প্রেম চলছিল তাঁদের আপন ছন্দে। এরপরই গল্পে আসে তৃতীয় ব্যক্তি। শর্মিলা ঠাকুর ছিলেন সিমির পরিচিত মহলেরই মানুষ, সহকর্মী-বন্ধু। কেউ তখনও জানত না, সময় পাল্টাতে চলেছে, পাল্টাতে চলেছে এই পরিচয়।

শেষ আপডেট: 9 January 2026 16:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সে এক সময়ের কথা। টিনসেল টাউনে তখন স্বর্ণযুগ। মুম্বইয়ের আকাশে তখন নতুন নতুন স্বপ্ন উড়ছে। উড়ছে সম্পর্কের গুঞ্জন। সিনেমার সেটে একদিকে টাইট ক্যামেরা অ্যাকশনের দাপট, অন্যদিকে তখন ক্রিকেট মাঠে দর্শকের উচ্ছ্বাস, এই দুই জগতের একে অপরের কাছাকাছি এসেছিলেন দুই সেলিব্রিটি। একজন রুপোলি পর্দার অভিজাত মুখ, সিমি গারেওয়াল। অন্যজন দেশের গর্ব, ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মনসুর আলি খান পতৌদি।
সিমি জানিয়েছিলেন, তাঁদের সম্পর্কটা মোটেও পর্দার আড়ালে লুকোনো ছিল না। সামাজিক পরিচয় থেকেই বন্ধুত্ব, আর সেখান থেকে ধীরে ধীরে প্রেম। পাতৌদি তখন ক্রিকেটের মধ্যগগনে। তবু সময় বের করে তিনি যেতেন সিমির শুটিংয়ে। সেটের মানুষজন সেই উপস্থিতিতে খুশিই হতেন। পাতৌদি ছিলেন সহজ মানুষ—হাসিখুশি, নির্ভার, খুব স্বাভাবিক। সেই মানুষটিকেই মন দিয়েছিলেন সিমি।
প্রেম চলছিল তাঁদের আপন ছন্দে। এরপরই গল্পে আসে তৃতীয় ব্যক্তি। শর্মিলা ঠাকুর ছিলেন সিমির পরিচিত মহলেরই মানুষ, সহকর্মী-বন্ধু। কেউ তখনও জানত না, সময় পাল্টাতে চলেছে, পাল্টাতে চলেছে এই পরিচয়।
এরপর একদিন গল্প নয়া মোড় নেয়। পতৌদির জীবনে আসে নতুন প্রেম। শর্মিলা ঠাকুরের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ক্রমে গভীর হয়। আর সেই গভীরতার সামনে এসে দাঁড়ায় সিমির সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের ভবিষ্যৎ।
পতৌদি কোনও সত্য়িই সিমির থেকে লুকোননি। তিনি নিজেই সিমির কাছে গিয়ে বলেন, তিনি অন্য কাউকে ভালোবেসে ফেলেছেন। মুহূর্তটা সহজ ছিল না। তবু সিমি কোনও অভিযোগ রাখেননি। কোনও নাটকীয়তা নয়, কোনও ক্ষোভ নয়, নীরব সম্মানেই শেষ হয়েছিল সেই সম্পর্ক। কথিত আছে, বিদায়ের সময় পর্যন্ত সিমির আচরণে ছিল শান্ত-সৌজন্যমূলক।
এর কিছু দিনের মধ্যেই, ১৯৬৮ সালে, শর্মিলা ঠাকুর ও মনসুর আলি খান পতৌদি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। সময়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে, ধর্মের বিভাজন অতিক্রম করে শুরু হয় তাঁদের জীবনসঙ্গী হওয়ার গল্প। সেই গল্প বহু বছর ধরে পরিণত হয়েছে পরিবারে, সন্তানদের উপস্থিতিতে পূর্ণতা পেয়েছে সংসার, এনেছে সাইফ, সাবা ও সোহা।
পতৌদির প্রয়াণ ঘটে ২০১১ সালে। কিন্তু তাঁর জীবনের এই অধ্যায়গুলো রয়ে গিয়েছে সিনেপাড়ার ইতিহাসে। কিছুটা প্রেম, কিছুটা ত্যাগ, আর অনেকটা মর্যাদাপূর্ণ স্মৃতি হয়ে।
বছর পরে, সিমি গারেওয়াল তাঁর জনপ্রিয় টক শোয়ে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন পতৌদি ও শর্মিলাকে। ব্যক্তিগত অতীত সেখানে কোনও ছায়া ফেলেনি। কথোপকথনে ছিল উষ্ণতা, চোখে ছিল সম্মান। কিছু গল্প থাকে, যেগুলো শেষ হলেও কলুষিত হয় না। সিমি গারেওয়াল আর মনসুর আলি খান পতৌদির সম্পর্ক ঠিক তেমনই এক অধ্যায়—যেখানে ভালোবাসা ছিল, কিন্তু তার থেকেও বড় ছিল পরিণত মন আর নীরব সম্মান।