স্টেজের আলো, হাজার মানুষের হাততালি আর টানা কনসার্টের ব্যস্ততা থেকে খানিকটা দূরে — বড়দিনে একেবারে অন্য শ্রেয়া ঘোষাল।

শেষ আপডেট: 26 December 2025 16:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্টেজের আলো, হাজার মানুষের হাততালি আর টানা কনসার্টের ব্যস্ততা থেকে খানিকটা দূরে — বড়দিনে একেবারে অন্য শ্রেয়া ঘোষাল। এবার তাঁকে দেখা গেল বরফে ঢাকা পাহাড়ের কোলে, স্বামী শিলাদিত্য আর ছোট্ট ছেলে দেবয়ানকে নিয়ে, একরাশ নিঃশব্দ আর উষ্ণতার মধ্যে।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় কয়েক ঝলক ভাগ করে নিয়েছেন শ্রেয়া। চারদিকে সাদা বরফের চাদর, মাঝখানে তাঁর হাসিমুখ সেলফি। কোথাও হালকা স্নোফলের ভিডিও, পিছনে দেখা যাচ্ছে শিলাদিত্য আর দেবয়ান বরফ ছুঁয়ে দেখছে, খেলছে, মেতে উঠছে শীতের আনন্দে। এক ফ্রেমে তিনজন একসঙ্গে, আরেক ফ্রেমে দেবয়ানের সঙ্গে মায়ের আদুরে সেলফি, আবার কোথাও স্বামীকে জড়িয়ে থাকা একান্ত মুহূর্ত — ছবিগুলো যেন শব্দহীন এক ছোট্ট পারিবারিক অ্যালবাম।
ছবির ক্যাপশনেই জানালেন গন্তব্য — “আল্পস থেকে সবাইকে বড়দিনের শুভেচ্ছা।” দূরের পাহাড় থেকে পাঠানো এই শুভেচ্ছায় ছিল শান্তি, ছিল ছুটি, ছিল নিজের মানুষের সঙ্গে কাটানো সময়ের সুখ।
শ্রেয়ার জীবন যদিও গানে ভরা, ভিড়ে ভরা, আলোয় ভরা — তবু তাঁর ব্যক্তিগত গল্পটা বরাবরই নরম আর সহজ। ছোটবেলার বন্ধু শিলাদিত্যর সঙ্গে প্রেম, তারপর বিয়ে — কোনও চটকদারতা নয়, শুধু ধীরে ধীরে একসঙ্গে বড় হওয়া। তাঁদের সেই প্রস্তাবের গল্প আজও শ্রেয়া মজা করে বলেন — বন্ধুর বিয়েতে গোয়ায় গিয়ে ‘কাঠবিড়ালি’ খুঁজতে ব্যস্ত ছিলেন তিনি, আর ঠিক তখনই সামনে এসে গিয়েছিল আংটি।
২০২১ সালে তাঁদের জীবনে আসে দেবয়ান। চার বছরের এই খুদে এখন মায়ের ছবির নিয়মিত সঙ্গী — কখনও মায়ের কোলে, কখনও বরফের উপর শুয়ে হাত-পা ছুড়ে খেলার আনন্দে।
এই বড়দিনে শ্রেয়া যেন আমাদের মনে করিয়ে দিলেন — সব আলো স্টেজে নয়, সব সুর মাইক্রোফোনে নয়। কিছু সুর থাকে নিঃশব্দে, নিজের মানুষের পাশে বসে, বরফে ঢাকা পাহাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে। আর হয়তো সেই সুরটাই সবচেয়ে গভীর, সবচেয়ে নিজের।