সময়টা ছয়ের দশকের শেষ। উত্তম হলেন ব্যোমকেশ আর বিজয়ের চরিত্রে শুভেন্দু। শুটিংয়ের মাঝেই হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন উত্তম। আচমকা শুরু হয় বমি, ঘাম, মাথা ঘোরা।
.png.webp)
শেষ আপডেট: 1 July 2025 21:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একসময় টলিউডে গুজব ছিল—উত্তমকুমার ও শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায় নাকি দাদা-ভাই! যদিও সেটা সত্যি নয়, কিন্তু পর্দার বাইরেও তাঁদের সম্পর্ক ছিল ঠিক দাদা-ভাইয়ের মতোই। তার জলজ্যান্ত প্রমাণ মিলেছিল সত্যজিৎ রায় পরিচালিত ১৯৬৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি‘চিড়িয়াখানা'র শুটিং ফ্লোরে।
সময়টা ছয়ের দশকের শেষ। উত্তম হলেন ব্যোমকেশ আর বিজয়ের চরিত্রে শুভেন্দু। শুটিংয়ের মাঝেই হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন উত্তম। আচমকা শুরু হয় বমি, ঘাম, মাথা ঘোরা। মহানায়ককে নিয়ে সকলেই যখন কার্যত আতান্তরে ঠিক তখনই অবতীর্ণ হন শুভেন্দু। না, অভিনেতা হিসেবে নয়, বরং তাঁর চিকিৎসক স্বত্বাই হয়ে ওঠে মহানয়কের মাসিহা।
সিনেমায় আসার আগে বাবার ইচ্ছায় কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ থেকে ডাক্তারি পাশ করেছিলেন শুভেন্দু। সেদিন শুটিং ফ্লোরেই প্রাথমিক চিকিৎসা করে উত্তমকে প্রায় মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনেন তিনি। প্রাথমিক ভাবে সুস্থ হওয়ার পর শুভেন্দুর পরামর্শে তৎক্ষণাৎ কলকাতায় নিয়ে আসা হয়েছিল উত্তমকুমারকে। প্রাণে বেঁচেছিলেন তিনি। শোনা যায়, শুভেন্দুর এই ঋণ ভোলেননি উত্তর। পরে আবেগে শুভেন্দুকে জড়িয়ে ধরে বলেছিলেন, “ভাগ্যিস তুই ছিলি… না হলে আজ বাঁচতাম না!”
আজও টলিউডের অন্দরমহলে ফেরে সেই গল্প—উত্তম-শুভেন্দুর বন্ধুত্ব, আস্থার, ভালবাসার এক অন্যধারায় আখ্যান।