6.png)
কে এই অভিনেত্রী?
শেষ আপডেট: 1 May 2025 19:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৯৬০-এর দশকের শেষভাগ ও ৭০-এর দশকের শুরুতে, বলিউডে যখন মধুবালা, ব্যজন্তীমালা ও ওয়াহিদা রেহমানের মতো অভিজ্ঞ অভিনেত্রীরা ধীরে ধীরে পেছনে সরে যাচ্ছেন, তখন নতুন প্রজন্মের অভিনেত্রীদের মধ্যে শুরু হয় শীর্ষস্থান দখলের লড়াই। হেমা মালিনী ও শর্মিলা ঠাকুরের মতো তারকারা সেই লড়াইয়ে স্বাভাবিকভাবেই এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু সেই সময়েই এক অভিনেত্রী, যাঁর শুরু ‘স্টান্ট হিরোইন’ হিসেবে, তাঁদের ছাড়িয়ে যান। তিনি মুমতাজ। তবু, সাফল্যের শিখরে পৌঁছেই হঠাৎ চলচ্চিত্র জগৎকে বিদায় জানান তিনি।
কিশোরী বয়সেই সিনেমা জগতে পা রেখেছিলেন মুমতাজ। ‘স্ত্রী’ (১৯৬১) ও ‘সেহরা’ (১৯৬৩)-তে ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয়ের পর মূলত দারা সিংয়ের বিপরীতে স্টান্টনির্ভর ‘বি-গ্রেড’ ছবিতে কাজ করতে থাকেন। ফলে তাঁর কেরিয়ার কিছুটা থমকে যায়। কিন্তু ১৯৬৭-৬৮ সালে ‘রাম অউর শ্যাম’, ‘মেরে হামদম মেরে দোস্ত’ এবং ‘ব্রহ্মচারী’-র সাফল্যের পর সবটাই বেশ বদলাতে থাকে। অল্প কিছু বছরের মধ্যেই মুমতাজ বলিউডের শীর্ষ অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠা পান, বিশেষ করে রাজেশ খান্না ও জিতেন্দ্রর সঙ্গে তাঁর জুটি দর্শকের প্রিয় হয়ে ওঠে।
১৯৭৪ সালে ব্যবসায়ী ময়ূর মাধবানিকে বিয়ে করেন মুমতাজ। এবং ঠিক তখনই সিদ্ধান্ত নেন সিনেমা জগৎ ছাড়ার। সাংবাদিক বিকি লালওয়ানিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মুমতাজ বলেন, “আমার বিয়ের সময় মাধবানি পরিবার জানিয়ে দেয় যে আমি আর কাজ করতে পারব না। আমি তখন ভারতের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত অভিনেত্রী ছিলাম—কে আর ৭.৫ লক্ষ পারিশ্রমিক নিতেন? তবু, যখন ওরা বলল আমি আর কাজ করতে পারব না, আমি ছেড়ে দিলাম।”
সেই সময়ে তিনি হেমা মালিনী, রেখা, শর্মিলা ঠাকুর ও জয়া ভাদুরীর মতো সমসাময়িক অভিনেত্রীদের তুলনায়ও বেশি পারিশ্রমিক পেতেন। তবু পরিবারই তাঁকে বুঝিয়ে রাজি করায়—“আমার বাবা-মা আমায় বলেছিলেন, ‘দেখো মুমতাজ, সিনেমা জগত এমনই যে আজ না হোক কাল, ৪০-৫০ বছর বয়সে তোমায় এক ধরনের চরিত্রই দেওয়া হবে। এখন যখন ভাল পরিবারে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছো, নাও। আমার পরিবার কোনওদিন স্বার্থপর ছিল না, টাকা আনার জন্য চাপ দেয়নি। আমার মা ছিলেন ইরানের খুব রক্ষণশীল মানুষ। আমি আমার পরিবারকে শ্রদ্ধা করি—তারা কোটি টাকা আয় করা একটি মেয়েকে এমনটা বলতে পেরেছিল।”
বিয়ের আগেই স্বাক্ষর করা কিছু সিনেমার কাজ তিনি শেষ করেন। ‘প্রেম কাহানি’ ও ‘নাগিন’-এর মতো সাফল্য তাঁকে আরও জনপ্রিয়তা এনে দেয়। তবু ‘নাগিন’-এর পর চলচ্চিত্র জগৎ থেকে বিদায় নেন। তখন তাঁর বয়স মাত্র ২৮। দীর্ঘ বিরতির পর ১৯৯০ সালে ‘আঁধিয়ান’ ছবি দিয়ে ফিরতে চেয়েছিলেন তিনি। ছবিতে তাঁর সঙ্গে ছিলেন শত্রুঘ্ন সিনহা, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় ও মধুশ্রী। কিন্তু ছবিটি বক্স অফিসে সফল হয়নি। এরপর আর কখনও সিনেমায় ফেরেননি মুমতাজ।