দীনেশ দাসের কথায়, অমিতাভ ছিলেন অত্যন্ত ভদ্র ও মিষ্টি স্বভাবের মানুষ। শুটিং চলাকালীন তাঁকে বম্বে যেতে বলেছিলেন, সাহায্যের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন। কিন্তু চাকরি ও পরিবারের দায়িত্বে তা সম্ভব হয়নি তাঁর পক্ষে।

অসমিয়া অভিনেতা দীনেশ দাসের সঙ্গে লড়াইয়ের দৃশ্যে বচ্চন।
শেষ আপডেট: 14 August 2025 13:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ববি (Bobby) ছবি মুক্তি পেয়েছিল ১৯৭৩ সালে। সত্তরের দশকের গোড়ায় তার চেয়ে বড় ব্লকবাস্টার কোনও ছবি ছিল না। কিন্তু ববির রেকর্ড এভাবে কেউ তছনছ করে দিতে পারে কে জানত! বলিউডের ইতিহাসে মাইলফলক ‘শোলে’ (Sholay) মুক্তি পেয়েছিল মাত্র ২ বছরের মধ্যেই, ১৯৭৫ সালে। তবে এ প্রতিবেদন শোলের ৫০ (sholay 50th anniversary) বছর নিয়ে নয়। বরং এমন একটা ছবি নিয়ে যার কথা অনেকেই জানেন না।
শোলে মুক্তির বছরেই অমিতাভ বচ্চন (Amitabh Bachchan Assamese film) অভিনয় করেছিলেন এক অসমিয়া ছবিতে, যার নাম ‘সন্টি’। চার্লস ডিকেন্সের ক্লাসিক অলিভার টুইস্ট অবলম্বনে অজয় মিত্র পরিচালিত এই ছবিটি আজও পর্দায় আসেনি। স্মৃতি হয়ে আছে শুধু একটি সাদা-কালো ছবি, যেখানে দেখা যাচ্ছে অসমিয়া অভিনেতা দীনেশ দাসের সঙ্গে লড়াইয়ের দৃশ্যে বচ্চনকে।
দীনেশ দাস স্মরণ করিয়ে দেন, কলকাতার টেকনিশিয়ান স্টুডিওর দ্বিতীয় তলায় অসমের ঐতিহ্যবাহী বাড়ির সেট তৈরি করে সেই মারপিটের শুটিং হয়েছিল। ছুরির লড়াইয়ের জন্য আগে থেকেই তাঁর প্রস্তুতি ছিল। কারণ তার আগেই ‘মানব অরু দানব’ ছবির জন্য সেই কৌশল শিখেছিলেন তিনি। সন্টি ছবিতে দীনেশ খলনায়ক ‘ফটিকচাঁদ’-এর চরিত্রে অভিনয় করছিলেন, যা অলিভার টুইস্ট-এর ‘ফেগিন’-এর অনুকরণে। তরুণ অভিনেতা মৃদুল ছিলেন সন্টি চরিত্রে, আর সন্টির বাবার চরিত্রে ছিলেন অমিতাভ।
ছবিটি একসঙ্গে অসমিয়া, ওড়িয়া ও বাংলা ভাষায় তৈরি হচ্ছিল। বাংলায় দীনেশ দাসের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন প্রখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব শম্ভু মিত্র।
অসমের প্রবীণ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সিবানু বোরাহে জানিয়েছেন, প্রযোজক টিটো ও টনি জুনেজার মাধ্যমে ‘সন্টি’ ছবিতে আসেন বচ্চন। ৭০-এর দশকে ‘দো অঞ্জানে’, ‘মিস্টার নটবরলাল’, ‘রাম বলরাম’-এর মতো একাধিক হিট ছবির প্রযোজক ছিলেন তাঁরা। কলকাতায় জুনেজাদের সঙ্গে দেখা করতেই তাঁকে অনুরোধ করা হয় অসমিয়া ছবিতে অভিনয়ের জন্য।
দীনেশ দাসের কথায়, অমিতাভ ছিলেন অত্যন্ত ভদ্র ও মিষ্টি স্বভাবের মানুষ। শুটিং চলাকালীন তাঁকে বম্বে যেতে বলেছিলেন, সাহায্যের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন। কিন্তু চাকরি ও পরিবারের দায়িত্বে তা সম্ভব হয়নি তাঁর পক্ষে।
দীনেশ দাসের আফসোস, ছবিটি মুক্তি না পাওয়ায় অসমের দর্শক অমিতাভকে অসমিয়া ভাষায় শোনার সুযোগ হারিয়ে ফেলেন। খ্যাতনামা সমালোচক ও চলচ্চিত্রকার উৎপল বরপুজারি মনে করেন, শোলে-র সাফল্যের পর বচ্চনের উপস্থিতি অসমিয়া সিনেমায় বিরাট ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারত, যেমন হয়েছিল ১৯৮১-র বাংলা ছবি অনুসন্ধান-এর ক্ষেত্রে।
অতীতেও হিন্দি সিনেমার নামী অভিনেতারা অসমিয়া ছবিতে কাজ করেছেন—যেমন ভূপেন হাজারিকার ইরা বতর সুর-এ বলরাজ সাহনি। পরবর্তী সময়ে জাহ্নু বরুয়ার অপরূপা ও তার হিন্দি সংস্করণ আপেক্ষা-য় দেখা গিয়েছিল মুম্বইয়ের পরিচিত মুখদের। সাম্প্রতিককালে শক্তি কাপুর, যশপাল শর্মাদেরও দেখা গেছে অসমিয়া ছবিতে।
তবে অভিনেতা-পরিচালক কেনি বসুমতরীর মতে, বড় তারকা নিলেই ছবির সাফল্য আসবে বলা যায় না। তাঁর কথায়, প্রথমে কৌতূহল তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত ছবির সাফল্য নির্ভর করে তার মানের উপরই।