
শেষ আপডেট: 24 March 2023 14:22
আজ সকালে উঠেই খারাপ খবরটা পেলাম। শুনলাম যে প্রদীপদা (Pradeep Sarkar) মারা গিয়েছেন। ওঁকে কী বলে পরিচয় দেব! শুধু তো একজন চিত্র পরিচালক ছিলেন না উনি, পাশাপাশি এদেশের একজন প্রখ্যাত বিজ্ঞাপন নির্মাতা ছিলেন প্রদীপ সরকার। সবথেকে খারাপ লাগছে এই ভেবে যে, গত পরশুই দাদা আর বৌদির সঙ্গে আমার ফোনে অনেকক্ষণ কথা হয়েছে।
জাতীয় স্তরে আমার প্রথম বিজ্ঞাপনের কাজ প্রদীপদার হাত ধরেই। একটি বিখ্যাত আটা কোম্পানির বিজ্ঞাপনে ছিলাম আমি। এরপর উনি আমায় নিয়ে আরও বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপনে কাজ করেন। পরিচালক হিসাবে উনি কেমন, সেটা তো সিনেমাগুলো দেখলেই বোঝা যায়। কিন্তু সবথেকে বড় ব্যাপার হল, ওঁর মতো এত ভাল মানুষ আমি জীবনে খুব কমই দেখেছি। তরুণ মজুমদারের পর আমার দ্বিতীয় যদি কারও ঘর থাকে, সেটা প্রদীপদার ঘর।

কাজের সময় এত মজা করতেন, কল্পনা করা যায় না। নিখাদ বাংলা ভাষায় আড্ডা দিতেন, গল্প করতেন সেটে বসে। আমাকে প্রথমবারই দেখে বলেছিলেন, "তু কলকাতা মে ক্যায়া কর রহি হ্যায়!" (তুই কলকাতায় কী করছিস)। সে কথা শুনে আমি বলেছিলাম, "কলকাতাতেই এত প্রতিযোগিতা যে আমি এখনও চেষ্টা করে যাচ্ছি। এইসময় মুম্বইতে কীভাবে জায়গা করব!" শুনে দাদা বলেছিল, "সৌমিলী (Soumili Biswas), তুই কাজ করবি তো আমার সঙ্গে?" ওঁর মতো একজন বড় মাপের পরিচালক, সর্বোপরি মানুষের সঙ্গে কাজ কে না করতে চায়!
এসব কথাগুলো আজ ভীষণ মনে পড়ছে। আমাকে টুয়া (আমার ডাকনাম) বলে ডাকতেন। দাদা বলতেন, "সৌমিলী নামটা বড্ড বড়। তাই তোর ডাকনাম ধরেই ডাকব।" মিষ্টি খেতে প্রচণ্ড ভালবাসতেন। কলকাতায় আসার পর আমি নিজে গিয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে মিষ্টি খাইয়ে এসেছিলাম। গাড়ি খুব পছন্দ করতেন। মুম্বইয়ের অফিসে নানারকম গাড়ির মডেল সাজানো থাকত। আমি একটা ছোট্ট মডেল উপহার দিয়েছিলাম। একেবারে বাচ্চাদের মতো মন ছিল।

দাদা বলেছিলেন, ভবিষ্যতে আবার একসঙ্গে কাজ করব। আমিও সেই অপেক্ষায় ছিলাম। কিন্তু আজ এই খবরটা শোনার পর থেকে কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। ওঁকে নিয়ে যাই বলি না কেন, যাই লিখি না কেন, কমই বলা হবে। প্রদীপদার সঙ্গে বিজ্ঞাপন তো অনেকগুলো করলাম, কিন্তু ওঁর সিনেমায় কাজ করার স্বপ্নটা অপূর্ণই থেকে গেল।