মতোই ভারি।

অন্যদিকে উত্তমকুমারের প্রয়াণের পর মুনমুন চলচ্চিত্র জগতে আসেন। তাও মায়ের মতের বিরুদ্ধে গিয়ে। বিয়ে, দুই মেয়ে হয়ে যাবার পর মুনমুন নায়িকা হয়েই সিনেমায় পা রাখেন। শর্মিলা ঠাকুরের পর বাঙালি নায়িকা হিসেবে মুনমুন বিকিনি পরে ঝড় তুলেছেন বারবার। মুনমুন সেন মানেই তো এক সেনসেশন, তাঁর সৌন্দর্যের তুলনা তিনি নিজেই। তবে মুনমুন চিরকালই ভীষণ আন্তরিক।

মুনমুন সোমার এই বন্ধুত্ব কিন্তু শুরুর থেকে ছিল না। মধ্য যৌবনেও এতটা ছিল না। সুচিত্রা সেনের মৃত্যু আগেই হয়েছিল ২০১৪ সালে। ২০১৮ সালে সুপ্রিয়া দেবীর মৃত্যুর দিন ২৬ জানুয়ারি সোমার পাশে এসে দাঁড়ান মুনমুন সেন। সঙ্গে রাইমা সেন। মুনমুন যেন তখন সোমার বড়দি। রবীন্দ্রসদনে সুপ্রিয়া দেবীর মাথার শিয়রে মুনমুন সোমা দু'জনেই বসে থাকলেন। সেদিন থেকেই সোমার কাছের মানুষ হয়ে উঠলেন মুনমুন। অন্যদিকে রাইমা আর অনিতা দু'জনেই হয়ে উঠলেন কাছের বান্ধবী।
মুনমুন-সোমাও তাই আজকাল অবসরে কলকাতার আনাচকানাচে কাটাচ্ছেন অবসর যাপন, আগে যা খুব একটা ঘটেনি। এই দুই কন্যা সেসব জায়গাই বেছে নিচ্ছেন, যেখানে তাঁদের মায়েরা যেতেন। আজ সুচিত্রা সেন আর সুপ্রিয়া দেবী কেউই নেই। কিন্তু মায়েদের হাত ধরেই মেয়েরা গিয়েছিলেন ছোটবেলার রেস্টুরেন্টে। হারিয়ে ফেলা প্রিয় মানুষকে যেন খুঁজে পাওয়া যায় তাঁদের সঙ্গে সময় কাটানো সেইসব জায়গায় গেলে। ঠিক তাই করছেন মুনমুন-সোমা। এমন বন্ধুত্ব কিন্তু খুবই বিরল ইন্ডাস্ট্রির ইতিহাসে। দুই স্টারকিড দু'জনের বন্ধনে খুঁজে পাচ্ছেন তাঁদের মায়েদের।

সুপ্রিয়া দেবীর মেয়ে সোমার জন্মদিন উপলক্ষে উপস্থিত ছিলেন মুনমুন সেন ও মেয়ে রাইমাও। সকলে মিলে কেক কাটার পর একসঙ্গে ছবিও তোলেন। ছবির ফ্রেম সেট করে দিলেন মুনমুন নিজেই। সোমার তিন ছেলেমেয়ে বড় মেয়ে ও দুই ছেলে। ছোট ছেলে অভিনেতা শন বন্দ্যোপাধ্যায় সময় পেলেই পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতেই ভালোবাসেন। বিশেষ করে ভাগ্নের (অনিতার ছেলে) সঙ্গে শনের বন্ডিং ভীষণ। মাঝে মধ্যেই তাকে নিয়ে ছবি পোস্ট করতে দেখা যায় অভিনেতাকে। একাধিক মেগা সিরিয়ালে শনকে প্রধান চরিত্রে দেখা গিয়েছে। বাংলা সিনেমাতেও ডেবিউ করে ফেলেছেন শন। শিবপ্রসাদ-নন্দিতা রায়ের রক্তবীজ ২-তেও দেখা যাবে শনকে। একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অভিনয় করবেন তিনি। ছোটপর্দায় শনকে শেষ দেখা গিয়েছিল রোশনাই ধারাবাহিকে।
সুপ্রিয়া কন্যা আর সুচিত্রা কন্যা এখন জীবনের শেষ ইনিংস খেলছেন। তাই তাঁরা অতীতের বিদ্বেষ, গসিপ, বিতর্ক সরিয়ে নির্মল বন্ধুত্ব খুঁজে পেতে চাইছেন পারিবারিক আত্মিক বন্ধনে।
'রাতের সব তারাই আছে দিনের আলোর গভীরে।'