শেষ আপডেট: 29 April 2020 10:15
রূপমের সেই সিডি বইমেলায় দেদার বিক্রি হয়েছে। মজার কথা হল, এই বছরের জানুয়ারি মাসে চলা সেই কলকাতা বইমেলার সময়েই নিজের খেয়ালে বইমেলার মধ্যেই কিছু দৃশ্যের শ্যুট তিনি করে রেখেছিলেন। সেটাই কাজে লেগে গেল এই ভিডিওয়। মিউজিক ভিডিও-র যে অংশে রূপমকে গাইতে দেখা যাচ্ছে, সেটা অবশ্য শ্যুট করা হয়েছে তাঁর নিজের বাড়িতেই। ভুবনেশ্বরে বসেই পুরো ভিডিও এডিট করেছেন অমর্ত্য।
সিডি প্রকাশের পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, ফিজিক্যাল কপি অর্থাৎ সিডি হিসেবে ছাড়া এই অ্যালবাম বিক্রি করা হবে না, তাহলে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং ইউটিউবে অ্যালবামের গানটি প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিলেন কেন রূপম?
শিল্পী বললেন, "আসলে করোনা এবং লকডাউনই সব গোলমাল করে দিল। সিডি হিসেবেই বইমেলার সময় থেকে বিক্রি হয়েছে এই অ্যালবাম। যাঁরা বইমেলা থেকে সিডি সংগ্রহ করতে পারেননি, আমার বন্ধুরাই দায়িত্ব নিয়ে তাঁদের সিডি পৌঁছে দিয়েছেন। কিন্তু করোনার কারণে সেটা আর হচ্ছে না। এদিকে সিডি চেয়েও চাপ আসছিল। কিন্তু তাই বলে তো এখন সিডি ডেলিভারি করানোর ঝুঁকি নেওয়া যায় না।"
রূপম বারবারই শ্রোতাদের মনে করিয়ে দিয়েছেন গান শোনার গুণগত মানের কথা। বুঝিয়ে বলেছেন, কেন এবং কীভাবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে গান শোনার বদলে সিডিতে শুনলে উন্নত গুণমানের শব্দের মাধ্যমে গান উপভোগ করা যায়।
সেকথা মনে করিয়ে দিয়েই তিনি বললেন, "অজস্র মানুষ কিন্তু সিডিতেই গানটা শুনেছেন। তাঁরা কতটা তৃপ্ত, সেটাও জানিয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। কাজেই এই অ্যালবামটা যে সিডিতেই শোনা উচিত, তার পক্ষে একটা জনমতও তৈরি হয়ে গেছে। আমি চেয়েছিলাম এই অ্যালবামটা শ্রোতারা গুরুত্ব দিয়ে শুনুন। সেই উদ্দেশ্য সফল হয়েছে।"
ডিজিটাল ফর্ম্যাটেও বাজিমাত করছে এই অ্যালবাম। ‘গানা’–র মতো জনপ্রিয় অ্যাপের শীর্ষ ট্রেন্ডিংয়ের ১ নম্বরে রয়েছে তাঁর ‘আমি যাই’। ৩,৪,৮, ১১, ১২, ১৩ এবং ১৫ নম্বরেও রয়েছে ‘আমি’-র বাকি গানগুলি।
সম্প্রতি প্রথম মৌলিক বাংলা গানের চ্যানেল হিসেবে একলক্ষ সাবসক্রাইবার অর্জন করেছে রূপমের ইউটিউব চ্যানেল। রহস্যটা কী?
রূপম বললেন, "আসল কথাটা হল ধারাবাহিকতা। এটা ধারাবাহিক ভাবে ভাল এবং আধুনিক মেজাজের গান লেখার স্বীকৃতি বলে আমি মনে করি। অনেকেই ইউটিউবে বা ফেসবুকে ভিউয়ার বাড়ানোর জন্য ডিজিটাল প্রোমোশন করেন। আমি সেটাও করি না।"
উদাহরণ দিতে গিয়ে রূপম বললেন, "১৯৯৫ সালে লেখা গান 'নীল রং ছিল ভীষণ প্রিয়'। ১৯৯৭ সালে 'কমলো মেঘেদের ওজন'-এর মতো গান লিখেছি আমি। এরপর থেকে অবিরত ভাল গান লেখার চেষ্টা করেছি। এই গানগুলো কিন্তু শুধু সাধারণ শ্রোতাদের দ্বারা সমাদৃতই নয়, সমালোচকদের দ্বারাও প্রশংসিত। যেদিন থেকে বাংলা মৌলিক গানের জন্য পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়েছে, আমি কিন্তু পুরস্কারের মধ্যেই আছি। এবং এই গানগুলো এতটাই জনপ্রিয় যে, যে কোনও শো-তে আমি চুপ করে গেলেও শ্রোতারাই পুরো গানটা গেয়ে দিতে পারেন।"
শিল্পীর কথায়, "২১ বছর বয়স থেকে আমার গান জনপ্রিয় হতে শুরু করেছে। এখন আমার বয়স ৪৬। গানের জনপ্রিয়তার এই ২৫ বছরের যাত্রাপথ পেরিয়েও আমি চূড়ান্ত হিট গান দিতে পারছি। ‘আমি’ অ্যালবামের আমি যাই, রেডিও জকি, আদমের সন্তানের মতো গান কিংবা আরও ভাল করে বলতে গেলে আমার তো মনে হয়, পুরো অ্যালবামটাই সুপারহিট। এই ধারাবাহিকতাটা বোধহয় আর কেউ দেখাতে পারেননি। এই ভাবেই ধারাবাহিক ভাবে ভাল গান তৈরি করে যাওয়ার ক্ষমতাটাই আমার চ্যানেল মৌলিক বাংলা গানের চ্যানেল হিসেবে জনপ্রিয়তম হওয়ার কারণ।"