একটি সোশাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে নতুন করে আলোচনায় টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির অস্বস্তিকর এক অধ্যায়। লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের ছেলে অর্ক গঙ্গোপাধ্যায় সম্প্রতি ফেসবুকে কয়েক বছর আগের এক ঘটনার কথা তুলে ধরেছেন, যেখানে একটি জনপ্রিয় ধারাবাহিকের সেটে এক শিশুশিল্পী যৌন হেনস্তার শিকার হয়েছিল বলে অভিযোগ।

অর্ক
শেষ আপডেট: 2 February 2026 12:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একটি সোশাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে নতুন করে আলোচনায় টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির অস্বস্তিকর এক অধ্যায়। লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের ছেলে অর্ক গঙ্গোপাধ্যায় (Arka ganguly)সম্প্রতি ফেসবুকে কয়েক বছর আগের এক ঘটনার কথা তুলে ধরেছেন, যেখানে একটি জনপ্রিয় ধারাবাহিকের সেটে এক শিশুশিল্পী যৌন হেনস্তার শিকার হয়েছিল বলে অভিযোগ।
অর্ক তাঁর পোস্টে লেখেন, ওই ঘটনাটি ঘটেছিল একটি নামী প্রযোজনা সংস্থার ধারাবাহিকের মেকআপ রুমে। অভিযুক্ত ব্যক্তি তখন একজন অভিনেতা ছিলেন, বর্তমানে তিনি একজন পরিচিত ভাইরাল ব্লগার। অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি অনেকেই জানতে পারেন, যার মধ্যে শিশুশিল্পীর মা-ও ছিলেন। অর্কের দাবি অনুযায়ী, অভিযুক্ত সকলের সামনে ক্ষমা চান এবং তারপর ধীরে ধীরে বিষয়টি চাপা পড়ে যায়।
পোস্টে অর্ক সমাজের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, আমরা এমন এক বাস্তবতায় অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছি যেখানে দুর্ব্যবহার বা যৌন হেনস্তার মতো গুরুতর অভিযোগও স্বাভাবিক করে নেওয়া হয়। টেলিভিশন বা সিনেমার সেটও এর ব্যতিক্রম নয়। তিনি আরও লেখেন, শুধু অভিযুক্ত নয়, সমাজকেও দায় নিতে হবে, কারণ এই নীরবতাই অপরাধীদের আবার অপরাধ করার সুযোগ দেয়। অপরাধের ধরন বদলালেও অপরাধীর মানসিকতা অনেক সময় একই থাকে বলে তাঁর মন্তব্য।

এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সোশাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে জোর চর্চা। অনেকেই মনে করছেন, অর্কের ইঙ্গিত বিতর্কিত ইনফ্লুয়েন্সার সায়ক চক্রবর্তীর (sayak chakraborty)দিকেই। সম্প্রতি গোমাংস বিতর্ককে কেন্দ্র করে সায়ককে নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় তীব্র সমালোচনা চলছে। পার্ক স্ট্রিটের এক রেস্তরাঁর ঘটনায় বেয়ারার ধর্ম পরিচয় উল্লেখ করে মন্তব্য করার অভিযোগে তাঁকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়েছে। যদিও ওই রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষ পরে বিবৃতি দিয়ে ভুল স্বীকার করেছে এবং সংশ্লিষ্ট এফআইআরও প্রত্যাহার করা হয়েছে।
তবে এই জল্পনার মাঝেও একটি বিষয় স্পষ্ট—অর্কের পোস্ট কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে কাঠগড়ায় তোলার চেয়ে বড় একটি প্রশ্ন সামনে এনেছে। নাম না বলেও তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, বিনোদন জগতে ঘটে যাওয়া এমন অভিযোগ কত সহজেই সময়ের সঙ্গে আড়ালে চলে যায়। আর সেই ভুলে যাওয়ার প্রবণতাই বারবার নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়। অর্কের লেখার শেষে তাই কোনও ব্যক্তির পরিচয় নয়, আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে একটি পুরনো কিন্তু অস্বস্তিকর সত্য—দায় এড়ানোর অভ্যাস যতদিন থাকবে, প্রশ্নও ততদিন ফিরে ফিরে আসবে।