
মাধুরী দীক্ষিত।
শেষ আপডেট: 18 January 2025 16:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক-দো-তিন...বললেই 'তেজাব' সিনেমার বিখ্যাত সেই গান এবং তার থেকেও অসাধারণ মাধুরী দীক্ষিতের নাচের কথা-সুর ও তালের বিভঙ্গ ভেসে ওঠে তামাম ভারতবাসীর মনে। একসময় অলকা যাজ্ঞিকের এই গানকে দেশের দ্বিতীয় জাতীয় সঙ্গীত বলে মজা করত লোকে। শোলে সিনেমার পর অনিল কাপুর-মাধুরী দীক্ষিত অভিনীত 'ভায়োলেন্ট লাভ স্টোরি' তেজাবের (অ্যাসিড) আবেদন এতটুকু মোছেনি। তার অন্যতম কারণ হল এই গানটি। যদিও নীতিন মুকেশের গাওয়া 'সো গয়া ইয়ে জাঁহা' গানটিও সুপারডুপার হিট হয়েছিল গীতিকার জাভেদ আখতারের কলমে এবং সুরকার লক্ষ্মীকান্ত প্যারেলালের সুর সংযোজনায়। কিন্তু নৃত্য পরিচালক সরোজ খানের কুশলী পরিকল্পনায় এক-দো-তিন গান ও নাচটি হিট হয়ে যুগোত্তীর্ণতা লাভ করলেও এর জন্ম অত্যন্ত হাস্যকরভাবে হয়েছিল।
এই গানের কথা নিয়ে জাভেদ আখতার নিজেই এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন যে, গানটির কথা লেখা হয়েছিল একটি সুরকে ধরে। যাকে বলিউডের দুনিয়ায় ডামি ওয়ার্ড বা গলা দিয়ে কিছু শব্দ দিয়ে সুরটিকে ধরিয়ে দেওয়া। সিনেমা জগতে এটা খুবই চালু পদ্ধতি। কখনও সিকোয়েন্স অনুযায়ী কথা আগে লেখা হয়, পরে তাতে সুর বসানো হয়। আবার কখনও সঙ্গীত পরিচালক গীতিকারকে সুরটির মুখড়া শুনিয়ে দেন, তা রেকর্ড করে নিয়ে গান লেখা হয়।
নাসরিন মুন্নি কবিরকে এক সাক্ষাৎকারে জাভেদ একবার বলেছিলেন, তিনি এই গানটি লিখেছিলেন কল্পনার শব্দে করা সুর থেকে। গানের সুর বোঝাতে সঙ্গীত পরিচালকরা অনেক সময় লা-লা-লা করে গেয়ে শোনান। লক্ষ্মীকান্ত এক্ষেত্রে জাভেদ আখতারকে এক-দো-তিন-চার-পাঁচ...গেয়ে তুড়ি মেরে সুর শোনাচ্ছিলেন, যা রেকর্ড করে নিচ্ছিলেন গীতিকার। পরে ক্যাসেট রেকর্ডার বাড়ি এনে বারবার শুনতে থাকেন জাভেদ। তিনি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, সুরটি শুনতে শুনতে আমার মনে বিদ্যুতের মতো খেলে যায় একটি লাইন। তেরা করু দিন গিন-গিন কে ইন্তেজার। আর একঝলকে এক-দো-তিনের সঙ্গে আমার গানের কথাগুলোয় এসে যায়।
প্রেমিকের জন্য অপেক্ষায় থাকা প্রেমিকা এক এক করে বলতে থাকে বাকি দিনগুলি সে কীভাবে কাটিয়েছে। প্রযোজক-পরিচালক এন চন্দ্রাও একবার বলেছিলেন, এটা গানের কথা ছিল না। কিন্তু, সুরের তাল বজায় রাখতে ডামি ওয়ার্ডগুলিকে গানে ব্যবহার করা হয়েছিল। চন্দ্রা আরও বলেছিলেন এই গানের সুর-কথা নিয়ে যখন দিনের পর দিন কেটে যাচ্ছে, কোনও সুরাহা মিলছে না। তখন আমি একদিন মারাঠি কোলি লোকগীতির একটি সুর শোনাই ওঁদের। কথাগুলি মনে না থাকায় ডিং ডং ডিং দিয়ে বোঝাচ্ছিলাম। আর সঙ্গে সঙ্গে লক্ষ্মীকান্ত হারমোনিয়াম নিয়ে বসে পড়েন এবং এক-দো-তিন করে সুর রচনা শুরু করেন।
পরিচালক আরও জানান, সিনেমার মোহিনী যে মঞ্চের একজন নৃত্যশিল্পী সেই মাধুরী দীক্ষিতকে সরোজ খান মহড়া শুরু করেন। প্রায় ১৬ দিন ধরে চার-পাঁচ ঘণ্টা করে মহড়া দেওয়ার পর শ্যুটিং শুরু হয়। তা চলে সকাল ৯টা থেকে পরদিন সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত। অর্থাৎ প্রায় ২৫ ঘণ্টা ধরে শ্যুট করা হয় নাচগানের দৃশ্য।