হুল দিবস — সাঁওতাল বিদ্রোহের সেই রক্তাক্ত অধ্যায়, ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে আদিবাসীদের প্রথম সঙ্ঘবদ্ধ আন্দোলন — যার নায়ক সিধো ও কানহু মুর্মু ।

প্রকাশ্যে প্রথম পোস্টার
শেষ আপডেট: 30 June 2025 12:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হুল দিবস — সাঁওতাল বিদ্রোহের সেই রক্তাক্ত অধ্যায়, ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে আদিবাসীদের প্রথম সঙ্ঘবদ্ধ আন্দোলন — যার নায়ক সিধো ও কানহু মুর্মু ।
রাজনগরের সেই পুরনো রাজবাড়ির কাছেই আজও মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে শতাব্দীপ্রাচীন গাব গাছটি। শোনা যায়, এই গাছেই ব্রিটিশরা ফাঁসি দিয়েছিল আদিবাসী বিদ্রোহের আরেক নেতা মঙ্গলা মাঝিকে — কারণ, তিনি তীর মেরে হত্যা করেছিলেন এক ব্রিটিশ অফিসারকে। তার পরেই ব্রিটিশ বাহিনী উন্মত্ত হয়ে চালায় গণহত্যা। ইতিহাস বলে, কুশকর্ণিকা নদীর জলও লাল হয়ে উঠেছিল সেই দিন আদিবাসী রক্তে।
এই সব ঘটনা ১৮৫৫-৫৬ সালের। ব্রিটিশ বিরোধী সেই অভূতপূর্ব বিদ্রোহ — সাঁওতাল হুল — ছিল ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে ভারতের মাটিতে প্রথম বৃহৎ সংগঠিত প্রতিরোধ। সিধো-কানহু ছিলেন সেই বিদ্রোহের দুই প্রধান পুরুষ। কিন্তু ইতিহাসের পাতায় তাঁদের স্থান অতি সামান্য। পাঠ্যবইয়ে নেই তাঁদের যথাযোগ্য মর্যাদা, নেই গণস্মৃতিতে স্থান।
স্বাধীনতার ৭৮ বছর পরেও তাঁদের প্রাপ্তি বলতে কয়েকটি মূর্তি আর একটি রাস্তার নাম — ‘সিধো কানহু ডহর’। তবে, অবশেষে ভিন্নধারার বাংলা সিনেমা তাঁদের নিয়ে কথা বলছে।
পরিচালক আবীর রায় এবং প্রযোজক অনুপল সাউ নিয়ে এসেছেন নতুন ছবি ‘হুল’, যা ফিরিয়ে আনছে সিধো ও কানহুর সেই বিস্মৃত বীরগাথা। বিদ্রোহের দুই নেতার চরিত্রে অভিনয় করছেন দেবাশিস মণ্ডল ও কিঞ্জল নন্দ। ছবিতে আরও আছেন চন্দন সেন, বিশ্বরূপ বিশ্বাস, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, উমা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শ্রীতমা দে। গানের দৃশ্যে দেখা যাবে দীপান্বিতা রক্ষিতকে।

ছবির পোস্টার
‘১৭০ বছর কেটে গেল, তবুও কেউ তাঁদের কথা বলেন না — এই ছবি সেই নীরবতাকে ভাঙবে,’ বলছেন পরিচালক আবীর। তাঁর মতে, ‘এখনও ঝাড়গ্রামে সাঁওতাল সম্প্রদায়ের বড় অংশের বাস। তাঁদের জীবনে কিছুটা উন্নতি হয়েছে ঠিকই — এসেছে বিদ্যুৎ, সামাজিক মাধ্যমেও সক্রিয় হচ্ছেন তাঁরা — কিন্তু সার্বিক মানের উন্নয়ন এখনও প্রয়োজন।’
এই কারণে ঝাড়খণ্ড ও ঝাড়গ্রামে হয়েছে ছবির বড় অংশের শ্যুটিং। বাকি অংশ শ্যুট করা হচ্ছে কলকাতায়। সদ্য প্রকাশ্যে এসেছে ছবির প্রথম পোস্টার। রহস্য-রোমাঞ্চ বা ভৌতিক কাহিনি যখন সিনেমায় আধিপত্য বিস্তার করছে, ঠিক তখনই এই ঐতিহাসিক ছবি দর্শকদের ফিরিয়ে নিয়ে যাবে ১৮৫৫ সালের রক্তাক্ত হুল-এ, স্বাধীনতার অনামা সূর্যসন্তানদের গল্পে।
তাঁদের স্মৃতিকে স্মরণ করে, তাঁদের লড়াইকে সম্মান জানিয়ে, সেলুলয়েডে ফিরছেন সিধো ও কানহু — এই ‘হুল’ কেবল বিদ্রোহ নয়, এক জাতির অস্তিত্বের রুদ্ধস্বর চিৎকার।